ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 November 2017, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিতে কয়রার তিন লক্ষাধিক মানুষ

খুলনা অফিস: খুলনার কয়রায় দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে তিন লক্ষাধিক মানুষ। কোন প্রকার বাস্তবমুখি নতুন প্রকল্প প্রণয়ন কিংবা উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই নীরবে-নিভৃতে কেটে গেল আইলার দশটি বছর। সরকারের কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ ও চল্লিশ দিনের কর্মসূচি বিভিন্ন সময়ে বাস্তবায়িত হলেও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে নেয়া হয়নি বাস্তবমুখি কোন পদক্ষেপ। ২০০৯ সালের ২৫ মে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার তাণ্ডবে লণ্ড-ভণ্ড খুলনার কয়রা উপজেলাসহ গোটা দক্ষিণ উপকূলের জনপদ। আইলার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের শতাধিক মানুষের প্রাণহানিসহ বিলীন হয়েছিল ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, দালানকোটাসহ সবকিছু। শত শত বছরের পুরাতন জনপদগুলোর কোনো চিহ্নই ছিল না।
এ জনপদের মধ্যে সরকারের নেয়া কয়রায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মো. আশরাফ হোসেন। তিনি আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়রায় পরিকল্পনা মাফিক বেড়িবাঁধ ও বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। গত সোমবার কয়রা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ সকল অভিমত ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান আ.খ.ম. তমিজ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম, কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এনামুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, বিজয় কুমার সরদার, আ. ছাত্তার পাড়, আব্দুল্যাহ আল মামুন লাভলু, সরদার নুরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ.খ.ম. তমিজ উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জীবন থেকে দশ বছর কেড়ে নিলেও সংগ্রাম মুখর জীবনের অধিকারী এ সকল উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ শত প্রতিকূলতার মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কয়রায় দুর্যোগে ক্ষতবিক্ষত মানুষগুলোর জীবনে এখনও সেই ভয়বহ স্মৃতি রয়ে গেছে। তিনি উন্নয়ন বঞ্চিত খুলনার কয়রার মানুষের শেষ ভরসাস্থল বর্তমান সরকার আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে এ জনপদের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করবে এ জন্য তিনি সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ