ঢাকা, মঙ্গলবার 5 December 2017, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলিত অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নে রেকর্ড হবে -পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বেড়েছে দাবি করে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আশা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলিত অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে রেকর্ড হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের হার বাড়ায় প্রকল্প পরিচালকরা বরাদ্দের চেয়ে বেশি অর্থও চাচ্ছেন বলেন জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার ৩৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি বরাদ্দপ্রাপ্ত ৮৬টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের বাস্তবায়ন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মনিটরিং করে। তবে মেগা প্রকল্পের মধে কর্ণফূলী টানেল প্রকল্পের বেশ ভাল অগ্রগতি হয়েছে। তবে টানেল প্রকল্পে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা জানাতে পারেননি তিনি।
মুস্তফা কামাল বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারি তৎপরতার কারণে প্রকল্প পরিচালকরা এখন অনেক বেশি তৎপর। তাই চলতি অর্থ বছরের (অক্টোবর পর্যন্ত) চার মাসেই প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। কয়েক বছর আগে এডিপির আকারই এর কাছাকাছি ছিল। প্রকল্প পরিচালকরা এখন বেশি তৎপর বলে বাস্তবায়ন হার বাড়ছে। এমনকি প্রকল্প পরিচালকরা বরাদ্দের চেয়ে বেশি অর্থ চাচ্ছেন।
তবে বৈঠকের কার্যবিবরণীতে চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ (২৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা) উল্লেখ করা হয়েছে। ৩৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের ৮৬ প্রকল্পে বাস্তবায়ন হার আরও বেশি- গড়ে প্রায় ১৮ শতাংশ। বৈঠকে আলোচ্য ৮৬ প্রকল্পের কোনোটিতেই কোনো বিচ্যুতি নেই বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বৈঠকে আমি প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে যেখানে প্রয়োজন সেখানে মনযোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। চলতি অর্থ বছরে সরকার এক লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার যে এডিপি অনুমোদন দিয়েছে তারমধ্যে এই ৮৬ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৯৪ হাজার ২০৮ কোটি টাকা।
চলতি অর্থ বছরের প্রথম চার মাসে (অক্টোবর পর্যন্ত)  সবচেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ- প্রায় ৩৬ শতাংশ। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রায় ২৭ শতাংশ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রায় ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্পে পাইলিংয়ের জন্য নতুন দুটি হ্যামার আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, পদ্মা নদীর মাটি পৃথিবীর অন্যান্য নদীর মতো নয়। এর পানির নীচের মাটি প্রবল স্রোতে সরে যায়। তাই পাইলিংয়ের কাজ করা খুব কঠিন। এর মধ্যে দুটি হ্যামার নষ্টও হয়ে গিয়েছিল। তাই বাস্তবায়ন কিছুটা শ্লথ ছিল।
প্রকল্প পরিচালক আমাকে জানিয়েছেন, নতুন দুটি হ্যামার আনা হয়েছে। তিনি আমাকে প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের হার ৪৮ শতাংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ