ঢাকা, শনিবার 18 November 2017, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২৮ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভাড়া বেশি হওয়ায় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’র অর্ধেক আসনই ফাঁকা ছিল

খুলনা অফিস : ভারত-বাংলাদেশের মৈত্রী বন্ধন আরও দৃঢ় করতে দীর্ঘ ৫২ বছর পর গত বৃহস্পতিবার থেকে খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ যাত্রা শুরু করেছে। তবে টিকিটের মূল্য বেশি থাকায় প্রথম যাত্রায় যাত্রীদের তেমন সাড়া পড়েনি। প্রায় অর্ধেক আসন শূন্য নিয়ে খুলনা থেকে কলকাতার পৌঁছায় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’। আর কলকাতা থেকে ট্রেনটি মাত্র ৫৩ জন যাত্রী নিয়ে খুলনায় এসেছিল।
সরেজমিন ট্রেন ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় রেক দ্বারা পরিচালিত বন্ধন এক্সপ্রেসে মোট ১০টি বগি রয়েছে। পুরো ট্রেনটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশী ট্রেনের চাইতে অনেক উন্নত এসব বগি বা কোচগুলো। সুন্দর ছিমছাম পরিবেশের কারণে ট্রেনে চড়ে খুশি যাত্রীরা। তবে বেনাপোল স্টেশনে ইমিগ্রেশনের জন্য এক ঘণ্টা ২৩ মিনিট অপেক্ষা ছিলো বিব্রতকর। তারপরও উচ্ছ্বাসের কমতি ছিলো না কারও।
ভারতের বিভিন্ন রুটে চলাচল করা যাত্রীরা জানিয়েছেন, খুলনা-কলকাতা রুটের রেলপথের দূরত্ব ১৭৫ কিলোমিটার। অথচ ভারতের একই দূরত্বে ভাড়া প্রায় অর্ধেক।
ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার জন্য কলকাতা থেকে খুলনায় এসেছেন মামুন ও তার তিন বন্ধু। তারা বলেন, প্রথম যাত্রা বিধায় ট্রেনে চড়ে খুলনায় এলাম। তবে ভাড়া অনেক বেশি। বাসে বা বিকল্প ব্যবস্থায় গেলে এর অর্ধেকের চেয়ে কম ব্যয় হয়। পরবর্তীতে বন্ধনে করে যাওয়া হবে কিনা জানি না। তারা ভাড়া কমানোর দাবি জানান। কলকাতা থেকে বন্ধনে চড়ে আসা তামিম বলেন, ট্রেনে এসে খুব ভালো লাগছে। তবে ভারতীয় কাস্টমস-ইমিগ্রেশনে একটু বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। কর্মকর্তাদের করার কথা থাকলেও ফরম পূরণসহ নানা কাজ আমাদের নিজেদের করতে হয়েছে।   
খুলনা রেল স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান টিকিট বুকিং সহকারী মো. মেহেদী হাসান  সোহাগ বলেন, যাত্রীদের অগ্রিম টিকিটসহ তিন শতাধিক টিকিট বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার ২৫৩ জন টিকিটধারী যাত্রী খুলনা থেকে কলকাতার যায়। তিনি বলেন, এক মাস আগে ভারতগমেনুচ্ছ যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। টিকিট গ্রহণকালে যাত্রীদেরকে ভারত গমনের ভিসা সম্বলিত পাসর্পোট দেখাতে হবে।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মো. খায়রুল আলম বলেন, যাত্রী বেশি হলে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে সপ্তাহে একাধিক দিন ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। আর ভ্যাট ও ট্রাভেল ট্যাক্স যোগ করার কারণে ভাড়া বেশি মনে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রুটগুলোয় ট্রেনের ভাড়া এমনই। খুলনা রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আগে খুলনা ও কলকাতার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করতো। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই রেল যোগাযোগ। চিকিৎসা, ভ্রমণ, কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক কাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে খুলনা ও আশপাশের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন কলকাতা যাতায়াত করেন। সরাসরি ট্রেন চালুর ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেক কমবে।
বন্ধন ট্রেনের ইঞ্জিনিয়ার অমরজিৎ সিংহ বলেন, ‘এই মৈত্রী ট্রেনের একজন স্টাফ হতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। খুলনার মানুষের উৎফুল্লতা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার জানান, ৫২ বছর পর কলকাতা থেকে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে বন্ধনে জড়িয়ে গেল খুলনা ও কলকাতা। আবার সেই পথে ফিরে গেল। এ যাত্রায় খুলনা থেকে ২৫৩ যাত্রী বন্ধনে চড়ে কলকাতা যাচ্ছে। 
বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, খুলনা থেকে বেনাপোলে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ যাত্রী নিয়ে এসেছে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে। কাস্টমস-ইমিগ্রেশন সেরে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বিকেল ৫টায়। আর ভারতের কাস্টমস-ইমিগ্রেশন হয়েছে কলকাতা স্টেশনে। তিনি বলেন, সপ্তাহে প্রতি বৃহস্পতিবার একই সময়ে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল করবে।     
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৯ নবেম্বর খুলনা-কলকাতা রুটে ট্রায়াল হিসেবে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালানো হয়েছিল। ওই দিন কলকাতা রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ছাড়া সাধারণ মানুষ যাত্রী হতে পারেনি। গত ৯ নবেম্বর ভিডিও কনফারেন্স’র মাধ্যমে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি খুলনা-বেনাপোল- কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ এর উদ্বোধন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ