ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ঝিনাইদহে মরা খালে অফটেক রেগুলেটর নির্মাণ গচ্চা যাচ্ছে ২৮ লাখ টাকা

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ড উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের এই মরা সেচ খালে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অফটেক রেগুলেটর নির্মাণ করা হচ্ছে

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুরে গ্রামের একটি সেচ খাল দীর্ঘদিন ধরেই পরিত্যক্ত। বলা যায় বর্ষা মৌসুমেও সেই খাল দিয়ে পানি নিষ্কাষন হয় না। অথচ সেই মরা সেচ খালের অফটেক রেগুলেটর গেট নির্মানে সাড়ে ২৭ লাখ টাকা ব্যায় করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা সরকারী অর্থ পকেটস্থ করেছেন।
 ইতিমধ্যে গেটটি নির্মান না করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। এলাকাবাসিও মরা সেচখালে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যায়ে গেট নির্মানের বিরোধী।
তাদের ভাষ্য হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুরে গ্রামের টি-৬/এস-৫এ সেচ খালটি মরা। খননের পর থেকেই ওই খালে পানি নেই। তারপরও সেখানে গেট নির্মান করে সরকারী অর্থ তছরুপ করা হচ্ছে। এই টাকার গেট না করে সেচ খালের অন্য কাজে লাগালে কৃষকরা উপকৃত হতেন।
 হরিণাকুন্ডুর চাঁদপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ, অভিযোগ করেন এই খালটি চাঁদপুর থেকে যাবদপুর গ্রামের খালাশি সেড পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্য।
গত বছর দেড় কিলোমিটার খনন করা হলেও সেখানে পানি ওঠেনি। তারপরও দেড় লাখ টাকা ব্যায়ে তিনটি স্থানে আউটলেট বসিয়ে টাকা তছরুপ করা হয়েছে।
এলাকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, আউটলেট পয়েন্ট দিয়ে কৃষকের ক্ষেতে পানি সরবরাহ করা হয়। অথচ উক্ত সেচ খালে কোন পানিই নেই। অপ্রয়োজনীয় ভাবে আউটলেট বসানোর ফলে এলাকার কৃষকের কোন উপকারেই আসেনি বা কখনেই আসবে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুরে গ্রামের টি-৬/এস-৫এ সেচ খালে নির্মিত গেটটির ডিজাইন ও এষ্টিমেট কুষ্টিয়ার জেলার কোন একটি খালের।
সেই ডিজাইন ব্যবহার করে গেটটি নির্মান করায় খালের পাড় থেকে অনেক নিচে গেটটি নির্মিত হবে। যেনতেন ভাবে সরকারী বরাদ্দ আত্মসাৎ করতেই ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমানে মাগুরায় কর্মরত আব্দুল লতিফ, সহকারী প্রকৌশলী বর্তমান অবসর প্রাপ্ত মতিয়ার রহমান ও বর্তমানে বাগেরহাটে কর্মরত ঝিনাইদহের সাবেক শাখা কর্মকর্তা জাকারিয়া ফেরদৌস এই ভুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।
 অভিযোগ উঠেছে এই তিন কর্মকর্তা চলতি বছরের ১৫ মে তারিখে ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে অর্ধেক টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে ঝিনাইদহ ছেড়েছেন। কাজটি বাস্তবায়ন করছে চট্রগ্রামের পাচলাইশ এলাকার মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রদার্সা প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন দেখা গেছে মরাখালের সংযোগ স্থানে মাটি খুড়ে কাজ শুরু করেছেন।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দীন কাজের উদ্বোধনও করেছেন। ২০১৮ সালের ২২ জুনের মধ্যে কাজটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ সভাপতি খুরশিদ শরীফ জানান, ওই খালে পানি না ওঠার কারণে হরিণাকুন্ডুর যাদবপুর স্থানে একটি পাম্প বসিয়ে নদী থেকে পানি তুলে টি-৬/এস-৫এ সেচ খালে পানি দেওয়ার পরিকল্পনা ও ম্যাপ করা আছে। অথচ এই মরা খালে কি ভাবে ভিন্ন জেলার ডিজাইন কাজে লাগিয়ে গেট নির্মান হচ্চে তা বোধগম্য নয়।এ নিয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রইচ উদ্দীন জানান, আমি নতুন যোগাদান করেছি। তাই বিষয়টি নিয়ে আমার কিছুই বলার নেই।
উল্লেখ্য ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও বর্তমানে মাগুরায় কর্মরত আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে দুদকের গন শুনানীতে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠে। তিনি পছন্দের বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে ২৫% ঘুষ নিয়ে কাজ দেন। এ ভাবে তিনি সেচ খাল খনন ও মেরামত, ব্রীজ কালভার্ট এবং আউটলেট নির্মানে ১৫ কোটি টাকা ব্যায় করেন।এ নিয়ে দুদকের গণশুনানীতে কথা ওঠে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ