ঢাকা, রোববার 26 November 2017, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২8, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা পিঠা-পুলির দোকানে ভীড়

মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, দিনাজপুর : শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দিনাজপুর শহরে চিতই ও ভাপা পিঠা ব্যাবসা জমে উঠেছে। রাস্তার মোড়সহ ধারগুলোতে এই দোকানগুলোর সমারোহ ঘটেছে। চিতই ও ভাপা পিঠা এখন  রমরমাভাবে বেচাকেনা চলছে। এই প্রচণ্ড শীতে ঘন কুয়াশার মাঝে নিম্ন শ্রেণি ও স্বল্প আয়ের লোকজন চুলার আশেপাশে ঘিরে বসে মনের আনন্দে আগুন তাপার পাশাপাশি পিঠার স্বাদ গ্রহণ করছেন। এবার নবেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতের তীব্রতাকে সামনে রেখে দিনাজপুরে এবার আগাম চিতই ও ভাপা পিঠা ব্যাবসা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শহরের মোড় ও রাস্তার ধার, বস্তি এলাকাগুলোতে অসংখ্য চিতই ও ভাপা পিঠা দোকানের সমারোহ ঘটেছে। কুয়াশা ঘেরা ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত এই দোকানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে পিঠার বেচাকেনা হয়। পিঠার সাথে ফ্রি ধনে পাতার চাটনি, ঝাল-টক আচার বা গুড়। একটি চিতই ৫ টাকা। আবার ডিমের চিতই খেতে গেলে দাম দিতে হয় ১৫ টাকা। ভাপা পিঠার মূল্য ১০ টাকা। ভাপা পিঠার ভেতরে থাকে গুড় ও নারিকেল। যার জন্য এর সাথে কোন মুখ রোচক দ্রব্য দেয়া হয় না। এছাড়া যারা মিষ্টি প্রিয়, তাদের জন্য রয়েছে পোয়া পিঠা। এর একেকটির মূল্য ৫ টাকা। শহরের বিভিন্ন স্থানে এবার প্রায় ২শ চিতই-ভাপা পিঠার দোকানের পসরা বসেছে। শহরের লোকভবন, মুন্সীপাড়া, নিমতলা, পাহাড়পুর, বাহাদুর বাজার, রেল স্টেশন চত্বর, কাচারী চত্বর, লাইন পাড়, টার্মিনাল, বালুয়াডাঙ্গা মোড়, রেল ঘুমটি, হাসপাতাল মোড়, ষষ্টিতলা, অন্ধ হাফেজ মোড়, পুরোনো রেল ব্রিজ, রামনগর, হঠাৎপাড়া, চারুবাবুর মোড়সহ শহরের অগণিত পাড়া মহল্লায় এসব ছোট-বড় পিঠার দোকান দেয়া হয়েছে। শীতের তীব্রতা যতই বাড়ছে, ততই এসব দোকানের বেচাকেনা বাড়ছে। বালুয়াডাঙ্গা মোড়ের দোকানদার হারিসুল ইসলাম জানায়, সে চিতই ও ভাপা পিঠা ব্যাবসা প্রত্যেক মওসুমেই করে। এ পিঠার সাথে সে গরুর পায়া, লেহেরী, মুরগীর লটপটি ও হাঁসের গোস্ত বিক্রি করে থাকে। প্রায় সারা বছর সে পিঠার দোকান করে আসলেও শীত কালে তার বেচাকেনা বৃদ্ধি পায় দ্বিগুণ হারে। এবার শীতের জন্য সে আগাম পিঠার চালসহ মালামাল সংগ্রহ করে রেখেছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ