ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতাসীন আ’লীগ তরুণ সমাজকে ধ্বংস করতে নানামুখী নীলনকশা প্রণয়ন করেছে

গত শনিবার বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের উপর লেখা তিনটি বইয়ের আনুষ্ঠানিকভাবে মোড়ক উন্মোচন করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার নানামুখী নীলনকশা প্রণয়ন করে চলেছে অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার তাদের দুঃশাসনের প্রতিপক্ষ মনে করে দেশের আদর্শবাদী তরুণ সমাজকে। দেশের তরুণ সমাজকে ভয়াবহ দুঃশাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট করে অবৈধ ক্ষমতা কন্টকমুক্ত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুকে গ্রেফতার করে কারান্তরীণ এবং বারবার মিথ্যা মামলায় পুলিশি রিমান্ডের নামে হয়রানী ও নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন।
বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, বর্তমান নিপীড়ক সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার জন্য নানামুখী নীলনকশা প্রণয়ন করে চলেছে। সরকার তাদের দুঃশাসনের প্রতিপক্ষ মনে করে দেশের আদর্শবাদী তরুণ সমাজকে। এজন্যই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুসহ সারাদেশের হাজার হাজার ছাত্রদল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে আটকে রাখা হচ্ছে, যাতে উদীপ্ত তারুণ্য বর্তমান দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাহসী সংগ্রামে এগিয়ে যেতে না পারে। দেশের তরুণ সমাজকে ভয়াবহ দুঃশাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট করে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে অবৈধ ক্ষমতা কন্টকমুক্ত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে নজীরবিহীন জুলুম-নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে তরুণ সমাজকে ভয় পাইয়ে দেওয়া। কিন্তু বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জানেনা যে, অনাচার, অবিচার ও লুটপাটকারী সরকারকে পরাজিত করতে তারুণ্যকে কোনভাবেই দমন করে রাখা যাবে না।
খালেদা জিয়া বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরন্তন দ্রোহ হচ্ছে তরুণ সমাজ। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করার গভীর ষড়যন্ত্র প্রতিহতের জন্য জনগণ এখন আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ। গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং চাল-ডাল-তেল-পিঁয়াজ-লবনসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির পাশাপাশি দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে জনরোষকে চাপা দেয়ার জন্যই দেশব্যাপী বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে পাইকারী হারে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূখর বলেই সেও সরকারি আক্রোশের শিকার হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে বারবার রিমান্ডে নিয়ে নিঃশেষ করা যাবে না। আকরামুল হাসান মিন্টুকে গ্রেফতার করে নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।
বইয়ের মোড়ক উন্মোচন : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে লেখা ৩ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিএনপি সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। বই তিনটি হচ্ছে যথাক্রমে: ১। ‘তারেক রহমান ও বাংলাদেশ’ সম্পাদনা করেছেন- মাহাবুবুর রহমান ও প্রকাশক পারভেজ মল্লিক। ২। ‘তারেক রহমানের রাজনীতি ও রাষ্ট্রভাবনা’ লেখক: এম সাইফুর রহমান, প্রকাশক : হাবিবুর রহমান চাকলাদার (অপু)। ৩। ‘দীপ্তিমান দেশনায়ক’ সম্পাদনা করেছেন-ভিপি সাইফুল ইসলাম, প্রকাশক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বগুড়া জেলা শাখা।
বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, তারেক রহমান অতিব সত্য কথা বলেছে বলেই এই সরকার তার প্রচারণা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তবে দেশের মানুষ তারেক রহমানকে ভালোবাসে, দেশে ফিরে তারেক তার বাবার মতোই জনগণের সেবা করবে। খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের মানুষ সব সময় জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবারকে ভালোবাসত। সেই রক্তই তারেক রহমানের গায়ে, সেই রক্তই আরাফাত রহমানের গায়ে। তারা নিজে কিছু পাওয়ার জন্য নয়, দেশের মানুষকে কিছু দেয়ার জন্য, দেশের সম্মান বৃদ্ধির জন্য তারেক এখনো চিকিৎসাধীন লন্ডনে। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ থেকে যে যখন যায় তার সঙ্গে দেখা হয়, খুশি হয়। নেতাকর্মীদের সঙ্গে, বড় বড় অন্য কেউ এলে দেখা হয় এবং তিনি সেটা এদেশ সম্পর্কে জানতে চান।
খালেদা জিয়া আরো বলেন, তিনি (তারেক রহমান) মাঝে মাঝে যে বক্তব্যগুলি দেন, সে বক্তব্য থেকে আপনারা বুঝতে পারেন যে তারেক রহমান কতটুকু সত্য কথা বলছে। তার এই সত্য কথার জন্য আজকে এই গভর্নমেন্ট, সত্য কথাগুলি যাতে প্রচার না হয় সেজন্য তার প্রচারণা বন্ধ করে দিয়েছে, আপনারা দেখেছেন। কাজেই বুঝতে পারছেন যে তারা তারেক রহমানের ওপরে তারা মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। কতগুলো পত্রিকা আছে যারা অন্যায়ভাবে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে তারেক রহমানের নামে। কিন্তু তারেক রহমান নয়, তারাই নিজেরা নিজেদের চরিত্রটা একটু বিশ্লেষণ করে দেখবেন, তারা কী জিনিস?
বিএনপি নেত্রী আরো বলেন, তারেক জিয়াউর রহমানের ছেলে, আমার ছেলে। কাজেই তারেক রহমান দেশ ও মানুষের জন্য। তার কিছু পাওয়ার নাই। কিছু দিবার আছে মানুষের জন্য এবং সেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আপনারা সকলেই তার জন্য দোয়া করবেন, যাতে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আপনাদের মাঝে, আমাদের মাঝে, দেশের মানুষের মাঝে ফিরে আসতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ