ঢাকা, সোমবার 27 November 2017, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র আবারো গভীর খাদের কিনারে -খালেদা জিয়া

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমাদের গণতন্ত্র আবারো গভীর খাদের কিনারে গিয়ে পড়েছে। ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ফের গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় দুঃশাসনের করাল গ্রাসে গিলে ফেলা হয়েছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলা। গণতন্ত্রের শত্রুরা গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে।  স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার গণমাধ্যমে দেয়া এক বাণীতে বেগম খালেদা জিয়া এসব বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম।  স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের লেলিয়ে দেয়া পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন তিনি। তার শাহাদৎ বার্ষিকীতে আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।
তিনি বলেন, একনায়কতান্ত্রিক দুঃশাসনের শৃঙ্খল থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে গিয়েই শহীদ হয়েছেন ডা. শামসুল আলম খান মিলন। গণতন্ত্রের জন্য তার এই সর্বোচ্চ আত্মদান এদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সব কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী গণতন্ত্র বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে ডা. মিলন আমাদের অবিরাম প্রেরণার উৎস।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা অপহরণ করা হয়েছে। মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ। মানুষের কথা বলা ও ভোটের অধিকার হরণ করে অতীতের বাকশাল এখন নবসংস্করণে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। গণতন্ত্র ধ্বংসকারী অপশক্তিগুলোর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্রকে মজবুত ভীতের ওপর দাঁড় করাতে হবে। আর তাহলেই ডা. মিলনের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।
ভিন্ন এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখররুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ ডাঃ মিলন দিবসে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি পালন করেছিলেন অকুতোভয় সৈনিকের ভূমিকা। তার আত্মদানের মধ্য দিয়ে নয় বছরের স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। বুকের রক্ত ঢেলে তিনি এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত করে গেছেন। এখন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার মাধ্যমেই আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি। সে লক্ষ্য অর্জনে শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ আমাদেরকে প্রেরণা জোগাবে। আজকের এই দিনে গণতন্ত্রের পথ চলাকে নির্বিঘœ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।
কর্মসূচি: এদিকে আগামীকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় বিএনপি এবং ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত শহীদ ডা: শামসুল আলম মিলনের মাজার এবং টিএসসি মোড়ে মিলন চত্তরে সকাল ৮টায় পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। পুস্পার্ঘ্য অর্পণ অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং ৯০’র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে যথাসময়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বর ও মিলন চত্বরে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ