ঢাকা, বুধবার 22 November 2017, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘকে জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান

সংগ্রাম ডেস্ক : মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ৩৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এসব সংস্থার মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও রয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক সংস্থা সোমবার রাতে লেখা এক চিঠিতে বলেছে, “আমরা জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের কাছে মিয়ানমারের ক্রম অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য অনতিবিলম্বে জরুরি বৈঠক ডাকার জোর আহ্বান জানাচ্ছি।” জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের কাছে এমন সময় এ আহ্বান জানানো হলো যখন সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গত ১০ নবেম্বর মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়’ বলেও অভিহিত করেন। এ ছাড়া, জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মার্ক লোকক সম্প্রতি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মিয়ানমার সরকার সেদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের কাছে ত্রাণসাহায্য পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেদেশের রাখাইন প্রদেশের মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যা ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছে। বর্বরোচিত এই অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ছয় হাজার রোহিঙ্গা নিহত ও কমপক্ষে আট হাজার লোক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, এই পাশবিকতা থেকে প্রাণে রক্ষা পেতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান। বিশ্বের বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশ মিয়ানমার সরকারের বাধার কারণে সেদেশে ত্রাণ পাঠাতে না পেরে বাংলাদেশে সাহায্য পাঠিয়েছে। -সংবাদমাধ্যম। মিয়ানমারের আচরণ জাতিবিদ্বেষী- অ্যামনেস্টি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের আচরণকে ‘অমানবিক জাতিবিদ্বেষ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও আইনি স্বীকৃতি পুনর্বহাল এবং দেশের বৈষম্যমূলক নাগরিক আইন সংশোধন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দুই বছরের গবেষণার ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার অ্যামনেস্টি প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে দুই বছরের গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরেন অ্যামনেস্টির কর্মকর্তারা। ১০০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এক বছর ধরে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়’ পরিচালিত অভিযানে রোহিঙ্গাদের জীবন-যাপনের ওপর চারপাশ থেকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের গবেষণা পরিচালক অ্যানা নেইস্ট্যাট বলেন, মিয়ানমার সরকারের বর্ণবাদী আচরণে রাখাইনে রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ ও শিশুরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, ‘রাখাইনে যে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে তা স্পষ্ট। রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন তিন মাস আগে নয়, এ সংকট শুরু হয়েছে বহু আগেই’। সেসময় জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের অধিকার পুনর্বহাল, আইনি স্বীকৃতি প্রদান এবং বৈষম্যমূলক নাগরিক আইন সংশোধন করতে মিয়ানমার সরকারকে তাগিদ দেন তিনি। এর আগে গত অক্টোবরেও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল অ্যামনেস্টি। ৪৭ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শত শত শিশু, নারী ও পুরুষকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাখাইন থেকে তাদের উৎখাত করতে ধারাবাহিকভাবে নির্বিচার হত্যাকা-,নৃশংস ধর্ষণ ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর সুনির্দিষ্ট ইউনিটের বিরুদ্ধে এমন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তুলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির আশঙ্কা,এসব অপরাধ রোহিঙ্গাদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তাদেওয়ারও আহ্বান জানায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা। তার আগেও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে একই রকমের সুপারিশ করেছিল অ্যামনেস্টি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ