ঢাকা, সোমবার 4 December 2017, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এই টাকার মধ্যে রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি দিবে ৮০ হাজার টাকা, বাস চালক দিবে ৩০ লাখ এবং বাকি চার কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ টাকা তিন বাস মালিককে সমান ভাগ করে দিতে হবে। অর্থাৎ প্রত্যেক মালিককে দিতে হবে এক কোটি ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার ১৫১ টাকা। তিন মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের এই অর্থ দিতে রায়ে বলা হয়েছে। আর এই টাকার ১০ লাখ পাবেন তারেক মাসুদের মা নুরুন্নাহার বেগম। আর বাকি টাকা পাবেন তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ ও তার সন্তান নিষাদ মাসুদ।
গতকাল রোববার বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, তার আইনজীবী ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং আইনজীবী রমজান আলী সিকদার।
অন্যদিকে আদালতে বাস মালিকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার। রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও ইমরান এ সিদ্দিক। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান।
এর আগে গত ১৬ নবেম্বর মামলাটি যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য গত বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট। পরে বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু করে গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তা শেষ হয়।
আইনজীবী সারা হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে বাসচালক ৩০ লাখ, বাসমালিক ৪ কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী ৮০ হাজার টাকা দেবে।
তিনি বলেন, এ টাকাটা চেয়েছিলাম কয়েকটা খাতে। সেগুলো হলো-তারেক মাসুদ মূল উপার্জনকারী ছিলেন, মৃত্যুর কারণে উপার্জন কমে গেছে। তার স্নেহ এবং ভালোবাসা হারিয়েছে। ক্যাথরিন নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তার চোখের ক্ষতি হয়েছে। মাইক্রোবাসটি ড্যামেজ হয়ে গেছে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বিচারিক আদালতে করা হলেও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে স্থানান্তর করা হয়।
২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে ক্যাথরিন মাসুদের দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতে ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে সাতজন, বাস মালিক সমিতির পক্ষে পাঁচজন ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কাম্পানির পক্ষে একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীরের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানি আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীর। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। তাতে তারেক-মিশুকসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী নিহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ঘটনার দড় বছর পর ২০১৩ সালের ১৩  ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মাটরযান অর্ডিন্যান্সে ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কাম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাসচালক জমির হোসেন, বাস মালিক কাসেদ মিয়া, মুজিবুল হক, মো. তুহিন ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কাম্পানিকে বিবাদী করা হয়। তাদের সবাই জামিনে রয়েছেন।
মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ প্রথমে সাত কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে ক্ষতিপূরণের দাবি বাড়িয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা করা হয়।
এরপর সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দুটি জনস্বার্থে হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চয়ে আবেদন করেন বাদীরা। মামলায় পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়। আদালত সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদের আলোকে হাইকোর্টে বদলির জন্য বাদীদের করা আবেদন মঞ্জুর করেন ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ