ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 November 2017, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝালকাঠিতে একটি ফেরি ও ৬ কিলো রাস্তার অভাবে ভোগান্তিতে ১০ জেলার অসংখ্য যাত্রী

ঝালকাঠি সংবাদদাতা: ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শিলাবুনিয়া এলাকার বিশখালী নদীর ওপারে বরগুনার বেতাগী উপজেলা। পিরোজপুর, বরগুনা এবং ঝালকাঠি এই তিন জেলার অন্তত ৩ হাজার মানুষ প্রতিদিন বিশখালী নদীর খেয়া পার হয়ে তিন জেলায় যাতায়াত করেন। বেনাপোল, ঝিনাইদহ কিংবা যশোরের মানুষকে পটুয়াখালী, কুয়াকাটা কিংবা বরগুনা যেতে হলে এখনও বরিশাল হয়ে যেতে হয় শুধু বিশখালী পারাপারের ফেরি না থাকার কারণে। স্থানীয়রা জানান, বিশখালী নদীর উপর একটি ফেরি চালু করা গেলে পিরোজপুরের ভা-ারিয়া উপজেলা হয়ে ঝালকাঠি হয়ে বরগুনার বেতাগী পৌঁছে সহজেই দশ জেলায় যোগাযোগ রাখা সম্ভব হবে। আর এতে কমপক্ষে ৭০ কিলোমিটার পথ কমত, সময়ও সাশ্রয় হত। ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী  মোঃ নাবিল হোসেন জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সঙ্গে সহজে যোগাযোগের জন্য ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শিলাবুনিয়া এলাকায় বিশখালী নদীর পাড়ে ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে ভান্ডারিয়া-বিনাপানি-কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে বিশখালী নদী পাড়ের শিলাবুনিয়া থেকে ২ কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়। “পরে বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। আর আঞ্চলিক মহাসড়কটির মোট ৬ কিলোমিটারের মধ্যে পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ আর সড়কের পাশ দেবে গিয়েছে।” কাঁঠালিয়ার কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা জহির উদ্দিন খান নান্নু জানান, হাজার হাজার যাত্রীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বছর দশেক আগে শিলাবুনিয়া নদীর পাড় থেকে ২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়। আর ওই রাস্তাটি কাঁঠালিয়ার বিনাপানি হয়ে ভান্ডারিয়া-খুলনা মহাসড়কে সংযুক্ত করেছে। “ভা-ারিয়া পর্যন্ত বাকি ৪ কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ আর অনেক জায়গা দেবে গিয়ে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তবুও নদীর খেয়া পার হয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ঝুঁকি নিয়েই এ পথে যাতায়াত করছেন।” পিরোজপুরের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন বেতাগী উপজেলার আব্দুর রহিম হাওলাদার। তিনি বলেন, “বেতাগী, কাঁঠালিয়ার খেয়া পার হয়ে প্রতিদিন দুই কিলোমিটার মাটির রাস্তা হেঁটে এরপর ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে টেম্পো নিয়ে ভান্ডারিয়া পৌঁছাই, তারপর পিরোজপুরে কর্মস্থলে যাই।” কিন্তু বিশখালী নদীতে ফেরি আর অসম্পূর্ণ সড়কটি সম্পন্ন হলে দুই জেলার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হত, বলেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষক। বরগুনার বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম গোলাম কবির বলেন, “নদীতে একটি ফেরি চালু করা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। কিন্তু অনেক ধর্না দিয়েও তা পেলাম না।” এখন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া অংশে ৬ কিলোমিটার রাস্তা আর নদীতে ফেরি চালু করলেই দশ জেলার মানুষ কম সময়ে যাতায়াত করতে পারবে, বলেন তিনি। কাঁঠালিয়ার শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন বলেন, পটুয়াখালী, বরগুনা কিংবা মির্জাগঞ্জের মানুষকে সড়ক পথে যাতায়াতের জন্য বরিশাল হয়ে ৪০-৫০ কিলোমিটার ঘুরে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া বা পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া আসতে হয়। বিশখালীতে ফেরি চলাচল শুরু হলে সময় সাশ্রয় ও দূরত্ব কমে যাবে। উপবিভাগীয়  প্রকৌশলী  মোঃ নাবিল হোসেন বলেন, ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাসহ ৪ কিলোমিটার খানাখন্দযুক্ত সড়কটির পাকাকরণ এবং মেরামতের জন্য ২ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার টেন্ডারের পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে। শীঘ্রই সড়কটির কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ