ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নাটোরে শ্রম বিক্রির হাট মজুরি বৈষম্যের শিকার নারী শ্রমিকরা

নাটোর  সংবাদদাতা : শরীর চাদরে মোড়া। হাতে কাস্তে-কোঁদাল আর দড়ি। কাঁধে ধান বাহনের বাক। এসব সরঞ্জামাদি নিয়ে ষাটোর্ধ্ব দিনমজুর আছির মিয়া নিজেকে হাটে তুলেছেন শ্রম বিক্রির জন্য। সময় তখন ভোর পাঁচটা। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হওয়ায় রিতিমতো জবুথবু অবস্থা তার। দিনমজুর আছির মিয়ার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার দবিরগঞ্জে। ভোর চারটায় দশ টাকা ভাড়ায় ট্রাকে চরে এসেছেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজার শ্রমিকের হাটে। এই হাটে শুধু যে আছির মিয়া এসেছেন তা নয়। প্রকৃতির সব প্রতিকূলতা পেছনে ঠেলে জীবিকার তাগিদে আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক এসেছেন শ্রম বিক্রি করতে। পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরাও আসে ওই হাটে শ্রম বিক্রি করতে। প্রতিটি পুরুষ শ্রমিকের মজুরি সাড়ে তিনশ থেকে পাঁচশ’ টাকা। আর নারী শ্রমিকের মজুরী দেড়শ টাকা থেকে আড়াইশ’ টাকা। কৃষকদের তথ্যমতে- দক্ষিণ চলনবিলের নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও পাবনার চাটমোহর উপজেলায় বিনাহালে রসুন রোপন আর আমন ধান কাটার উৎসবকে ঘিরে এই শ্রমিকের হাট বসে প্রতিদিন। এখানে উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ আসে শ্রম বিক্রি করতে। কৃষি অধিদপ্তর ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে- চলনবিলের পানি এখন ভাটির টান। জেগে উঠছে আবাদী জমি। দক্ষিণ চলনবিলের প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে চলছে ধান কাটার উৎসব। ধান কাটার পর নরম-কর্দমাযুক্ত পলিমাটিতে শুধু নাটোরের সাতটি উপজেলায় ২৫ হাজার ৭শ ৯৫ হেক্টর জমিতে বিনাহালে রসুন রোপনের কাজ শুরু হয়েছে। এসব কাজের চাহিদা মেটাতে চলনবিলের নিচু এলাকার শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শ্রমিকরাই এই শ্রমিকের হাটে আসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ