ঢাকা, বুধবার 22 November 2017, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

লক্ষ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

তবিবুর রহমান আকাশ,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে: বাংলাদেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে এক রক্তঝরা আন্দোলনের ইতিহাস। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের মধ্যবর্তী শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর নামক স্থানে ১৯৭৯ সালের ২২ নবেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন দেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ধর্মতত্ব ও ইসলামী শিক্ষার অন্যান্য শিক্ষণ-শাখাসমূহ এবং তুলনামূলক আইনবিজ্ঞান ও অনুরূপ অন্যান্য শিক্ষণ-শাখাসমূহে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা-চর্চার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় যেরূপ উপযুক্ত মনে করিবে সেরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গবেষণা ও উচ্চতর গবেষণার ব্যবস্থা গ্রহণসহ জ্ঞানের অগ্রসরতা ও বিকিরণের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের মহান লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যায়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রগতিশীলতার নামধারী কিছু কুচক্রি মহলের ষড়যন্ত্রে রুদ্ধ হয়েছে স্বাভাবিক পথ চলা। আজ ২২ নবেম্বর প্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ ৩৮ বছর পেরিয়ে ৩৯তম বছরে পদার্পণ করলেও মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হতে সম্পূর্ণ আলাদা আদলে গঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। তাই অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানের যে কোন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঐশী জ্ঞানের সাথে সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় করে ইসলাম বিষয়ে মৌলিক ধারণাসহ বিশেষ জ্ঞান অর্জন করবে এটাই জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু একাডেমিক ত্রুটির কারণে সে লক্ষ্য থেকে দূরে সরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ফলে সাধারণ বিষয়ের শিক্ষার্থীরা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই ইসলাম বিবর্জিত শিক্ষা নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতি বিভাগে মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ স্টাডিজ ও স্কুল, কলেজ ব্যাকগ্রাউন্ড শিক্ষার্থীদের ইসলামিক স্টাডিজ কোর্স পড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে এটি নন ক্রেডিট কোর্স হিসেবে পড়ানো হয়। কিন্তু প্রথম থেকে কোর্সটি ধর্মতত্ব অনুষদের শিক্ষকদের দিয়ে পড়ানো হতো। বর্তমানে স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষকরা সেটি পড়াচ্ছেন। নামমাত্র ক্লাস নিয়ে শেষ করছে কোর্সটি। শুধু পাস নাম্বারের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে ইসলামী শিক্ষার নামে ধোঁকাবাজীর শামিল হচ্ছে বলে মনে করেছেন ইসলামী স্কলাররা। এর ফলে ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার সাথে সমন্বয় সাধন করার যে লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত তা ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্নে ১৯৮৫-৮৬ থেকে পরবর্তী ৩ বছর মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ৫০% কোটা ছিল। বর্তমানে অন্যান্য কোটা থাকলেও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কোন কোটা নেই। এরফলে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম দিকে একাডেমিক যোগ্যতার সাথে ইসলামী জ্ঞানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হত। বর্তমানে সেদিকে কোন নজর দেওয়া হয় না। যেহেতু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সেহেতু ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী স্কলারদের অগ্রাধিকারের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া উচিৎ। কিন্তু ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামী চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের বিবেচনা করা হয় না বলে মনে করছেন ইসলামী ভাবাপুষ্ট শিক্ষকরা। এরফলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এখানের শিক্ষা ব্যবস্থা এক করে ফেলছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩টি বিভাগ খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪টি বিভাাগ ইসলামী শিক্ষা বিষয়ক। তাছাড়াও অন্য বিভাগগুলো সাধারণ বিভাগ হিসেবে খোলা হয়েছে। নতুন আরো সাবজেক্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসেপ্টের সাথে মিলে না এমন সাবজেক্ট ইতোমধ্যে অর্গানোগ্রামে সন্নিবেশ করা হয়েছে। ফলে প্রগতিশীলতার দোহায় দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্যচ্যূত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন ইসলামিক স্কলাররা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্লান ছিল প্রধান ফটক থেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় মসিজদ দেখা যাবে। কিন্তু মাস্টার প্লান লংঘন করে প্রধান ফটকের সামনে ম্যূরাল তৈরি হচ্ছে। এর ফলে একদিকে ইসলাম মানবমূর্তি বা মূর‌্যাল সমর্থন না করলেও সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ নিয়ে বর্তমান ভিসিকে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইসলামী ভাবধারার শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি কিছু সাবজেক্টের নামের ইসলাম ও মুসিলাম শব্দ বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হলে একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থেকে ইসলাম বাদ যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ইসলামী ব্যক্তিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ইসলামী বিষয়ের কোর্স চালু ছিল। বর্তমানে কোর্সগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ইসলাম বিবর্জিত জ্ঞান দিয়ে ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা। যেটি প্রতিষ্ঠার ৩৮ বছর পার হলেও এখনো সম্ভব হয়নি। ফলে শিক্ষাক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮০ সালের আইনের ৫এর(ঠ) ধারায় বলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আবাস ও শৃঙ্খলা তত্ত্ববধান ও নিয়ন্ত্রণ, তাঁহাদের পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যাবলীর উন্নতিবর্ধন এবং তাঁহাদের স্বাস্থ্য ও নৈতিক চরিত্রের উৎকর্ষসাধনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ। কিন্তু শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নীতিবহির্ভূত কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হতে দেখা যায়। ফলে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নূরারী মক্তব চালু ছিল। বর্তমানে সেটি বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেটি স্থানান্তরের ফলে বন্ধ করে দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চলছে গোপনে ও প্রকাশ্য নানা ষড়যন্ত্র । দিনে দিনে এসব ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এর ফলে অসংখ্য মুসলিমের দীর্ঘ আন্দোলন ও রক্তের ফসল বিশ্ববিদ্যালয়টি লক্ষ্য উদ্দেশ্য পরিবর্তন করে ভিন্ন দিকে যেতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক পটভূমি বৃটিশ আমলে বঙ্গে আরবী ইসলামী শিক্ষার উচ্চতর পঠন-পাঠন এবং গবেষণার জন্যে কোন প্রতিষ্ঠান না থাকায় ১৭৮০ সালে কলিকাতার কতিপয় বিশিষ্ট ইসলামী শিক্ষানুরাগীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলিকাতা আলীয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৩৭ সালে সরকারি এক নির্দেশে আলীয়া মাদরাসায় বাধ্যতামূলক ইংরেজী শিক্ষার আশানুরূপ ফল না হওয়ায় মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ উইলিয়াম নাসা লীজ ১৮৫৮ সালে কলিকাতা আলীয়া মাদরাসা বিলোপের সুপারিশ করে। কিন্তু মুসলমানদের আন্দোলনের মুখে সে যাত্রা আলীয়া মাদরাসা নিশ্চিত বিলোপের হাত থেকে রেহাই পায়। এরপর থেকে এ উপমহাদেশে মুসলিম মনীষী ও শিক্ষাবিদগণ একটি স্বতন্ত্র ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন করতে থাকে। ১৯১৩ সালের মার্চ মাসে বগুড়া জেলার বানিয়া পাড়ায় মওলানা আকরম খাঁ (১৮৬৮-১৯৬৮) কে সেক্রেটারি এবং মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী (১৮৭৫-১৯৫০) কে জয়েণ্ট সেক্রেটারি করে গঠিত আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাঙ্গালা আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে। ১৯১২ সালে ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদসহ ঢাকায় একটি আবাসিক ‘মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠারও দাবি উঠে। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ একটি বিভাগসহ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে বহু কমিশন গঠিত হয় কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় ১৯৭৪ সালে মাওলানা ভাসানী সন্তোষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেসরকারিভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ১৯৭৬ সালের ১লা ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব অনুধাবন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। ১৯৭৭ সালের ১লা জানুয়ারি ড. এম.এ. বারীকে সভাপতি করে দ্যা ইসলামিক ইউনিভার্সিটি স্কিম-‘৭৭ গঠন করেন। যার সুপারিশের আলোকে ১৯৭৯ সালে ২২ নবেম্বর কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ-এর মাঝামাঝি শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে ১৭৫ একর জমির উপর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৮০ সালে জাতীয় সংসদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট ১৯৮০/৩৭ পাশ হলে ১৯৮১ সালের ৩০ জানুয়ারি ড. চৌধুরীকে প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ করা হয়। ১৯৮২ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন লেঃ জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের এক আদেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে স্থানান্তর করেন। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ২৮ জুন ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা অনুষদের আল-কুরআন ওয়া উলুমুল কুরআন ও উলুমুল তাওহীদ ওয়াদ দাওয়াহ এ দু’টি বিভাগে এবং মানবিক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ব্যবস্থাপনা ও হিসাব বিজ্ঞান এ দু’টি বিভাগে মোট ৮ জন শিক্ষক এবং তিনশ’ ছাত্র নিয়ে এর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে মাদরাসা ব্যকগ্রাউ-ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার অবারিত সুযোগ প্রদান করার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সকল বিভাগে ১০টি কোটা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। ১৯৯০ সালের ২ জানুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে পুনরায় গাজীপুরের বোর্ড বাজার হতে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়। ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষ হতে প্রথমবারের মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর গ্রোত্র/জাতি এবং ছাত্রী ভর্তির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে এবিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদাধীন ৩৩টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫৪ জন শিক্ষক, ৪০৬ জন কর্মকর্তা, ২১৬ জন সহায়ক কর্মচারী এবং ২০৪ জন সাধারণ কর্মচারী ও ১২৮১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫৭১ জনকে এমফিল ও ৩৭৭ জনকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। রয়েছি ৬টি একাডেমিক ভবন (১টি নির্মাণাধীনসহ) ৮টি আবাসিক হল (১টি নির্মাণাধীনসহ)। এছাড়াও ভিসির বাস ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক কোয়াটার। চিকিৎসার জন্য রয়েছে মেডিকেল, শরীরচর্চার জন্য রয়েছে ব্যয়ামাগার, অনুষ্ঠানের জন্য আছে অত্যাধুনিক বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২তম ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এছাড়াও তৃতীয় প্রো-ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান। তবে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইসলামী শিক্ষার উচ্চতর গবেষণা আশাব্যঞ্জন বলে মনে করছেন বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। তিনি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য যে জ্ঞান চর্চা ও জ্ঞান গবেষণা তা বহুলাংশে অর্জন হয়েছে। ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার অগ্রগতি প্রত্যাশিত। পঠন পাঠন ও গবেষণায় কাঙ্খিত অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দেশের মধ্যে একমাত্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী শিক্ষায় উচ্চতর গবেষণার জন্য ইসলামী ফ্যাকাল্টি রয়েছে। প্রতি বিভাগে ইসলামিক স্টাডিজ নামে একটি বিশেষ কোর্স বিশেষজ্ঞ দিয়ে পড়ানো হচ্ছে। আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা ও উচ্চতর গবেষণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ