ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 November 2017, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তেরখাদায় কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সরকারি অফিস আদালত

খুলনা অফিস: খুলনার তেরখাদা উপজেলার নির্বাহী অফিসারের অফিসভবনসহ উপজেলা পরিষদের ১০/১২টি সরকারি অফিস ও আবাসিক ভবন দীর্ঘদিন আগে থেকে ঝুঁকিপূূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদে এবং দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে অবিরাম পলেস্তরা খসে পড়ছে। এসব অফিসে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক তাদের দৈনন্দিন কাজের জন্য আসে। কখন যেন ভবন ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। দীর্ঘ ৭/৮ বছর আগে তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ভবনসহ কয়েকটি অফিস ও আবাসিক ভবনের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।
একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর অফিস ভবন, সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস ভবন, সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার অফিস ভবন অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতার অফিস, আনসার ভিডিপি কর্মকতার অফিস, কৃষি কর্মকর্তার অফিস, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অফিস, উপজেলা পল্লী, উন্ন্য়ন অফিস, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর অফিস, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন অফিস, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস এবং পরিসংখ্যান কর্মকর্তার অফিস ভবন। বর্ষার মওসুমে এসব ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে ফ্লোর, আসবাবপত্র এবং প্রয়োজনীয় মূল্যবান কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।
গত ২০১৪ সালের নবেম্বর মাসে অফিস চলাকালীন সময়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফি ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার অফিস ভবনে ছাদ থেকে বড় ধরনের পলেস্তরা ধসে পড়ে। এ সময় অফিসের চেয়ার ও টেবিল ভেঙে যায়। কর্মকর্তারা ঐ সময় অফিস কক্ষে ছিলেন না, ফলে তারা জীবনে বেঁচে যায়। দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন অফিস ভবন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখান থেকে অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। ভবনগুলো দীর্ঘদিন আগে থেকে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। মাঝে মাঝে উপজেলা পরিষদ থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে ঘষামাজা  করা হলেও এখন বড় বড় পলেস্তরা ধসে পড়তে শুরু করেছে।
তেরখাদা উপজেলা পরিষদের আবাসিক ভবনে বসবাসকারীরা জানান, আবাসিক ভবনগুলো বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এখানে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই নাজুক। আবাসিক ভবনের সামনে ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কোন কোন স্থানে সাপ-বিচ্ছুরা বাসা বেঁধেছে। বর্ষা মওসুমে এখানে বসবাসকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঝড় হলে ছাদ ধসে যাওয়ার শঙ্কা আর বৃষ্টি হলে কোমলমতি সন্তানদের নিয়ে ঘরের মধ্যে বসে বসে ভিজতে হয়। বসবাসকারীরা জানান, এখানে খুবই কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করতে হয়।
তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু জানান, উপজেলা পরিষদের চেষ্টায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে ও টেন্ডারও হয়েছে, দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ