ঢাকা, বুধবার 22 November 2017, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার আবারো পাতানো নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে -ড. মোশাররফ হোসেন

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহায়ক সরকার গঠন না হলে বিএনপি রাস্তায় নামবে জানিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকার আবারো পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এজন্যই খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের শাস্তি দেয়ার চক্রান্ত করছে। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচন কোনোদিনই শেখ হাসিনার অধীনে হতে পারবে না। এদেশের জনগণ তা হতে দেবে না। তিনি বলেন, আমাদের দেশনেত্রী উপযুক্ত সময়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা দেবেন। সেই রূপরেখা দেয়ার পরে আমরা আহবান জানাবো সরকারকে সেই রূপরেখা মেনে নিয়ে এদেশে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য। আর যদি সেই পথে না এসে আবার ২০১৪ এর পথে হাঁটেন তাহলে বলতে চাই, জনগণ এবার তা গ্রহণ করবে না। যদি এই সরকার একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে রাজি না হয়, তাহলে সেই দাবি আদায়ের জন্য দেশের জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে এবং রাস্তায় সেই দাবি আদায় করেই একাদশ নির্বাচন হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুব দল। তারেক রহমানের প্রতিকৃতি দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তন বর্ণিল রঙে সাজানো হয়। সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুব দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার গত মার্চ-এপ্রিল মাসে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে জরিপ করিয়েছিলো। এই সরকারের অধীনস্থ সকল গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট দিয়েছিলো যে, দেশে যদি নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগ ৪০/৫০টা সিটের বেশি পাবে না। আজকে সেজন্য তারা ভয়ে ভীত। তাই তারা ষড়যন্ত্র করছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে তাকে শাস্তি দিয়ে, আমাদের সিনিয়র নেতাদেরকে শাস্তি দিয়ে তারা একটা নির্বাচন করে তথাকথিত সেই একটি পাতানো খেলা করে ২০১৪ এর মতো আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। আমি পরিষ্কার বলতে চাই, একাদশ নির্বাচন কোনোদিনই শেখ হাসিনার অধীনে হতে পারবে না। এদেশের জনগণ তা হতে দেবে না। সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীরা সরকারের সুযোগ নিয়ে হেলিকপ্টার দিয়ে বিভিন্নভাবে সরকারি সুবিধা নিয়ে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন। আর এদেশে সবচাইতে জনপ্রিয় বৃহত্তম দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে সকল নেতৃবৃন্দ আদালতের কাঠগড়ায় থাকবেন, আদালতের বারান্দায় থাকবেন। এতে কখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। এখন থেকে সকল দলের সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তারেক রহমান প্রসঙ্গে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকার ১/১১’র সরকারের মতো চক্রান্ত শুরু করেছে মিথ্যা মামলা দিয়ে। জন্মদিনের দিন তারা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিচারের কার্যক্রম শুরু করেছে। এ থেকে বুঝা যায়- এই সরকার কী পরিমাণ তাকে ভয় পায়, কী পরিমাণ প্রতিহিংসামূলক এই সরকার। এই ষড়যন্ত্র শুধু তারেক রহমানের বিরুদ্ধেই নয়, বিএনপির বিরুদ্ধে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও। আমরা বলতে চাই, আজকে বিএনপির পক্ষে যে জনস্রোত সৃষ্টি হয়েছে, যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, ভবিষ্যতে জনগণ যেকেনো ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। বরকতউল্লাহ বুলু সরকারের উদ্দেশে বলেন, আমাদেরকে যদি মিথ্যা মামলায় সাজা দেন, তার লিস্ট প্রকাশ করেন কারা কারা নির্বাচন করতে পারবে না। তারপরে আমাদের দ্বিতীয় সারি তৃতীয় সারির নেতাদের সাথে যদি প্রতিযোগিতা করে নির্বাচনে আপনারা জয়লাভ করতে পারেন, ৫০টি আসন পান তাহলে আমরা রাজনীতি ছেড়ে দেবো। আমরা বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন এদেশে অনুষ্ঠিত হবে না, হতে দেয়া হবে না। সম্প্রচার আইন বাকশালের চূড়ান্ত প্রকাশ: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রসঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জনবিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী তথ্যমন্ত্রী আপনি নিজেই। আপনি সন্ত্রাসের বাদশা। আপনি জঙ্গি এবং সন্ত্রাস জন্ম ও লালন হওয়ার আগেই এই বাংলাদেশের মানুষকে চিনিয়েছেন যে জঙ্গিত্ব কাকে বলে। আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যত ধরনের কথা- সব তো আপনি বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, আন্দোলন-সংগ্রাম-গণতন্ত্রের জন্য যিনি আপোস করেননি, অসত্য-অন্যায় এবং প্রতিশ্রুতি প্রদানের কাছে যিনি মাথানত করেননি, তার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষণে জঙ্গি, ক্ষমতা এসমস্ত কথা-বার্তা বলেছেন। এজন্য তো প্রথমেই সম্প্রচার আইনে আপনার তিন বছরের কারাদন্ড এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি- অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য প্রকাশ, জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, দেশের অখন্ডতার প্রতি হুমকি এই ধরনের বিষয় এনে সরকার ‘সম্প্রচার আইন’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। ওই আইনে ৫ কোটি টাকা জরিমানা এবং ৩ বছরের সাজার বিধান আছে। তাহলে এই আইনের আওতায় তো প্রথমে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর তিন বছরের জেল হওয়া উচিত। কেন না ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তারেক রহমান মালয়েশিয়াতে কল-কারখানা করেছেন। ২০০৯ সালে থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এই ৯ বছরে তো প্রমাণ করতে পারেননি যে, মালয়েশিয়া, কিংবা লন্ডনে কিংবা ইস্তাম্বুলে তারেক রহমানের কোনো ইন্ডাস্ট্রি আছে। তাহলে এই মিথ্যার জন্য তথ্যমন্ত্রী আপনার প্রথমেই তো প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করতে হবে, আমি তো এছাড়া অন্য কিছু দেখছি না। খসড়া সম্প্রচার আইনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনারা সরকার এই আইন কেনো করতে চাচ্ছেন তা আমরা জানি। বাকশাল এখন চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাকশাল মানে নিয়ন্ত্রণ, এক ব্যক্তি ও একদলের শাসন। সব চ্যানেল, সব পত্রিকা বন্ধ করে দিলে জিয়াউর রহমান সামনে চলে আসে। সেজন্য চাদর দিয়ে ঢাকা। আবার আওয়ামী লীগের পুনর্জন্ম সেটাও জিয়াউর রহমানের অবদান। তাই তিনি সব রেখেছেন তবে চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। তারেক রহমানের বক্তৃতা একুশে টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার বিচার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এই সরকারের গণতন্ত্রের নমুনা দেখেন। যে টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছিলো বক্তৃতা, সেই টেলিভিশনের মালিককেও মামলা দিয়ে বন্দী করে রাখা হয় কয়েকবছর। শুধু তাই নয়, সেই টেলিভিশনের মালিকানা কেড়ে নেয়া হয়েছে, বসানো হয়েছে আওয়ামী লীগের ব্যক্তিদের, আওয়ামী লীগের বাকশালীদেরকে। এই যে সম্প্রচার আইন-২০১৭ করতে যাচ্ছে, তার মাধ্যমে চাদরটাও তুলে নেবে, এরপর বাকশালের নগ্ন প্রকাশ আপনারা দেখতে পারবেন। এই আইন বিরোধী মত ও বিরোধী দল বিএনপির ওপর ব্যবহার করা হবে। এই জন্যই সম্প্রচার আইন করে বাকশালের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটাতে চাচ্ছেন অবৈধ সরকারের অবৈধ তথ্যমন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ