ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোর জন্যই বিএনপি প্রস্তুত -মির্জা আব্বাস

স্টাফ রিপোর্টার : আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোর জন্যই বিএনপি সমানভাবে প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এ সময় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। এখানে কোন রকম কম্প্রোমাইজ করার সুযোগ নেই। একবার আপনারা ৫ জানুয়ারি কুত্তা মার্কা নির্বাচন করেছেন কিন্তু এবার মার্কা নির্বাচন করতে হবে। সেই ধরনের নির্বাচন করা যাবে না। এবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রূপরেখা অনুযায়ী আপনাদেরকে নির্বাচন দিতে হবে এবং সেই নির্বাচনে দেশের মানুষ অংশগ্রহণ করবে।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ আয়োজিত ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগের যুদ্ধ হল ক্ষমতায় ঠিকে থাকার আর আমাদের যুদ্ধ হল জনগণের কাছে হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়া। বিএনপিকে ক্ষমতায় যেতেই হবে এমন কথা কখনও বিএনপি বলে না, ভাবেও না। কারণ, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন আর বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে বিকশিত করেছেন। সেই গণতন্ত্র আজ হায়েনার কবলে। হায়েনার হাত থেকে গণতন্ত্রকে উদ্ধার করে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়াই হল আমাদের সংগ্রামের মূল লক্ষ।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণ ফোরামের এই সদস্য বলেন, আমরা দেশটাকে  স্বাধীন করেছি পাকিস্তানিদের হাত থেকে। এখনও আমার মনে হয় দেশটাকে আবারও স্বাধীন করতে হবে। বাংলাদেশ এখন আর স্বাধীন নেই, আরও একটি যুদ্ধের প্রয়োজন আছে। কয়েক দিন আগে একজন বিদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন তার বক্তব্য কথা-বার্তা কাজ কর্ম দেখে এবং ইদানিং সরকারের কথা-বার্তায় বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ এটা বোঝার সুযোগ নাই।
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে টুকটাক কাজ করে যেমন দেশনেত্রী বেগম খালেদা  জামিন বাতিল করে দিলো। তার মানে বিএনপি একটু ছোট-খাটো কাম করবে এবং তারা বড় আকারে ধড়-পাকড় করবে। এরকম একটা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির করার চেষ্টা করছে। উল্টা-পাল্টা কথা-বার্তা বলে আমাদের মুখ দিয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করছে। আমরা সেই ট্র্যাপে পা দেবো না। এই কথাটা আপনাদের মনে রাখা উচিৎ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার নীল নকসার ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে মির্জা আব্বাস বলেন,  প্রক্রিয়া চলছে দেশনেত্রীকে সাজা দেয়ার। স্বাভাবিক বিচারের মাধ্যমে না, প্রয়োজনে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া তারা প্রয়োগ করবে। দেখেন গত বৃহস্পতিবার হরতালের কারণে দেশনেত্রী সকালে যেতে পারবেন না বলে দুপুরে যাবেন, প্রস্তুতিও ঠিক। নিরাপত্তার কারণে উনি যাননি। যদি খালেদা জিয়া যেদিন বেরুতেন যে, আওয়ামী বাহিনীরা একটা অপকর্ম করে প্রচার করতো হরতালকারীরা এই কাজটা করেছে। তারপরও ২টায় উনি যাবেন। কিন্তু বেলা ১২টায় জজ সাহেব গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করে চলে গেলেন। অর্থাৎ সরকার যেন একটা সুযোগ খুঁজছিলো যে, একটা সুযোগ খুঁজে ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য দেয়া- সেটাকে বন্ধ করে ৫/৬/৭ -এই তিনদিন যুক্তিতর্ক হবে। এটা কোন দেশ? ধইরা-বাইন্ধা সাজা দিয়ে দেয়া। তাহলে আর বিচারের দরকার কী ? নেত্রীকে ধরে জেল দিয়ে দেন- কী শুরু করেছেন আপনারা এই সমস্ত ?
তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, আজকে আওয়ামী সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রহসনমূলক বিচার করে সাজা দেয়ার ব্যবস্থা করছে। কিন্তু এটা এতো সহজ হবে না।
এই যে দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বি অবস্থা। চালের দাম, পেঁয়াজের দাম এবং আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম এতোই বেড়েছে যে এই সরকারের সেই দিকে নজর নেই। তাদের নজর হলো বড় বড় প্রজেক্ট তৈরি করো, বড় বড় কমিশন আদায় করো এবং সেইসব প্রকল্পের যে কাজ হচ্ছে সেজন্য ইনডেমেনিটি দাও। পত্রিকায় দেখলাম, বিদ্যুৎ সেক্টারে ৬০ হাজার কোটি টাকা ভুর্তকি দেয়া হয়েছে মানে লুট কাকে বলে।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ক্ষোভ এক জায়গায়। তারা কেন স্বাধীনতার ঘোষণা করতে পারেনি। জিয়াউর রহমান কেন স্বাধীনতার ঘোষণা করলো। এই হতাশা থেকে আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে বৈরি আচরণ করছে। হামলা মামলা দিচ্ছে। বাসা থেকে তুলে নিয়ে বলছে বিএনপি করো কেন ? ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে।
মির্জা আব্বাস অভিযোগ করে বলেন কিছু দিন আগে একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার কথাবার্তায় দেশে স্বাধীনতা আছে বলে মনে হয় না। দেশকে স্বাধীন রাখতে আবারও যুদ্ধের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন যে, স্বাধীনতার পর সবাই পায় স্বর্ণের খনি আমি পেয়েছি চোরের খনি। আওয়ামী লীগ সেইকথা ধারণ করে আছে মন্তব্য করে বলেন, চুরি করা আওয়ামী লীগের স্বভাব। শেখ মুজিব স্বীকৃত স্বভাবটা ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ।     
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাত উল্লাহ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ