ঢাকা, সোমবার 27 November 2017, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জামালপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জেনারেটর বিকল ॥ রোগীদের চরম দুর্ভোগ

 

জুলফিকার আলম, জামালপুর সংবাদদাতা : জামালপুরে ২৫০ শয্যার বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক জেনারেটরটি বিকল থাকায় রোগিদের চরম দুর্ভোগসহ স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০০ সালে তৎকালীন আ’লীগ সরকারের আমলে প্রায় ২৫ লাখ ২৪ হাজার ৬শত টাকা ব্যয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক জেনারেটরটি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়। জেনারেটরটি স্থাপনের পর ২৫০ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণী ব্যবস্থার যে কোন সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে এই জেনারেটর দিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচার কক্ষসহ সকল ওয়ার্ডের, বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব হত। কিন্তু এই ক্ষমতাসম্পন্ন মূল্যবান জেনারেটরটি স্থাপনের পর থেকে অনভিজ্ঞ একজন হাতুড়ে মিস্ত্রি দিয়ে মেরামত করিয়ে আসছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই এ কারণে দিনের পর দিন জেনারেটরটি বিকল হয়ে পড়েছে। সর্ব শেষ ২০১৬ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত জেনারেটরটি সচল অবস্থায় ছিল। তার পর থেকে ১৮ মাস ধরে হাতুড়ে মিস্ত্রি মেরামতের কাজ করেও জেনারেটরটি সচল করতে পারেনি। অথচ হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ের হিসাব শাখা সূত্রে জানা যায় ওই মিস্ত্রি জেনারেটর সচল করতে না পারলেও তার মেরামতের মজুরী বাবদ প্রায় ১লাখ টাকার বিল দাখিল করেছেন। ফান্ডে টাকা বরাদ্দ না থাকার কারণে বিলটি পরিশোধ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন। 

অপরদিকে গত ১৬ নবেম্বর রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণী ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ঘটে। এতে টানা প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টাব্যাপী বিদ্যুৎবিহীন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়। এ সময় জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পুরো এলাকাটি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। ফলে হাসপাতালে জেনারেটর চালু না করায় মুমূর্ষু রোগিদের জীবন মরণ আশংকা দেখা দেয়। ফলে বিষয়টি রোগিদের স্বজন, শহরবাসীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মরত লোকজনের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দুর্যোগ মুহূর্তে জেনারেনটর চালু রাখার নিদ্দের্শনা থাকলেও জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা মানছেন না। ফলে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে প্রায় ১৮ মাস ধরে জেনারেটরটি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের মুহূর্তে জরুরি সার্জারি এমনকি জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হয়ে আসছে। যেন দেখার কেউ নেই। জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, জেনারেটর বিকল এ কথা ঠিক না। জেনারেটর ঠিক আছে এমনকি তৈলও মজুদ আছে। হাসপাতাল দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘন্টা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকা প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। জানালে সাথে সাথেই তার ব্যবস্থা নিতাম।

এদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরটি বিকলের কারণ। জেনারেটরটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর, জামালপুর-শেরপুর ইউনিটের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ আলী বলেন, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরটি সঠিকভাবে পরিচালনা বা রক্ষণাবেক্ষণ না কারার কারণে হয়তো ত্রুটিপূর্ণ হয়ে গেছে। এই ধরনের একটি জেনারেটর নতুন করে স্থাপন করতে গেলে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি টাকা লাগতে পারে। তাই একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৌশলী দিয়ে সঠিকভাবে মেরামত করা হলে আবারও জেনারেটরটি চালু করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। হাসপাতালের অধিকাংশ টয়লেটের দরজা ভাংগা, কোনটি একটি দরজা রয়েছে তাও আবার পানি ব্যবহার করার জন্য বদনাও নেই। এদিকে রাতে হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকলে একদিকে যেমন চিকিৎসা সেবা চরমভাবে বিঘিœত হয়ে থাকে, ঠিক তেমনি বিদ্যুৎবিহীন থাকলে মাদকাসক্ত ব্যক্তি, এমনকি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ