ঢাকা, শুক্রবার 1 December 2017, ১৭অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তদবিরকারীকে বের করে  দিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান  বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার : ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিনের শর্ত সংশোধন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার শর্তে জামিনের আদেশ বহাল থাকলো। শুনানির এক পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা জানান তার চেম্বারে জামিনের ব্যাপারে দেখা করতে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। আর এই ঘটনায় ভীষণ বিব্রত হয়ে ওই ব্যক্তিকে বের করে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এই মামলার শুনানি অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ডেসটিনি গ্রুপের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার জামিনের শর্ত সংশোধন চেয়ে করা আবেদনের শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এ কথা জানান। পরে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ এ খারিজ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন-বিচারপতি মো. ঈমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার।

শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা বলেন, ডেসটিনির পক্ষে এক ব্যক্তি আমার চেম্বারে এসে দেখা করে ডেসটিনির বিষয়ে কথা বলতে চায়। এতে বিব্রত হয়ে তাকে বের করে দিয়েছি। তাই এ মামলা শুনানিতে ও বিব্রতবোধ করছি।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগ অর্থ পরিশোধের শর্তে তাদের জামিন দিয়েছিলেন। ওই শর্ত সংশোধন চেয়ে তারা আবেদন করেছিলেন। তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

গত বছরের ২০ জুলাই অর্থ পরিশোধের শর্তে রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেনকে জামিন দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। আপিল বিভাগ ওই দুজনের জামিন স্থগিত করে দেন। এ আবেদনের শুনানির একপর্যায়ে আত্মসাত করা টাকা জমা দেয়ার কথা বলেন সর্বোচ্চ আদালত। সে অনুসারে গত বছরের ১৩ নবেম্বর ডেসনিটির পক্ষ থেকে গাছ বিক্রি করে টাকা দেয়ার কথা বলা হয়।

ওই দিন হলফনামা দিয়ে আদালতকে জানানো হয় যে, তাদের কাছে ৩৫ লাখ গাছ আছে। প্রতিটি গাছ আট হাজার টাকায় বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে পারবেন তাঁরা। এর প্রেক্ষিতে জামিনের শর্ত পূরণে আপিল বিভাগ দুই আসামী যে কারাগারে আছেন, সেখানে তাদের সঙ্গে গাছ বিক্রির সব কাগজপত্রে স্বাক্ষর ও আলোচনার সুযোগ দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ডেসটিনি ট্রি-প্ল্যান্টেশনের সিইও ড. শামসুল হক ভূঁইয়া এমপির তত্ত্বাবধানে সব কাজ সম্পন্ন হবে। যদি গাছ বিক্রি করে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে না পারেন, তাহলে নগদ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেবেন তারা। এর অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে পাঠাতে হবে। এরপর যারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, যাচাই করে তাঁদের কাছে টাকা হস্তান্তরের পর জামিনে মুক্তি পাবেন দুই কর্মকর্তা। কিন্তু কয়েক মাস পরে তারা এ আদেশের সংশোধন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে কারাগারে থাকায় এ শর্ত পূরণ সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তারা। এ আবেদনেরই শুনানিতেই আদালত ডেসটিনির জব্দকৃত অর্থের পরিমাণ তলব করেন।

গত ৩০ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে ডেসটিনির জব্দকৃত স্থাবর-অস্থাবর ৭৮৬ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৯৩ টাকা সম্পত্তির হিসাব আদালতে দাখিল করা হয়। যার মধ্যে নগদ অর্থ হচ্ছে ১৫৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৯২ দশমিক ৯৩ টাকা। এ ছাড়া রয়েছে ১১২টি গাড়ি ।

তিন হাজার ২৮৫ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান ডেসটিনি গ্রুপের সভাপতি লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ ও ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ প্রতিষ্ঠানটির ২২ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় পৃথক দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ৪ মে এ দুই মামলায় অভিযোপত্র দেয় দুদক।

দুই মামলার মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেডের মামলার অভিযোগপত্রে এক হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাত এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়। অপর মামলাটি হয় ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন নিয়ে। এই মামলার অভিযোগপত্রে ২১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা আত্মসাত এবং পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ মামলার অভিযোগপত্রে আসামী করা হয় ৪৬ জনকে। ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন মামলার আসামী ১৯ জন। দুই মামলার অভিন্ন আসামী ১৪ জন। দুই মামলারই প্রধান আসামী রফিকুল আমিন। দুই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ১৫০ জনকে।

 

বঙ্গভবনে বিচারকদের

জন্য রাষ্ট্রপতির নৈশভোজ 

৩ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার : ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের বঙ্গভবনে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আগামী তিন ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে এই নৈশভোজ হবে। নৈশভোজে অংশ নিতে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের মধ্যে আমন্ত্রিতদের বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার জেনারেল মো. জাকির হোসেন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ