ঢাকা, শুক্রবার 1 December 2017, ১৭অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা নির্যাতন আড়াল করতে বর্মী সেনা প্রধানের মিথ্যাচার

কামাল হোসেন আজাদ/ শাহজালাল শাহেদ, কক্সবাজার: বরাবরই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও কোন ধরনের নিপীড়ন চালানো হয়নি বলে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে মগসেনারা। সেদেশের মগপ্রশাসনের রহস্যজনক আচরণে বেপরোয়া নীতি অবলম্বন করে চলেছে উগ্রপন্থীরাও। ফলে রাজ্যটিতে কোনভাবেই মুসলমান থাকার কিংবা ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেকাংশেই ক্ষীণ। 

সূত্রমতে, বার্মার মুসলমানদের উপর কট্টরপন্থী বৌদ্ধ ও চরমপন্থী সেনাবাহিনী নির্যাতনের স্টিম রোলার চালালেও তা অস্বীকার করছে বার্মিজ সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অংহ্লাইং । বার্মাতে কোনও ধর্মীয় বৈষম্য নেই বলে দাবি করছেন তিনি । সফররত পোপ ফ্রান্সিসকে আকষ্মিক বৈঠক করতে বাধ্য করে কি আলোচনা হয়েছে তা জানান দিতে মূলত মিথ্যাচার করেন সেনাপ্রধান ।

জানাগেছে, সফরসূচি অনুযায়ী বার্মার সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি সিনিয়র জেনারেল মিং-এর সঙ্গে পোপের নির্ধারিত বৈঠকটি ৩০নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে অনানুষ্ঠানিক এক রুদ্ধদার বৈঠক করতে পোপকে বাধ্য করে অংহ্লাইং। সেখানে কি আলোচনা হয়েছিল তা সংবাদকর্মীদের জানতে দেয়া হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা বিষয়ে কোন কথা বলতে নিষেধ করা হয় পোপকে । এ বৈঠক সম্পর্কে মিন অংহ্লাইং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। তাতে লিখেন, পোপকে বলা হয়েছে বার্মায় কোন ধর্মীয় বৈষম্য নেই।

অথচ, যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গারা মুসলমান বলে বৌদ্ধ ও বৌদ্ধবাদপন্থী সরকার তাদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে । শুধু রোহিঙ্গা নয়, বার্মার অপরাপর মুসলমানদেরও নির্যাতন করছে। একটার পর একটা মসজিদ-মাদরাসা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে আজান দেয়া, জামায়াতে নামাজ পড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে পারছে না মুসলমানেরা। সর্বশেষ গত জুনে ইয়াঙ্গুনে ২টি মসজিদ ও ২টি মাদরাসা সিলগালা করেছে সরকার। আরাকানে তো প্রতিনিয়ত মুসলমানের রক্তের বন্যা বয়ে চলেছে।

এদিকে সেনা প্রধানের কথার জবাবে পোপ ফ্রান্সিস কি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন- তা উল্লেখ করা হয়নি বার্মার পক্ষ থেকে। তবে মাবাথার হুমকি, সরকারের নিষেধ এবং সেনাবাহিনীর চাপাচাপিতে পোপের নীরবতা দৃশ্যমান। সু চির সাথে বৈঠকের পর দেয়া ভাষণে তিনি রোহিঙ্গাদের কোন কথা সরাসরি বলেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ