ঢাকা, মঙ্গলবার 5 December 2017, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শীতের আমেজেও অতিথি পাখি নেই চলনবিলে 

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে শাহজাহান : শীতের আমেজ শুরু হলেও ঐতিহাসিক চলনবিলাঞ্চলে এখনও মুখরিত হয়ে ঊঠেনি অতিথি পাখির কলগুঞ্জন। ভিনদেশী বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা এ সময় বদলে দিতো এ অঞ্চলের চিরচেনা দৃশ্যপট। এখনও ঝাঁক বেধে উড়ে যাওয়া অতিথি পাখিদের বিচরন নেই বললেই চলে। বিগত বছরের চেয়ে এ বছর তুলনায় এবার সংখ্যা নেহাতেই নগন্য। 

স্থানীয় প্রবীন ব্যাক্তি ও পাখি বিশেঙ্গরা জানান, যমুনা নদীর বিশাল এলাকায় ছোট বড় অসংখ্য বালু চর ছাড়াও জেলার বৃহত্তম দিঘী রায়গঞ্জ উপজেলার জয় সাগর ও তার আশে পাশে রয়েছে অসংখ্য বিল ও দিঘী। এ গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জলাশয় উদয় দিঘী, রাম দিঘী ,অন্দিহার দিঘী, বেহুলার বিল, বারানির বিল, কাতলার বিল, কালিদহ সাগর ও নয়া পুকুর। ধড়াইল বিল, কচিয়ার বিল, সিমলার বিল ঐতিহাসিক অনুখার দিঘীর প্রভৃতি। এছাড়াও তাড়াশ উপজেলার প্রান্ত ছুয়ে সুদুর চাটমোহর ও নাটর এলাকা পর্যন্ত বিস্তর চলন বিল পাখিচারণ ক্ষেত্র হিসেবে সুদূর অতীত থেকেই সমৃদ্ধ। 

সুদূর সাইবেরিয়া উত্তর চীন তিব্বত, উত্তর হিমাচল প্রদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পেড়িয়ে শুধু ডানার উপর ভর করে ঝাঁকে ঝাঁকে এ সব অতিথি পাখিরা এ দেশে এসে থাকে। এক টানা পথ চলার ক্লান্তিতে তারা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও প্রচুর খাবার সমৃদ্ধ জলাশয়গুলোতে বিচরণ করে তারা আবার সঞ্জবতা ফিরে পেতো। এ সময় অতিথি পাখিদের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যেত উল্লেখিত এলাকার গ্রাম বাসিদের। কুয়াশা স্নাত সকালের সোনালী রৌদ্র উজ্জ্বল সূর্য স্লান সেরে নিয়ে পাখির দল নেমে পড়তো জলাশয়ে ছোট ছোট শামুক, ঘাস, শষ্যদানা, আর পোকা মাকড়ের সন্ধানে। 

আগত এসব অতিথি পাখির মধ্যে হাঁস প্রজাতির বালি হাঁস, পিয়ং, সরিয়া ও চোখা উল্লেখযোগ্য। যমুনার চরে চখা চখি রোদ পোহাত তখন মনে হতো যেন রাজ হাঁসের দল কোথা থেকে ভেসে এসে বিশ্রাম নিচ্ছে। অন্যান্য পাখিদের মধ্যে জাজাবিয়া, গঙ্গা, কবুতর, গাংচিল, মানিকজোড়, রাত চোরা, সবুজ পাপিট, বিলেতি শালিক দেখা যেতো। এসব ভিনদেশী অতিথি পাখিদের সঙ্গে মিলে মিশে থাকতো আমাদের দেশীও পাখি। এগুলোর মধ্যে কানাবগ, পানকৌড়, জল কবুতর, শ্যামকালী, ডাহুকো, মাছরাঙ্গা ইত্যাদী। 

এদিকে পরবাসী বিহঙ্গকুলের সঙ্গে দেশীয় পাখিদের মিলন অভিসার যেন স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরী করত চলনবিলসহ জলাশয় গুলোতে। পাখি প্রকৃতির এক বিশেষ উপহার, এসব পাখি প্রকৃতির টানে ছুটে আসে আবার প্রকৃতির টানেই ছুটে যায় নিজ গন্তব্যে বলে তারা উল্লেখ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ