ঢাকা, সোমবার 20 November 2017, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ৩০ সফর ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু

গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়েছে পিএসসি ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা -সংগ্রাম

# প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১,৪৫,৩৮৩ জন
স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলো ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮৩ জন। এর মধ্যে প্রাথমিকে ১লাখ ৬ হাজার ৪৭১ জন ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৩৮ হাজার ৯১২ জন। এ দিকে পরীক্ষার হল পরিদর্শন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী অনুপস্থিত ১লাখ ৬ হাজার ৪৭১ জনের মধ্যে রংপুর বিভাগে ১৪ হাজার ৯৯১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯ হাজার ৭২০ জন, খুলনা বিভাগে ৪ হাজার ৬২জন, ঢাকা বিভাগে ৪০ হাজার ৪৪৬জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ হাজার ৬৫৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ হাজার ১৮৭ জন, সিলেট বিভাগে ১০ হাজার ৩৩৫জন এবং দেশের বাইরে ৭৫জন।
এ দিকে ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৩৮ হাজার ৯১২ জনের মধ্যে রংপুর বিভাগে ৫ হাজার ৩৩৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ হাজার ৫০৯ জন, খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ৬৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে ৯ হাজার ৮৮২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯ হাজার ৩৫৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৪ হাজার ১৯৮ জন, সিলেট বিভাগে ১ হাজার ৯৫৮ জন।
এ বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ২৮ লাখ চার হাজার ৫০৯ এবং ইবতেদায়িতে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন। দেশের ভেতরে সাত হাজার ২৬৭টি এবং দেশের বাইরে ১২টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষার্থীরা অংশ নেবে। ৬টি বিষয়ে প্রতিটিতে ১০০ করে মোট ৬০০ নম্বরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ১২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৮৫ জন এবং ছাত্রী ১৫ লাখ চার হাজার ৫২৪ জন। এবার ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রের চেয়ে দুই লাখ চার হাজার ৫৩৯ জন বেশি। এছাড়া, ইবতেদায়ির পরীক্ষার্থীরদের মধ্যে ছাত্র এক লাখ ৫৩ হাজার ১৫২ এবং ছাত্রী এক লাখ ৩৮ হাজার ৪১৪ জন। এ পরীক্ষাতেও পরীক্ষার্থী কমেছে আট হাজার ১৪৯ জন।
এ দিকে গতকাল রোববার রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস গুজব ছাড়া কিছু নয়, কেউ কেউ গুজব ছড়াতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলছেন। এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার মোবাইলে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলার সুযোগ নেই। পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন বাইরে চলে যাওয়ার একটা মাধ্যম হলো মুঠোফোন। কিন্তু এবার কোনো শিক্ষক মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন না। কেউ যদি ভুল করেও নিয়ে আসেন, সেটা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে রেখে যেতে হবে। শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তাই পঞ্চম শ্রেণি শেষে এ পরীক্ষা থাকবে কি না এমন প্রশের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারা সরকারের সিদ্ধান্তই প্রতিপালন করছেন। সরকার যতদিন চাবে ততদিন এ পরীক্ষা চলবে।
পরীক্ষা শুরুর দিন মন্ত্রী রাজধানীর আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শান্তিনগর কো-অপারেটিভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান ও অতিরিক্ত সচিব ড.এ এফ এম মনজুর কাদির, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি, ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক ইন্দু ভূষন দেব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ