ঢাকা, মঙ্গলবার 5 December 2017, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শীত আসছে : আসছে খেজুরের রস

রামপাল, (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : শীত আসতে না আসতেই রাতে নামছে ঘন কুয়াশা। সেই কুয়াশা চলে ভোর রাত পর্যন্ত। আর কুয়াশা যেন বয়ে নিয়ে আসছে শীতের আগাম বার্তা। শীতে বিখ্যাত খেজুরের গুড়ের কথা কে না জানে তাই শীতের এ আমেজ আসতে না আসতেই গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত  করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছন। রামপালের রনসেন গ্রামের আঃ মজিদ মিঞার সাথে কথা বলে জানা যায় এই গ্রাম ছাড়া উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের  প্রতিটি গ্রামের সকল স্থানে কম বেশি গাছ তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা। আঃ মজিদ আরো বলেন গ্রাম ছাড়া উপজেলা জেলা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কম বেশি খেজুরের গুড় তৈরি করা হয়। বেশীর ভাগ তৈরি হয় ঝিনাইদহ, কালিগঞ্জ, যশোর, চাঁদপুর। আর এই খেজুরের গাছ প্রস্তুত একেক জায়গায় একেক নামে পরিচিত। কোথাও গাছ তোলা, চাঁচ দেওয়া, ফুট কাটা, নলি পাতা, বা গাছ সংগ্রহ করা। গাছিরা জানায় এখন তো সময় তাই গাছ তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে গাছিরা। নভেম্বর এর মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারীর শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪ মাস খেজুরের গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা যায়। আর এ সময় গুড় থেকে পিঠা পায়েশ, পুলি সহ নানা রকমের সুস্বাদু খাবার তৈরি করা হয়। তাই বিভিন্ন জেলা উপজেলা সহ গ্রামাঞ্চলের গাছিরা শীতের শুরুতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে রস সংগ্রহের কাজে। বেড়েছে অযতেœ পড়ে থাকা খেজুর গাছের কদর। গাছি আঃ মালেক বলেন খেজুর গাছের সংকটের কারণে অন্যান্য বারের তুলনায় এবছর রস কম পাওয়া যাবে বলে জানায়। গাছি মোবারক আলী বলেন কোন কোন অঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক খেজুর গাছ মারা গেছে যা আছে তাতে যে রস পাওয়া যাবে তা দিয়ে চাহিদা পূরন হবে না বলে মনে হচ্ছে। জীব ও বৈচিত্র্যের কারণে  প্রাকৃতির পরিবেশ উন্নয়নে বনবিভাগের সচেতনতার অভাবে অনেক গ্রামাঞ্চলের খেজুর গাছ মারা গেছে। এক সময় খেজুরের রসের গুড়ের খ্যাতি থাকলেও কালের বিবর্তনের কারণে অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার এ ঐতিহ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ