ঢাকা, বৃহস্পতিবার 23 November 2017, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে নজর দিন

২২ নভেম্বর, ডেইলি সাবাহ : তুরস্কের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গৃহীত পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। তিনি তুরস্কের বিষয়ে নজর না দিয়ে বরং ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর নজর দেয়ার জন্য ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার জাস্টিজ এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) সাপ্তাহিক সংসদীয় দলের বৈঠকে এরদোগান এই আহ্বান জানান।

এরদোগান বলেন, ইইউ যেখানে তার নিজেকে একত্রিত করতে সংগ্রাম করছে, সেখানে তারা তুরস্কের প্রতিটি বিষয় নিয়ে তাদের আঙুল নাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি ইইউ কর্তৃক আঙ্কারার প্রাক-সংযোজন তহবিল কর্তন এবং সরকার গঠনের জন্য জার্মানির ব্যর্থ প্রচেষ্টার বিষয়টি উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ‘তারা (ইইউ) ইতোমধ্যেই আমাদের জন্য তহবিল ছাঁটাই করেছে। আপনার উচিৎ হবে প্রথমে আপনার দেশ থেকে সন্ত্রাসীদের নির্মূল এবং নিজস্ব সরকার গঠনের ওপর ফোকাস করা।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে তীব্র হয়ে ওঠছে। বিশেষত জার্মানির সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইইউ সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা আঙ্কারার জন্য ১০৫ মিলিয়ন ইউরোর অর্থায়ন প্রকল্প কর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; যা ২০১৮ সালের মধ্য প্রদান করার জন্য নির্ধারিত ছিল।

ইইউ বলছে যে তুরস্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আঙ্কারা এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছে যে তুরস্কের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে ইইউ অর্থায়ন প্রকল্পকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

অর্থায়ন প্রকল্প কর্তনের বিষয়ে দেশটির ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থনৈতিক বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা মেহমেদ শিমসেক বলেন, ইইউ তহবিলের ১০৫ মিলিয়ন ইউরো কর্তনের বিষয়টি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তুরস্ক মোট বাহ্যিক অর্থায়নে বছরে ১৭৮ বিলিয়ন ইউরো খরচ করে থাকে।’

তুরস্ককে নিয়ে জার্মানির হার্ড লাইন নীতির জন্য আঙ্কারা জার্মানির সমালোচনা করছে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল জানিয়েছেন যে তিনি আঙ্কারার ইইউ ইস্যু নিয়ে অন্যান্য ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

তুর্কি কর্মকর্তারা বলছেন যে কেবল ভোটের জন্য তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বিসর্জন দেয়া ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের উচিৎ নয় এবং চাপের মুখে আঙ্কারা কোনো ধরনের নতি স্বীকার করবেনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ