ঢাকা, মঙ্গলবার 21 November 2017, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাছ ধরার ফাঁদ বাঁশের চাঁই তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : মোড়াগাছা গ্রামের আবদুর রহমান তার তৈরি চাঁই হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছে

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া): গ্রামের খাল বিল হাওড়-বাওড় কিংবা নদীতে মাছ ধরার পুরনো পদ্ধতি আর উপকরণের একটি হচ্ছে বাঁশের তৈরী চাঁই। এই চাঁই বুনে  এবং সেটা দিয়ে মাছ ধরে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ জীবনযাপন করছে। বর্ষার শুরু থেকে এ অঞ্চলের খাল-বিল ও নদী-নালায় শুরু হয় চাঁই দিয়ে মাছ ধরা। বিশেষ পদ্ধতিতে বাঁশ দিয়ে খালে, বিল-বাওড়ে ১৪-২৫ ফিট ফাঁকে ফাঁকে বসানো হয় একটি করে চাঁই। পানিতে চাঁই বসানো হয় মূলত টাকি ও চিংড়ি মাছ শিকারের জন্য। কিন্তু ধরা পড়ে পুঁটি, বেলে, টেংরাসহ সব প্রকারের ছোট মাছ। সরেজমিনে জেলার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, এই গ্রামের ১০ বছর বয়সের শিশু থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই মিলে চাঁই বুনছে। কেউ বাঁশ কাটছে, কেউ শলা তুলছে, কেউ শলা চাঁচছে আবার কেউবা ব্যস্ত চাঁই বোনা ও বাঁধার কাজে। ঘরের বারান্দায়, উঠানে, গাছের ছায়ায় যে যেখানে পারছে সেখানে বসেই করছে চাঁই বানানোর কাজ। এ গ্রামের প্রায় ২৫টি পরিবারের অন্তত ১শ' শিশু, নারী ও পুরুষ জড়িত চাঁই বোনার কাজে। প্রায় ২০ বছর ধরে এই গ্রামে চাঁই বানানোর কাজ চললেও ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে ৩-৪ বছর ধরে। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে এ জেলার খোকসা ও কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চাঁই বোনার কাজ শুরু হয়। চলে আশ্বিন পর্যন্ত। এক মৌসুমে প্রায় ২ লাখ চাঁই বানানো হয়। দুই উপজেলাতে প্রতি মৌসুমে শ্রমিকরা চাঁই উৎপাদন করে আয় করেন প্রায় ১ কোটি টাকা। ইদানিং বাঁশের কাঠির পরিবর্তে শুধু বাঁশের চটা দিয়ে তৈরী ফ্রেমে জাল দিয়েও চাঁই বানানো হচ্ছে। তবে জালের তৈরী ফাঁদ অনেক সময় ছিঁড়ে বা কাঁকড়া কেটে দিলে মাছ পালিয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ