ঢাকা, বুধবার 29 November 2017, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাষ্পচালিত রকেট নিয়ে পৃথিবীটা ‘চ্যাপ্টা’ প্রমাণ করতে চান মাইক

ইন্টারনেট: পৃথিবীটা নাকি চ্যাপ্টা! জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও মহাকাশচারীরা চক্রান্ত করে যুগ-যুগ ধরে মানুষকে বোকা বানিয়ে আসছেন! ইতিহাসের কেউ নন, এই দাবি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্বঘোষিত বিজ্ঞানী মাইক হিউজ। ঘোষণা করেছেন, হাতেকলমে তিনি বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেবেন, মোটেও গোল নয় প্রৃথিবী! কী ভাবে? মাইক জানিয়েছেন, কালই তিনি রকেটে প্রাড়ি দেবেন  গোল’ প্রৃথিবীর ভাঁওতা ফাঁস করতে। রকেট পেলেন কোথায়? বছর একষট্টির এই লিমোচালকের দাবি, নিজের গ্যারেজে ছাঁট লোহা দিয়ে তিনিই বানিয়েছেন বাষ্পচালিত রকেট। এটা তাঁর ‘ফ্ল্যাট আর্থ স্পেস প্রোগ্রাম’-এর প্রথম দফা। এর জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি ভিডিওয় মাইক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমি বিজ্ঞানে বিশ্বাস করি না। আমার এই প্রয়াস চিরকালের জন্য গোল পৃথিবীর তত্ত্বটাকে একেবারে গুঁড়িয়ে দেবে।’ বিজ্ঞানে বিশ্বাস নেই, মহাকাশ ও উৎক্ষেপণ নিয়ে কোনও প্রশিক্ষণও নেই, কীভাবে বানালেন রকেট? মাইকের বক্তব্য, ‘বায়ুগতিবিজ্ঞান ও তরলগতিবিজ্ঞান সম্বন্ধে আমার জানা রয়েছে। হাওয়া দিয়ে  কোনও জিনিস কী ভাবে এক জায়গা  থেকে অন্যত্র যাবে,  সেই বিষয়ে ধারণাও রয়েছে। আর রকেটের মুখের মাপও আমি জানি। এগুলোর কোনওটাই বিজ্ঞান নয়। শুধু একটা সূত্র মাত্র!’ কিন্তু কী ভাবে প্রৃথিবীকে চ্যাপ্টা প্রমাণ করবেন তিনি? মাইক জানাচ্ছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ভূতুড়ে’ শহর অ্যামবয়  থেকে কাল নিজের  তৈরি রকেটে  চেপে প্রাড়ি  দেবেন তিনি। রকেট উৎক্ষেপণের আগে কাল সকালেই বড় একটি স্টিলের ট্যাঙ্কে প্রায় ৭০ গ্যালন জল গরম করবেন। এর প্রর বাষ্পের চাপকে কাজে লাগিয়ে ছিটকে উঠবেন তিনি। মাইল খানেক উড়ে খুলবেন দু’টি প্র্যারাস্যুট। স্থানীয় সময় দুপুর দু’টো  থেকে তিনটের মধ্যে এই  গোটা ঘটনা মাইকের ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ  দেখানো হবে। মাইকের ধারণা, ক্যামেরায়  দেখা যাবে,  মোজাভে মরুভূমির উপর দিয়ে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার  বেগে উড়ে যাচ্ছেন তিনি। উদ্দেশ্য, ১০ মাইল উচ্চতায় ওঠা, যাতে নাকি প্র্রমাণ হয়ে যাবে  যে, প্রৃথিবীটা আকারে একটা চাকতির মতো। উড়ান কাল। মাইকের এখন তাই দম  ফেলার সময়  নেই। রকেটের সব ঠিকঠাক আছে কি না, দিনভর  সেই সব দেখাশোনা করেছেন। প্রুষ্যি চারটে বিড়ালের জন্য জমিয়ে  রেখেছেন প্রর্যাপ্ত খাবারদাবার। প্রৃথিবী নিয়ে মাইকের এই আজব তত্ত্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে  কে সি প্রালের কথা। কলকাতা-হাওড়ার প্রথের প্রাশে যিনি লিখে রাখতেন, সূর্য প্রাক খায় প্রৃথিবীকে। চল্লিশ বছর ধরে এই প্র্রচার চালিয়ে নিঃস্ব এখন বাংলার এই স্বঘোষিত ‘বিজ্ঞানী’টি। মাইক  কেন এমন কাজে  মেতেছেন? জবাবে বললেন, ‘ কেউই  তো চিরকাল বাঁচব না। তাই অসাধারণ কিছু করতে চাই, যা অন্য  কেউ করতে প্রারবে না। এজন্য নিজেই নকশা ও রকেট বানিয়ে নিজেকেই উৎক্ষেপণ করছেন, এমন ঘটনা  তো মানবজাতির ইতিহাসে আগে কখনওই ঘটেনি!’ মাইকের প্ররের লক্ষ্য, ক্যালিফোর্নিয়ার গবর্নর হওয়া! তাঁর বন্ধু-বান্ধবের চিন্তা, কাল  বেঁচেবর্তে ফিরুক প্রাগলটা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ