ঢাকা, মঙ্গলবার 21 November 2017, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার কোন পরিকল্পনা নেই -জনপ্রশাসন মন্ত্রী

সংসদ রিপোর্টার: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ করার দাবি আবারো নাকোচ করে দিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই।
গতকাল সোমবার বিকেলে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। এর আগে বিকেল সোয়া ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা না বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সেশনজট থাকলেও বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সেশনজট নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ১৬ বছরে এসএসসি, ১৮ বছরে এইচএসসি এবং ২৩/২৪ বছরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করছে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পরেও চাকরিতে আবেদনের জন্য কমপক্ষে ৬/৭ বছর সময় থাকছে। এছাড়া ৩০ বছর বয়সসীমার মধ্যে একজন প্রার্থী চাকরির জন্য আবেদন করলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ২/১ বছর সময় লাগলেও তা গণনা করা হয় না।
 প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, সম্প্রতি চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৫৭ বছর  থেকে ৫৯ বছরে উন্নীত হওয়ায় বর্তমানে শূন্য পদের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হলে বিভিন্ন পদের বিপরীতে চাকরিপ্রার্থীদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়বে। এতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অধিকতর প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হতে পারে। যাদের বয়স বর্তমানে ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে তারা চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ পেলেও অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের প্রার্থীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার জাসদ একাংশের কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবি জানিয়েছিলেন। চাকরিপ্রার্থীরাও এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছিলেন।
সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তরে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংসদে মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তরে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ( গ্রেড ৯ থেকে তদূর্ধ্ব) ৪৮ হাজার ২৪৬টি, দ্বিতীয় শ্রেণীর অর্থাৎ ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডে ৫৪ হাজার ২৯৪টি, তৃতীয় শ্রেণীর (১৩-১৭তম গ্রেডের) ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৩৭টি পদ এবং চতুর্থ শ্রেণীর (১৮-২০তম গ্রেডে) ৭৩ হাজার ৯৮৪টি পদ শূন্য রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারি অফিসগুলোতে শূন্য পদে লোক নিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এর অধীন সংস্থাসমূহের চাহিদার প্রেক্ষিতে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ৮ম, ৯ম, ও ১০-১২ গ্রেডের অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এছাড়া ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর পদে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার জনবল নিয়োগ করা হয়ে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ