ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নয়

মাহমুদুল হক আনসারী : গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে জনভোগান্তি বাড়ছে। চাহিদানুপাতে গ্যাস বিদ্যুৎ সংযোগ থাকে না। শহরের বেশীরভাগ এলাকায় সকাল-বিকাল গ্যাস সংকট প্রকট। চুলা জ্বলে না, রান্না হয় না। হোটেল ও লাকড়ি নির্ভর হতে হয়। নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের কর্মজীবী মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়ছে গ্যাসের সরবরাহের কারণে। এমনিতেই লাইনে গ্যাস বিদ্যুৎ ঠিক মতো থাকে না। সেখানে অবৈধ সংযোগ দিয়ে কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে আরো ভোগান্তি বাড়ছে গ্রাহকদের। লাইন নিতে, সংযোগে দুর্নীতি, মিটারে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। গ্যাস বিদ্যুৎ ছাড়া মানব সমাজ অচল। মানুষ শহরে গ্যাস আর বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে জীবন পরিচালনা করে থাকে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া মানুষের উন্নয়ন বন্ধ। মিল-কারখানা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, বাসা-বাড়িতে গ্যাস বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন ও বেঁচে থাকা সবই অচল। তখন অচল হয়ে পড়ে মানুষ, অচল সমাজ, অচল রাষ্ট্র। রাষ্ট্রকে মানুষের ওই মৌলিক অধিকার পূরণে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। ক্ষুধার যন্ত্রণা মানুষ সহ্য করতে পারে না। ক্ষুধা মানুষকে সেন্সহীন করে ফেলে। ক্ষুধা নিবারণে মানুষকে পরিমাণমত যথাসময়ে খাওয়া দাওয়া করতে হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল শান্তভাবে রাখতে চাইলে মানুষের খাদ্যে ও জীবন চালানোর পথ সহজ করতে হবে। খাদ্যে প্রাপ্তি খাদ্যের চাহিদা, খাদ্যে তৈরীতে ভোগান্তি দেয়া যাবেনা। মৌলিক এ অধিকারকে নাগরিকের সাধ্যের মধ্যে রাখতে হবে। গ্যাস বিদ্যুৎ ছাড়া মানব সমাজ অচল। গ্যাসের উপর নির্ভর করেই শহরের মানুষের বসবাস, গ্যাস ছাড়া কোটি কোটি মানুষ তাদের নিত্যদিনের খাদ্য ও উৎপাদন থেমে রাখা যায় না। প্রতিদিন খাদ্য উৎপাদন ও মানব সমাজ বেঁচে থাকার জন্য গ্যাস বিদ্যুতের প্রয়োজন বাড়ছে। এ প্রয়োজনকে জনগণের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে। ঘনঘন মূল্যবৃদ্ধি কাম্য নয়। জনগণের আয় সে পরিমাণ বাড়ছেনা। নাগরিকের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যবৃদ্ধি কর্তন দরকার। যারা জমিদার হিসেবে ঘরবাড়ী তৈরী করে বাসা বাড়ীর আয় ইনকাম নিয়ে চলে তাদের তেমন অসুবিধা হয়না। তারা ১ টাকা বাড়লে ১০ টাকা বাড়িয়ে ভাড়াটিয়া থেকে তুলে নেয়। নি¤œ মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ, যারা শ্রমিক, দিন মজুর, ছোট খাটো চাকরিজীবী, গার্মেন্টসসহ মিল কারখানায় শ্রমের বিনিময়ে কাজ করে জীবনযুদ্ধে বেঁচে আছে, তাদের স¦ার্থে গণমানুষের কল্যাণ ও সুবিধায় গ্যাস বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়। শহরে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের কর্মমুখী জীবন তাদের বেঁচে থাকতে এ দুই মূল্যবৃদ্ধি সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিন্তা ভাবনা করতে হবে। বর্তমান সময়ে যে কোনো বেসরকারী মিল কারখানায় শ্রমিক চাহিদা কমে যাচ্ছে। বেতন ভাতা প্রয়োজন ও শ্রমের মূল্যানুপাতে পাওয়া যায়না। অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি উৎপাদন ও অর্থ সংকটে বন্ধ রয়েছে। আরো বহুসংখ্যক পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। এখানে কর্মরতদের মধ্যে লাখ লাখ শ্রমিক চাকরিনির্ভর। বাসা-বাড়িতে ভাড়া থেকে তাদের কর্মকারে জীবন জীবীকা নির্বাহ করতে হয়। তাদের পরিবার পরিজন ও সমাজ আছে। তারাও মানুষের মতো খেয়ে দেয়ে বাঁচতে চায় বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাদের নাগরিক অধিকার আছে বেঁচে থাকার, রাষ্ট্রকে এসব চিন্তা করে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গ্যাস বিদ্যুতের ঘন ঘন মূল্যবৃদ্ধি কখনো কাম্য নয়। অযাচিত ভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে সমাজ অস্থির হয়ে উঠে। নানাবিধভাবে মানুষের আয় ও ব্যায়ের মধ্যে এ সেক্টরের দুর্নীতি কমিয়ে আনতে হবে। অপ্রয়োজনীয় খাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। এ সব খাতে খরচ কমাতে হবে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সেক্টর গুলোকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সহনীয় হতে হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নের নামে বারবার অর্থ অপচয় করে জনগণের উপর বাড়তি চাপ মেনে নেয়া যায় না। জনগণের মাথার উপর ঋণের বোঝা বাড়ছে, এ বোঝা কমাতে হবে। জনগণ জন্ম ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঋণগ্রস্ত হচ্ছে, খবরের কাগজে দেখা যায় জন্মের সময় ১জন শিশু ৪৬ হাজার টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে ভূমিষ্ট হচ্ছে। তাহলে এতো গুলো ঋণ কোথায় কিভাবে কোন উন্নয়নে খরচ করা হয় সেটার যথাযত নিয়ন্ত্রণ ও তদারকী থাকতে হবে। জনগণের প্রয়োজনীয় পন্যে চাপ সৃষ্টি ও ভোগান্তি কাম্য নয়। অনুন্নত ও অউৎপাদনশীল খাতকে সংকোচিত করুন। সেখানে যেনোতেনো ভাবে অর্থ অপচয় না করে জনকল্যাণে অর্থ ব্যায় করুন। গ্যাস বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। আরো বাড়বে। দেশকে উন্নত ও গতিশীল রপ্তানিযোগ্য করতে হলে এ দুই পন্যের কোনো বিকল্প নেই। গ্যাস বিদ্যুতের সঠিক যোগান চাহিদা, মূল্য দুটুই ঠিক রাখতে হবে। এখানে কোনো দুর্নীতি রাষ্ট্রের জন্য উপকারে আসবেনা। ওইসব সেক্টরের বড় বড় দুর্নীতিবাজদের শায়েস্তা করুন। তাদের পকেট ভর্তি করে অনেক কর্মকর্তা হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের অনেক গুলো বিলাস বহুল বাড়িঘর আছে। অর্থের অভাব নেই। এ সব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অর্থ তালাশ করুন। তাদের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফিরিয়ে আনুন। তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করুন। তাহলে দুর্নীতি বন্ধ হবে। দুর্ণীতি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও কমে আনা যাবে। তাহলে আর জনগনের উপর গ্যাস বিদ্যুতের জন্য অন্যায়ভাবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ দিতে হবেনা। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে বাঁিচয়ে রাখতে হলে সর্বদা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। গ্যাস আর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ভোগান্তি ও বাসা বাড়ীতে ভাড়াটিয়াদের দুর্গতি বাড়াবে। লাভ হবে বাড়ীর মালিকদের। তাই এসব বিষয় গভীরভাবে চিন্তা করে গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য কার্যকর থামান। পর্যাপ্ত ভাবে বাসা বাড়ীর গ্যাস বিদ্যুতের সর্বরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ঘন ঘন গ্যাসের লাইন বন্ধ হওয়া বিদ্যুতের উটানামা বন্ধ করতে হবে। এ সেক্টরের দুর্নীতি থামান। দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের আইনের আওতায় আনুন। অপচয় ও অবৈধ লাইন বন্ধ করে রাষ্ট্রিয় অর্থ রাষ্ট্রিয় খাতে জমা করার ব্যবস্থা করুন। আসুন রাষ্ট্রের এ গুরুত্বপূর্ণ দুই সেক্টরের দুণীতি বন্ধ করে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে গ্যাস বিদ্যুতের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হোক। এ সেক্টরের দুর্নীতি বন্ধ করে এ খাতকে শতভাগ লাভজনক খাতে প্রতিষ্ঠা করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো সক্রিয় হতে হবে।
ইমেইল : mh.hoqueansari@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ