ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

হাছিনা ফাতেমারা আর ভিক্ষা করে না

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা: মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের হাছিনা,ফাতেমা,ময়ুরের নেছা, আমির হোসেনরা এখন আর ভিক্ষা করেনা। স্টেশনারীর দোকান, বাঁশের তৈরী চাটাই বিক্রী ও আয়বর্ধনমুলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তারা এখন ভিক্ষা বৃত্তি ছেড়ে দিয়েছে। নতুন করে শামছুন নেহার, কালো ত্রিপুরাও তাদের পুরোনো পেশা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করছে।
২০১৬ সালে করেরহাট ইউনিয়নকে ভিক্ষুকমুক্ত ইউনিয়ন ঘোষনার পর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিজন ভিক্ষুককে ১ লক্ষ করে অনুদান প্রদান করে তাদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন আয়বর্ধনমুলক কাজে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এর ধারবাহিকতায় ঘেড়ামারা এলাকার হাছিনা আক্তার, আমির হোসেন, দক্ষিন অলিনগর এলাকার ফাতেমা আক্তার, ময়ুরের নেছা তাদের নিজ এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দোকান দিয়েছেন। ব্যবসা থেকে যে আয় হয় লাভের কিছু অংশ দিয়ে সংসার পরিচালনা করে, বাকী টাকা দিয়ে ব্যবসার মুলধন বৃদ্ধি করছে তারা। ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সরে এসে সম্মানজনক পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পেরে তারা নিজেরা যেমন খুশি এলাকায়ও ভিক্ষা বৃত্তি বন্ধে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্ঠি হয়েছে। উন্নয়নসংস্থা অপকা দাতা সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় সমৃদ্ধি কর্মসূচীর আওতায় ভিক্ষুকদের এসব সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে। করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা এলাকার হাছিনা আক্তার বলেন, তার স্বামী মোখলেছ ৩ বছর আগে তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে ফেলে চলে যায়। সেই থেকে ছেলেকে নিয়ে মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভিক্ষা করতেন তিনি। ১ বছর আগে অপকা তাকে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়। সেই টাকায় তিনি নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দোকান দেন। দোকানের বিক্রী থেকে যে টাকা আয় হয় সেই টাকায় তিনি স্বাচ্ছন্দে সংসার চালাতে পারেন। একই এলাকার আমির হোসেন (৭৭) বলেন, ৩ বছর ধরে তিনি ভিক্ষা বৃত্তির সাথে জড়িত ছিলেন। অপকা থেকে অনুদানের টাকা পেয়ে তিনি নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দোকান দিয়েছেন। লাভের টাকার একটি অংশ দিয়ে সংসার চালান, বাকী অংশ দিয়ে দোকানের মুলধন বৃদ্ধি করেন। ভিক্ষা বৃত্তি ছেড়ে দেওয়ায় তিনি সম্মান বোধ করছেন। শনিবার (১৮ নভেম্বর) ভিক্ষুক পূনর্বাসনকর্মসূচীর আওতায় করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদে আরো দুজন শামছুন নেহার, কালো ত্রিপুরাকেও দুলাখ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। এই টাকা দিয়ে তারা দোকান দেবেন বলে জানান।  অপকা’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ আলমগীর বলেন, অপকা সমৃদ্ধি কর্মসূচীর আওতায় ইতোমধ্যে ৬ জন ভিক্ষুককে ৬ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে করেরহাট এলাকার সকল ভিক্ষুককে ভিক্ষা বৃত্তি থেকে সরে আসার জন্য অনুদান প্রদান করা হবে। করেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, অনুদানের টাকাি দয়ে দোকান ও অন্যান্য আয়বৃদ্ধি মুলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ভিক্ষুকরা পুনর্বাসিত হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ