ঢাকা, মঙ্গলবার 5 December 2017, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুই মাসে পাঁচ কোটি টাকার শর্তে এমপি শওকতের জামিন

স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচ কোটি টাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে দুই মাসের মধ্যে জমা দেয়ার শর্তে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. শওকত চৌধুরীর জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে জামিন বাতিল করা হবে।
জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে গতকাল সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
শওকত চৌধুরীর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিনুদ্দিন, নুরুল ইসলাম সুজন এমপি ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মাসুদ রানা। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান।
দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, দুই মাসের মধ্যে ৫ কোটি টাকা জমা দেয়ার শর্তে জামিন দিয়েছেন আদালত। এ সময়ের মধ্যে টাকা জমা না দিলে জামিন বাতিল করা হবে।
এমপি শওকতের আইনজীবী মো. মাসুদ রানা বলেন, ৫ কোটি টাকা জমা দেয়ার শর্তে জামিন দিয়েছেন আদালত। তবে দুই মাসের মধ্যে টাকা জমা না দিলে জামিন বাতিল করা হবে এ বিষয়টি রায় না দেখে বলা যাবে না।
ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১৬ সালের ৮ ও ১০ মে শওকত চৌধুরীসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বংশাল থানায় দুটি মামলা করে। এর মধ্যে এক মামলায় ৯৩ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ২১৩ টাকা এবং আরেক মামলায় ৮২ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শওকত চৌধুরী তিনটি কোম্পানির নামে ৩৪টি এলসি খুলে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি ড. আসাদুজ্জামান, বংশাল শাখার ম্যানেজার হাবিবুল গণিসহ আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশে ওই অর্থ আত্মসাত করেন।
বর্তমানে ওই অর্থের পরিমাণ সুদে-আসলে ১৩৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেন কমার্স ব্যাংকের আইনজীবী সারোয়ার হোসেন। এ দুই মামলায় গত বছর আগস্টে হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন শওকত চৌধুরী। পরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে আবারও জামিন পান।
এ অবস্থায় ওই দুই মামলার অপর দুই আসামী আসাদুজ্জামান ও হাবিবুল গণি জামিনের আবেদন করলে গত বছর ২৪ নবেম্বর তার শুনানিতে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। শওকত চৌধুরীেেক নিম্ন আদালতের দেয়া জামিন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ২২ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ শওকত চৌধুরীকে ৫০ দিনের মধ্যে ২৫ কোটি টাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে জমা দেয়ার শর্তে জামিন দেন।
এরপর শওকত চৌধুরী হাইকোর্টের রায় সংশোধনের আবেদন করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই রায়ের কার্যকরিতা স্থগিত করে তাকে আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করতে বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে এ আদেশ দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ