ঢাকা, সোমবার 27 November 2017, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইয়া নবী সালাম আলাইকা ইয়া রাসূল সালাম আলাইকা

মিয়া হোসেন : বিশ্বের অবহেলিত নির্যাতিত মজলুম মানুষের নেতা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন মানব জাতির জন্য এক জীবন্ত আদর্শ। তাই যতদিন এই পৃথিবী থাকবে ততদিন তাঁর আদর্শের আবেদন মানবজাতির নিকট অনিবার্য রূপে অব্যাহত থাকবে। বিশেষত ঈমানদার মুসলমানরা মহানবীর (সাঃ) আদর্শকে সর্বোত্তম নমুনা হিসেবে গ্রহণ করবে এটাই স্বাভাবিক ও অপরিহার্য। এর আলোকেই মুসলমানদের দৈনন্দিন কাজকর্ম চিন্তা-চেতনা নিয়ন্ত্রিত ও পালিত হবে কোন অপশন ছাড়াই। সকল পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও তৎপরতা এই মানদন্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে। কারণ রাসূলের আদর্শের কোন বিকল্প নেই তাদের জন্য। মহান রাব্বুল আলামীন বলেন, তোমাদের জন্য রাসূল (সাঃ)-এর আদর্শই সর্বোত্তম আদর্শ। হযরত আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রাসূল (সাঃ)-এর চরিত্র কেমন ছিল। তিনি বলেছিলেন, পবিত্র কুরআনই ছিল তার চরিত্র। বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জীবনের সকল দিক ও বিভাগে অনুসরণযোগ্য আদর্শ রেখে গেছেন। তার আদর্শের মধ্যেই নেতা, কর্মী, শাসক, শাসিত সকলের জন্য পথের দিশা। তথা হেদায়েতের আলো রয়েছে। রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, কূটনীতি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাসূল (সাঃ) মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। অতএব তার জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
বদর প্রান্তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হস্তে বিদ্যমান লাঠি দ্বারা সৈন্যদের কাতার সুবিন্যস্ত করেন, এ সময়, ছাওয়াদ বিন গাজিয়াহ কাতারের বাহিরে থাকার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পেটে লাঠি দ্বারা খোঁচা মেরে বললেন, হে ছাওয়াদ, সোজা হয়ে দাঁড়াও। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল আপনি আমাকে কষ্ট দিয়েছেন অথচ আল্লাহ আপনাকে হক ও ইনসাফ সহকারে প্রেরণ করেছেন। আপনি আমাকে আপনার কাছ থেকে কিসাস (প্রতিশোধ) নেয়ার সুযোগ করে দিন। এ-কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তুষ্ট চিত্তে নিজের পেট খুলে দিলেন এবং বললেন : হে ছাওয়াদ! তুমি আমার কাছ থেকে কিসাস নিয়ে নাও। কিন্তু ছাওয়াদ তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তাঁর পেটে চুমু খেলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে ছাওয়াদ তুমি এ রকম কেন করলে? উত্তরে বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা দেখছেন (যুদ্ধ) তা একেবারে সন্নিকটে, অতএব, আমার ইচ্ছা হচ্ছে, আমার চামড়া আপনার চামড়ার সাথে স্পর্শ হওয়া যেন আপনার সাথে শেষ মিলন হয়। এ কথা শ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কল্যাণের দোয়া করলেন।
আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব বদর যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচা হওয়ার সুবাদে আনসারগণ বিনা মুক্তিপণে ছেড়ে দেয়ার আবেদন করলেন। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, তার জন্য এক দিরহামও ছাড় দিয়ো না।
এ দ্বারা রাসূলের লক্ষ্য হচ্ছে, যাতে সবার সাথে সমান আচরণ হয়, কোনভাবেই স্বজনপ্রীতি প্রকাশ না পায়।
প্রয়োজনের অধিক পার্থিব বস্তু ভোগ পরিহার করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল জীবন যাপন করতেন। একদা উমর (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলেন, তখন তাঁকে খেজুর-আঁশ-ভর্তি চামড়ার বিছানায় দেখে বললেন, কায়সার ও কিসরা (রোম ও পারস্যের সম্রাটরা) এমন (অনেক আরামদায়ক) স্থানে ঘুমায়, অথচ আপনি আল্লাহর রাসূল, তবুও আপনি ঘুমান এরকম বিছানায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সাথে দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের সাথে কীসের সম্পর্ক? আমি তো এখানে পথিকের মত, যে গাছের ছায়া গ্রহণ করে, অতঃপর তা ছেড়ে চলে যায়। (তিরমিজী-২২৯৯)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেন, হে আল্লাহ মুহাম্মদের পরিবারের জীবিকা পরিমিত মাত্রায় দান কর। (বুখারী-৫৯৭৯)
তাঁর দুনিয়া বিমুখতার অন্যতম প্রমাণ হচ্ছে, তিনি যখন ইহকাল ত্যাগ করেন, তখন তাঁর ঘরে কেবল আয়েশার আলমারিতে স্বল্প পরিমাণে গম ছাড়া কিছুই ছিল না। একটি লৌহ বর্ম ছিল, সেটিও ত্রিশ সা (প্রাচীন আরবে প্রচলিত পরিমাপের নির্দিষ্ট একটি ওজন) খেজুরের বিনিময়ে এক ইহুদির নিকট বন্ধক ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ