ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অর্থ সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বকীয়তা হারিয়েছে বাংলা একাডেমি

সাদেকুর রহমান : স্কুল পড়ুয়া ছেলের জন্য ‘ছোটদের অভিধান’ কিনতে এসে রাজ্যের খেদ ঝাড়লেন বেসরকারি চাকুরে আসলাম উদ্দিন। গত মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির বিক্রয় কেন্দ্রে এসে যখন জানতে পারলেন অভিধানটি এখনও পুনঃছাপা হয়নি, তখনই তিনি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় এতসব বই ছাপা হচ্ছে, ছোটদের অভিধান দুই বছর ধরে ছাপার বাইরে কেন। সচেতন এ পিতা আরো বললেন, ‘প্রমিত’ রীতির নাম করে যেভাবে বাংলা ভাষার ঐতিহ্যকে ধূলায় মিশিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। তাছাড়া বাংলা একাডেমির মতো একটি স্বতন্ত্রধর্মী প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক যেভাবে দলবাজিতে লিপ্ত তা সত্যিই লজ্জার।
আসলাম উদ্দিনের খেদের পাশাপাশি একাডেমির নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চোখের সামনে তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও স্বকীয়তা ভূলুন্ঠিত হওয়ায় দারুনভাবে ক্ষুব্ধ। তারা এও বলছেন, বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে বর্তমান কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে অর্থ সংকট ও নিজস্ব গবেষণার পরিবর্তে অন্যের অনুকরণ প্রবণতা।
বাংলা একাডেমির ওয়েবসাইট ও বশীর আল হেলালের মতে, বাংলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও সংগঠনের চিন্তা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম করেন। ড. শহীদুল্লাহ ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে ভাষা সংক্রান্ত একটি একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি করেন। এছাড়া দৈনিক আজাদ পত্রিকা বাংলা একাডেমি গঠনে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ১৯৫২ সালের ২৯ এপ্রিল পত্রিকাটি ‘বাংলা একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে এ প্রসঙ্গে সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময় কিছু প্রচেষ্টা নেয়। ১৯৫৪ সালে এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলে শিক্ষামন্ত্রী সৈয়দ আজিজুল হক নির্দেশ দেন, যুক্তফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমান হাউজের বদলে অপেক্ষাকৃত কম বিলাসের বাড়িতে বাসস্থান নির্দিষ্ট করবেন এবং বর্ধমান হাউজকে আপাতত ছাত্রাবাস ও পরে বাংলাভাষার গবেষণাগারে পরিণত করা হবে। অবশেষে ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার উদ্বোধন করেন ‘বাংলা একাডেমি’র। বাংলা একাডেমির প্রথম সচিব মুহম্মদ বরকতুল্লাহ। তার পদবি ছিল ‘ স্পেশাল অফিসার’। ১৯৫৬ সালে একাডেমির প্রথম পরিচালক নিযুক্ত হন অধ্যাপক মুহম্মদ এনামুল হক। বাংলা একাডেমির প্রথম প্রকাশিত বই আহমদ শরীফ সম্পাদিত দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত ‘লাইলী মজনু’। স্বাধীনতার পর থেকে একাডেমি চত্বরে স্বল্প পরিসরে বইমেলা শুরু হয় এবং ১৯৭৪ সাল থেকে বড় আকার ধারণ করে। ২০০৯-২০১১ সালে একাডেমির বর্ধমান হাউজ ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলায় ভাষা আন্দোলন জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। একাডেমির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে রয়েছেন একজন মহাপরিচালক। এর প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন প্রফেসর মযহারুল ইসলাম যিনি ১৯৭২ সালের ২ জুন থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বর্তমান মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ২০০৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলা একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ৪টি বিভাগ রয়েছে। এই বিভাগগুলো হচ্ছে- ক. গবেষণা, সংকলন ও ফোকলোর বিভাগ খ. ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ গ. পাঠ্যপুস্তক বিভাগ ঘ. প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ।
বাংলা একাডেমি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার পুস্তক ও পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে রয়েছে কথাসাহিত্য, কবিতা, সাধারণ অভিধান, পরিভাষা অভিধান, বিভিন্ন লেখক-কবির রচনাবলী, সাহিত্য গবেষণা, সাহিত্য সমালোচনা, দর্শন, ইতিহাস, ভূগোল, গণিত, বিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, শিশু-কিশোর সাহিত্য, অনুবাদ, ধর্ম, সংস্কৃতি, জীবনী ইত্যাদি বিষয়ের গ্রন্থাবলী।
কী করছে বাংলা একাডেমি : আসলাম উদ্দিনের অভিযোগের সত্যতা মেলে একাডেমির বিক্রয় কেন্দ্রে। তালিকার অনেক বই পাওয়া যায় না। তবে গবেষণাধর্মী বইয়ের নাম করে নতুন ছাপা হয়েছে বেশ কিছূ রাজনৈতিক গ্রন্থ। তাছাড়া একাডেমির বইয়ের দাম এতটাই বাড়ানো হয়েছে যেন তারা ব্যবসায়ে নেমেছে। উদাহরণস্বরূপ- আসাদ চৌধুরীর ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ বইটির পুনর্মূদ্রণ কপির দাম ৬০ টাকা থেকে এক লাফেই ১৫০ টাকা করা হয়েছে।
একাডেমির মহাপরিচালকের এদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। সরকারের আস্থাভাজন লোক হিসেবে পরিচিত শামসুজ্জামান খানের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তিনিও রাজনৈতিক প্রকাশনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে সমালোচকরা বলে থাকেন। যদিও তার ভাষা জ্ঞান নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আর একটি বিবৃতিতে ৩২ বানান ভুল করে তিনিই তার পরিচয় দিয়েছেন।
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় কম-বেশি ৩ হাজার বই প্রকাশিত হয়ে থাকে। বইকেন্দ্রিক এত বড় আয়োজন বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না। এটা বাংলা একাডেমির জন্য বিশাল এক কৃতিত্ব। তবে মেলায় আসা বইয়ের নব্বই শতাংশই মানসম্মত না হলেও তা তদারকির ক্ষেত্রে একাডেমির কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই। মেলা চলাকালে টাস্কফোর্সের অভিযান লেখক-প্রকাশকদের বিপুল নিন্দাবাদ পেয়ে থাকে।
একাডেমি তার স্বকীয়তা হারিয়ে ভিনদেশী প্রতিষ্ঠান ও কথিত বিশেষজ্ঞ নির্ভর হয়ে পড়েছে বলেও সুস্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা আকাদেমির অনুকরণে চিরাচরিত ‘ঈদ’ বানানে দীর্ঘ-ঈ বাদ দিয়ে হ্রস্ব-ই ব্যবহার করে ‘ইদ’ করার ব্যর্থ মিশনে নেমেছিলো বাংলা একাডেমি। চলতি বছর রোজার ঈদের ঠিক আগে আকস্মিক এই প্রস্তাবে বিতর্কের ঝড় উঠলে ফেসবুক পেইজে পোস্ট দিয়ে একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান লিখেন, ‘ঈদ’ বানানটি বাঙালি ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধানে প্রথম বানান হিসাবে 'ঈদ' এবং বিকল্প বানান 'ইদ' দেয়া আছে। প্রথম বানানটি প্রচলিত;  ২য় বানানটি সংস্কারকৃত। কোনো মানুষ দীর্ঘকাল কোনো বানান ব্যবহার করলে তা ঐতিহ্যে পরিণত হয়ে যায়। 'ঈদ' বানানটি তেমনি। অতএব, দুটি বানানই ব্যবহার করা যায়। আর সমালোচকরা বলেন, ঈদ যেহেতু আরবি শব্দ আইন+ইয়া+দাল= ঈদ, সেহেতু এটার সংস্কার করা যুক্তিযুক্ত নয়। আরবিতে ইদ-এর অন্য অর্থ আছে!
বহু বছরের মধ্যে বাংলা একাডেমির নেয়া মহত্তম উদ্যোগ হলো বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান।  আবার আরো অনেক কিছুর মতোই বাংলা একাডেমির অতৃপ্তি জাগানো আরও একটি উদ্যোগ হলো বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান। কার্যকর একটা বিবর্তনমূলক অভিধানের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হতো  এক একটা শব্দের সম্ভাব্য সবচেয়ে পুরনো ব্যবহারের সময়টিকে উদ্ঘাটন করতে পারলে। বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানের (বিবাঅ) প্রধান সম্পাদক গোলাম মুরশিদ বিশাল এই উদ্যোগের লক্ষ্য বোঝাতে আমাদের জানিয়েছেন: “কেবল শব্দের চেহারা এবং অর্থের ক্রমপরিবর্তন-এটুকুই নয়, আমাদের বিবর্তনমূলক অভিধানে আরও আছে: একটা শব্দ প্রথমবার কখন ব্যবহৃত হলো, তার সময় এবং দৃষ্টান্ত।  সেই সঙ্গে তার তখনকার অর্থ। তারপর শব্দের অর্থ বদলে গিয়ে থাকলে, তার দৃষ্টান্ত।  সেই সঙ্গে সে দৃষ্টান্তের তারিখ এবং অর্থ। সেটি কে ব্যবহার করেছিলেন, তাঁর নামও আছে সেই সঙ্গে।  যেমন, আনুমানিক ১৫৫০ সালে চন্ডীদাস লিখেছিলেন, সাধ বহু করে বিহি করে অনুবাদ। এখানে অনুবাদ কথাটার মানে প্রতিকূলতা। আনুমানিক ১৬৫০ সালে মাধবাচার্য্য অনুবাদ লেখেন প্রশংসা অর্থে, ধন্য ধন্য করিয়া করিল অনুবাদ। একই সময়ে বিজয় গুপ্ত অনুবাদ কথাটা লেখেন অপরাধ বা দোষ অর্থে, নাহি দোষ অনুবাদ খেমা কর আমা। আনুমানিক একই সময়ে জ্ঞানদাসও অনুবাদ শব্দটা ব্যবহার করেছেন, কিন্তু তার অর্থ করেছেন বাসনা, মনে ছিল অনুবাদ পুরাল মনের সাধ। অনুবাদ অর্থ বিতর্কও হয়, যেমন, বাদ-অনুবাদ।  বর্ণনা অর্থেও অনুবাদ শব্দটা ব্যবহৃত হয়-যেমন, গুণানুবাদ।  কিন্তু একেবারে ভুল অর্থে অনুবাদ শব্দটা ব্যবহার করেছেন অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৪২ সালে। তিনি এ শব্দ দিয়ে বুঝিয়েছেন ‘তরজমা’ অর্থাৎ ‘ট্রান্সলেশন।  এখন আমরা এই ভুল অর্থেই অনুবাদ শব্দটা ব্যবহার করি। এ অভিধানে এভাবে প্রতিটি শব্দের ক্রমবিকাশের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। শব্দের ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস হলো বিবর্তনমূলক অভিধান। কিন্তু এটা বিবর্তনমূলক অভিধান কী করে হলো?
অর্থ সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে : বাঙালির মেধা ও মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি। দীর্ঘ ৬২ বছরের পথচলায় বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিসর, বেড়েছে ব্যস্ততা। মানুষের আস্থার চাপও কম নয়। কিন্তু সে তুলনায় মোটেও বাড়েনি আর্থিক সক্ষমতা। বরং চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বরাদ্দ নিয়ে এরকম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ঐতিহ্যবাহী প্রতষ্ঠানটি। একাডেমি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা মানসম্মতভাবে কাজ করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলা একাডেমি দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। এটি ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ করে। প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যও তাই। প্রতিষ্ঠাকালে এর পরিসর অনেক ছোট ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিসর ব্যাপক ও বিস্তৃত হয়েছে। ফলে বতর্মানে সরকার এর জন্য যে বাজেট বরাদ্দ করে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য। বাংলা একাডেমিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হলে এর বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক সময় বাংলা একাডেমির জন্য বাজেট ছিল মাত্র ৭ কোটি টাকা। তখনও  বাংলা একাডেমি এক প্রকার চলেছে। কিন্তু এখন যে হারে এর পরিসর ও প্রকল্প বৃদ্ধি পেয়েছে সেই হারে অর্থ বরাদ্দ বাড়েনি। ২০১৩ সালের আইনে ৫টি বিভাগের জায়গায় ৮টি বিভাগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ৫টি প্রকল্প, ঢাকা ও এর বাইরে এমনকি বিদেশের বইমেলাগুলোতেও বাংলা একাডেমির স্টল থাকে। সেখানে বই পাঠানো, প্রতিনিধি পাঠানো, বই ছাপানো, বই ও পত্রিকা সংরক্ষণসহ অনেক কাজ করতে হয়। চলতি অর্থবছরে বাংলা একাডেমির জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে ২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে মনে করেন একাডেমি সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা একাডেমি সূত্র জানায়, একাডেমি প্রতিবছর যে মাসব্যাপী অমর ২১শে গ্রন্থমেলার আয়োজন করে সেখানেও সরকার আলাদা কোনো টাকা বরাদ্দ দেয় না। মেলায় বাংলা একাডেমির খরচ হয় দুই কোটি টাকা। কিন্তু আয় হয় খুবই কম। অন্যদিকে, বইমেলা ও ঢাকা লিট ফেস্টের সময় বিদেশী যেসব অতিথি আসেন তাদের যথাযথ আপ্যায়ন করতেও ব্যর্থ হয় বাংলা একাডেমি। এছাড়া একাডেমির নতুন নির্মিত এনামুল হক ভবনের পঞ্চম তলায় বিদেশী অতিথিদের জন্য একটি গেস্টরুম রয়েছে। কিন্তু ভবনটিতে লিফট না থাকায় তাদের সেখানে রাখা সম্ভব হয় না। অর্থ সংকটে লিফট বসানো যায়নি বলে জানা গেছে।
বাংলা একাডেমির পরিচালক ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলা একাডেমির কাজ ও দায়িত্ব আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি। যেমন, বাংলা একাডেমি প্রতিবছর বইমেলার আয়োজনের পাশাপাশি অনেকগুলো বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। যেখানে খরচও অনেক বেশি। কিন্তু এর জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দরকার তা নেই।
এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাংলা একাডেমিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হলে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন। আগের তুলনায় একাডেমির পরিসর অনেক বেড়েছে কিন্তু অর্থ বরাদ্দ সে তুলনায় কম। তিনি বলেন, বইমেলার জন্য সরকার কোনও অনুদান দেয় না। দুই কোটি টাকা আমাদের বইমেলা করার জন্য খরচ হয়। বইমেলার পর যা আয় হয়, তাও খরচ হয়ে যায়।
গ্রন্থাগার ও পত্রিকা আর্কাইভটি বেশি সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর্কাইভটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ সংকটের কারণে সেটির দিকে নজর দিতে পারছি না। তবে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। টাকা হাতে এলেই আর্কাইভটির দিকে নজর দেবো। আশা করি জানুয়ারি মাস থেকেই এর কাজ শুরু হবে। নতুন একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ওই ভবনে ফোকলোর ইনস্টিটিউট ও অনুবাদ ইনস্টিটিউট থাকবে। ওই ভবনের নিচতলাটি পত্রিকা আর্কাইভের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ