ঢাকা, সোমবার 27 November 2017, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দাকোপের কামারগোদা খালের মিষ্টি পানি বদলে দেবে কৃষক পরিবারের ভাগ্য

 

খুলনা অফিস : খুলনার দুর্যোগ প্রবণ উপজেলা দাকোপের কামারখোলা ইউনিয়নে সম্ভাবনাময় কামারগোদা খালের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। যা খালটি রক্ষা করে মিষ্টি পানির আধার ধরে রাখার মাধ্যমেই সহজ হতে পারে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইজারা বাতিল করে খাল উন্মুক্ত রাখার দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

কৃষি এবং মৎস্য চাষের জোন হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপ বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কর্মহীন এলাকায় পরিণত হয়েছে। জীবিকার তাগিদে এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এখন কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ২০০৯ সালের গত ২৫ মে আইলার প্রভাবে দাকোপের বিধ্বস্ত অর্থনীতির চাকা সচল করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আইলার পর ২১ মাস পানিবন্দী অবস্থায় থাকায় উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নে আজও ফিরে আসেনি কর্মপরিবেশ। এখানকার চাষাবাদের জমিগুলোতে পলি পড়ে কোথাও বেশি উঁচু আবার কোন কোন এলাকায় ওই সময়ের পানি সরবরাহের ফলে অধিক নিচু হয়ে আছে। পাশাপাশি লবণাক্ত আবহাওয়া এবং পানি সঙ্কটের কারণে ২টি ইউনিয়নের কৃষি ও মৎস্য সেক্টর অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখিন। কামারখোলা ইউনিয়নের একটি মাত্র খাল কামারগোদা খাল নামে যেটি পরিচিত, সেটি এখন মিষ্টি পানির আধার। ওই খালের পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে কৃষি এবং মৎস্য চাষের মাধ্যমে এলাকার আর্থ সামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে এমন ধারণা এলাকাবাসীর। ওই খাল সংলগ্ন এলাকায় বেসরকারি সংস্থা জেজেএস রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য এবং সবজি চাষে জনসাধারণকে উৎসাহিত করতে পাইলট প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। তাছাড়া বিভিন্ন রাস্তার দু’ধারে তারা বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

গত ২১ আগস্ট ওই প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের এক সভায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল এবং এলাকার চাষি প্রতিনিধিরা ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে কামারগোদা খাল অবমুক্ত রাখতে প্রশাসনের নিকট দাবি তোলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার বিকেলে ইজারা প্রথা বাতিল করে কামারগোদা খাল অবমুক্ত করার দাবিতে জয়নগর বাঁধে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডলের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন কামারখোলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি দীপংকর রায়, উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি সমরেশ ঘরামী, ইউনিয়ন আ’লীগ সভাপতি হিমাংশু সরকার, অরবিন্দু সরদার, এ ইউপি সদস্য আ. সাত্তার সানা, মনিরুল শিকদার, সুশংকর বাছাড়, ননীগোপাল মাঝি, সুজিত রায়, রফিকুল ইসলাম ছোট্ট, রাজ্জাক গাজী, স্বপন বাছাড়, সুধারানী জোয়াদ্দার, বিথীকা রায়, কৃষক প্রবীর মোড়ল, দীপক রায়, পংকজ মন্ডল, রনজিত মন্ডল, মোজাফ্ফার সানা, শশাংক রায়, হিমাংশু রায় প্রমুখ। সমাবেশে অভিযোগ করে বলা হয় আদালতে বিচারাধীন বিষয় থাকা সত্ত্বেও জনৈক লতিফকে সামনে রেখে প্রভাবশালী বহিরাগত মহল খাল দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা যে কোন মূল্যে ওই খালকে উন্মুক্ত রাখতে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

চাষি কৃষ্ণপদ ঘরামী, দেবব্রত মন্ডল, প্রভাষ মন্ডল, মঙ্গল কৃষ্ণ মন্ডল, সন্তোষ মন্ডল জানান, আইলার পর থেকে কেবলমাত্র আমন চাষের ওপর নির্ভরশীল থেকে আমরা কোন রকম জীবন ধারণ করে বেঁচে আছি। কিন্তু গত বছর এই কামারগোদা নদীর মিষ্টি পানি ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন এনজিও’র উৎসাহে আমনের পাশাপাশি বোরো ধান, তরমুজ, মিষ্টি কুমড়ো, উচ্ছে, বাঙ্গি, ঢেঁড়শসহ অন্যান্য সবজির চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি। যে কারণে এখন অনেকেই ওই সমস্ত চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বাধা খালের পানির অবাধ ব্যবহারের সুযোগ না পাওয়া। মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে গত ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস ওই খালে ৭২২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মারুফুল আলম বলেন, খালে আড়াআড়ি নেটপাটা ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারো জমি খালের মধ্যে আসলে তিনি কেবল সেই অংশে নেটপাটা দিতে পারেন, কিন্তু পুরো খাল এভাবে আটকে দেয়ার কোন অধিকার কারো নেই। তিনি এলাকার দরিদ্র কৃষকদের জন্য খালের পানি অবমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল বলেন, অভাবের তাড়নায় আমার ইউনিয়নের মানুষ এখন শ্রম বিক্রি করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে। অথচ এই খাল যদি আমরা অবমুক্ত রাখতে পারি তাহলে ৬ গ্রামের সহস্্রাধিক পরিবার এর ওপর জীবিকা নির্বাহ করে বেঁচে থাকতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ