ঢাকা, মঙ্গলবার 5 December 2017, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ মোবাইলের ৩ হাজার একাউন্ট স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার : মোবাইলের একাউন্টের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেনের স্পষ্ট অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ত্বড়িৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় তিন হাজার একাউন্ট স্থগিত করেছে। আর এর ফল স্বরূপ মাত্র এক মাসের ব্যবধানেই রেমিটেন্স বেড়েছে চার দশমিক ৪৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে অবৈধ চ্যানেল বা হুন্ডি বন্ধ হলে রেমিটেন্স প্রবাহ আরো দ্রুত বাড়বে। 
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, মোবাইলের অবৈধ চ্যানেল ছাড়া হুন্ডি বন্ধ হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়বে। ইতোমধ্যে মাত্র এক মাসের ব্যবধানেই এই প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি দুই হাজার ৮শ’ ৮৭  ব্যাংক এজেন্ট অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র আরো জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা উদ্যোগের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলে আরো রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে। গত নবেম্বর মাসে ব্যাংকের মাধ্যমে ১২১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অক্টোবরের তুলনায় যা চার দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আর আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নবেম্বরে) রেমিট্যান্স এসেছে ৫৭৭ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এসেছিল ৫২১ কোটি ডলার। সে বিবেচনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫৬ কোটি ডলার বা ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এর আগে কমার ধারাবাহিকতার মধ্যে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছিল ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরে তা কমেছিল ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে কমার বিষয়ে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে সহজে হুন্ডি হওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। এতে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের দুই হাজার ৮৮৭ এজেন্ট অ্যাকাউন্টের লেনদন স্থগিতের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ে কেনো জরিমানা করা হবে না, জানতে চেয়ে গত ২২ নবেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, গত এক বছরে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহে আশঙ্কাজনকভাবে ভাটা পড়ায় প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠাতে কোনো চার্জ বা মাশুল না নেয়ারও ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর খরচ সরকারের তহবিল থেকে জোগান দেওয়ার কথা বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই নিয়মিতভাবে কমে আসছিল প্রবাসী আয়। এর কারণ অনুসন্ধান করার পাশাপাশি করণীয় কি হবে তাও খুঁজে বের করা হয়। প্রথমেই প্রবাসীদের আয় দেশে পাঠাতে ফি মওকুফের পক্ষেই মতামত দেয় সবাই। অর্থমন্ত্রী তখন জানিয়েছিলেন, আয় কমেনি তবে আয় আসছে অবৈধ পথে ভিন্ন চ্যানেলে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের  তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে গত কয়েক মাসেই ভাটা পড়েছে, মাসের হিসেবে সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসে সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিটেন্স এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ৮৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৯২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স সংক্রান্ত হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৩৮ কোটি ৭৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।
২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ (১৫.৩১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স বাংলাদেশে আসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ