ঢাকা, বুধবার 22 November 2017, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার গণতন্ত্রের স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গণন্ত্রের সবগুলো স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। রাষ্ট্রের যতগুলো প্রতিষ্ঠান ছিল, সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলেছে। তিনি বলেন, জনগণ থেকে সরকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সরকার গায়ের জোরে মিথ্যা মামলা দিয়ে, খুন করে, গুম করে ক্ষমতায় টিকে আছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের বিডি হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা ও দলীয় সংগীতের তালে তালে সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। সম্মেলনের প্রধান অতিথি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও কেন্দ্রীয় মাহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদসহ সভানেত্রী জিবা খান, যুগ্ম সম্পাদিকা হেলেন জেরিন খান, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন প্রমুখ বক্তব্য দেন। প্রথম অধিবেশন শেষে ফোরাতুন নাহারকে সভাপতি, শিরিন আকতারকে সাধারণ সম্পাদিকা ও রুবিনা আক্তার, নাজমা বেগম, সানজিদা ইয়াসমিনকে সাংগঠনিক সম্পাদিকা করে জেলা মহিলা দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গত ৮ জুলাই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের আলোচনা সভায় ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে এবং ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘৩০টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল’ বন্ধের প্রতিবাদ জানাতে আলোচনা সভায় দলের নেতা-কর্মীদের বর্তমান (সেই সময়ের) অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ধরে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। জনগণ যে আমাদের সঙ্গে আছেন তার প্রমাণ দেশবাসী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত জনসভায় উপচে পড়া জনসমুদ্র দেখে বুঝতে পেরেছেন। অপর দিকে দেশের সব ক্ষেত্রে নৈরাজ্য আর অরাজকতা বিরাজমান। আওয়ালীগ সরকার বিচার বিভাগকে ভেঙে দিয়েছে। সরকার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে রেখেছে, যেন রাজনীতি করতে না পারেন।
ঐক্যবদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কে কোন দল করে, সেটা বড় বিষয় না। দেশকে বাঁচানোর জন্য, গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘আওয়ামী অপশক্তির’ বিরুদ্ধে আন্দোলনে জয়যুক্ত হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ‘অপশক্তিকে’ পরাজিত করার পর আফসার আহমদের প্রতি সত্যিকার অর্থে সম্মান জানানো হবে।
দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের কথা বলতে গিয়ে আবারও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা আজকে একটা দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের বোনেরা-মেয়েরা আছে, যারা মাফ পায়নি, রেহাই পায়নি। সারা বাংলাদেশে হাজারো নেতা-কর্মীকে গুম করে দিয়েছে। তাদের বাচ্চারা এখনো বাবার পথের দিকে চেয়ে থাকে। এর পরেই গলা ধরে আসে মির্জা ফখরুলের। একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এমন একটা দুঃসময়, গ্রেফতার খুন চলছেই। এই সরকার, যারা আমাদের গণতন্ত্রের সব স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে, মানুষের অধিকারগুলোকে কেড়ে নিয়েছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারগুলোও কেড়ে নিয়েছে।
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের মা-বোনদের কোনো নিরাপত্তা নেই। মানুষেরও নিরাপত্তা নেই। খবরের কাগজ খুললেই দেখবেন নারীদের লাঞ্ছনা করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে। খবরের কাগজ খুললেই দেখবেন আমার ভাইকে গুলী করে মেরে ফেলা রাখা হয়েছে। গুম হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক মানুষকে গুম করে ফেলা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমরা কি সে জন্য দমে গেছি? আমরা গণতন্ত্রকে উদ্ধার করবই করব। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। শত নির্যাতন-নিপীড়নের পরও দেশের মানুষ জেগে উঠেছে।’
নিন্দা ও প্রতিবাদ: বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে আহত এবং যুবদল নেতা মোল্লা মাসুদ এর বাড়ীতে ব্যাপক ভাংচুর চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর যেকোন শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করা এবং অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়া এখন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দলীয় কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিনা উস্কানিতে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা সেটিরই উদাহরণ। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের সকল দলীয় কর্মসূচি পালন করবে কিন্তু বিএনপি কিংবা অন্য কোন বিরোধী দল তা করতে পারবেনা-এই অগণতান্ত্রিক আচরণের মাধ্যমে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী দেশকে এক নজীরবিহীন নৈরাজ্যকর অবস্থার মধ্যে নিপতিত করেছে। এধরনের অন্যায় ও জুলুম-নির্যাতন রোধে সরকার নিজ দলের সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে বিচার না করার জন্যই সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত নিষ্ঠুর ও ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে আরো উৎসাহিত হচ্ছে। সরকার ও সরকারী দলের সন্ত্রাসীদের সকল নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ। আমি বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি। হামলায় আহত নেতাকর্মীদের আশু সুস্থতা কামনা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ