ঢাকা, বুধবার 6 December 2017, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নবেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : নবেম্বর মাসে রাজনৈতিক মাঠে শীতের আমেজ ছিল লক্ষণীয়। এ মাসেও বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অতি সীমিত সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল। রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (স:)-কে নিয়ে কটূক্তি করায় সেখানে হিন্দুদের বাড়ী-ঘরে আগুন জ্বালিয়ে রাজনীতির মাঠকে গরম করার কুপ্রচেষ্টা ছিল লক্ষ্য করার মত। নবেম্বর মাসে ১৫২টি রাজনৈতিক ঘটনার তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১৬। এই ১৬ জনের ৯ জনই খুন হয় আওয়ামী লীগের হাতে, ছাত্রলীগের হাতে ৫, যুব লীগের হাতে ১ এবং প্রজন্ম লীগের হাতে ১ জন। এ মাসে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত হয় ৩৮৬ জন এবং গ্রেফতার অনেক বেশী হলেও ৪০৯ জনের তথ্য পাওয়া গেছে বাকীদের পরিচয় প্রকাশিত হয়নি, গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং দন্ডপ্রাপ্ত ৩৩ জন, এই ৩৩ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩, ছাত্রলীগের ২২, জামায়াতের ২, কৃষক দলের ১, বিএনএ-র ১ এবং জেএমবির ৪ জন। প্রাপ্ত তথ্যে নবেম্বর মাসে যারা নিহত হয়- (১) চট্টগ্রামে ডেবারপাড় এলাকায় আওয়ামী লীগের হাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিট সাংগঠনিক সম্পাদক সেঞ্জু মিয়া, (২) সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ-দিরাই উপজেলার মাঝে হাওরে এক সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের হাতে আব্দুল হান্নান নামে এক জেলে, (৩) কিশোরগঞ্জে মিঠামইনে ঢাকি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি সোলায়মান ভূঁইয়া ও পল্লব ভূঁইয়ার সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে মাসুম মিয়া, (৪) মাখন মিয়া, (৫) ফরদিস মিয়া, (৬) রাজিব, (৭) মকবুল হোসেন ও (৮) চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বর্ডারে কবির হোসেন খুন হয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৫ জনের নামে মামলা ও (৯) শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে শ্রমিক লীগ নেতা নজরুল ইসলাম নজু এবং (১০) খুলনা শহরে ছাত্রলীগ নেতা শামীম হাওলাদার শুভ ও তার সহযোগীদের নির্যাতনে শামসুন নাহার চাঁদনীর আত্মহত্যা, (১১) খুলনার দাকোপে ছাত্রলীগ নেতার প্ররোচনায় ছাত্রী বন্যা রায়ের আত্মহত্যা, (১২) বরগুনার পাথরঘাটায় অজ্ঞাত তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ৪ ছাত্রলীগ নেতা আটক, (১৩) খুলনার দাকোপে ছাত্রলীগ নেতার প্ররোচনায় কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা ও (১৪) কুমিল্লা শহরে ফ্লাটে মাসুদুর রহমান হত্যা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা আটক, (১৬) বরিশালের গৌরনদীতে যুবলীগের হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী সাকির গোমস্তা এবং (১৬) ঢাকার আশুলিয়ায় প্রজন্ম লীগ নেতাসহ কয়েকজন মিলে রিক্সাচালক শাহজাহান প্রামানিককে হত্যা করে।
আওয়ামী লীগ : ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের ডেবারপাড় ইউনিট স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেঞ্জু মিয়া বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার গাড়ী বহরে আওয়ামী লীগের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে বিএনপি অভিযোগ করে। সেঞ্জু মিয়া ২৯ অক্টোবর আহত হয়। বিলম্বে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়ায় এ মাসের কলামে যুক্ত করা হলো। ১ নবেম্বর বগুড়ার শাহজাহানপুর কলেজের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন ও দেড় কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে মারধর করে কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম। ২ নবেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভোলানাথপুর এলাকায় রাজউকের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দু’গ্রুপ ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। যশোরের চুড়ামনকাঠি এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান আহত হয়। গত ৬ নবেম্বর মঈন উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি করে প্রতিপক্ষ, কিন্তু গুলিটি লক্ষভ্রষ্ট হয়। আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন চাকলাদার ও নাবিল গ্রুপের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। মঈন উদ্দিন আওয়ামী লীগ নেতা নাবিল গ্রুপের সদস্য। ৪ নবেম্বর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের গণসমাবেশে কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এবং এমপি ডঃ আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তারিকুল ইসলাম, মজিবর রহমান, সৈয়দ আলম, আজাদ, লিটন, সিরাজ, ফেরদৌস, বিদ্যুৎ বড়–য়া, আরাফাত, আজিম ও তকি উদ্দিনসহ আহত হয় ১৫ জন। সভায় দলীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ উপস্থিত ছিলেন। ফেনীর সোনাগাজীতে আমিরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আব্দুল বারেক ওরফে আরু ডাকাতকে আটক করে পুলিশ। আরু হত্যা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজীর মামলার আসামী। ৩ নবেম্বর যশোরের কেশবপুরে জেল হত্যা দিবসে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মারামারিতে হাসান আলমগীর নামে এক নেতা আহত হয়। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ-দিরাই উপজেলার মাঝামাঝি হাওরে এক সংঘর্ষে আওয়ামী লীগের লোকদের হাতে আব্দুল হান্নান নামে এক জেলে নিহত হয়। অত্র সংশ্লিষ্ট মামলায় দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিরাম তালুকদারসহ ৩৯ জনকে আসামী করা হয় এবং ৫ জনকে আটক করে পুলিশ।
৭ নবেম্বর নরসিংদীর রায়পুরায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে নীলক্ষা ও বাঁশগাড়ীর ৬ গ্রামের ৫০০ বাড়ী-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। মুলতঃ বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হক সরকার ও সিরাজুল হক গ্রুপের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব। ৯ নবেম্বর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাইরাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১৯ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০ জন। আওয়ামী লীগে নেতা মুস্তাফিজুর রহমান এমপি ও অপর নেতা আব্দুল্লাহ কবীর লিটন সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মাহমুদুল ইসলাম বদি, রাশেদ, মাহবুব, ফরহাদ, আব্দুল মান্নান, জামাল, আহমদ হোসেন, সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ ফাহিম, মাঈনুদ্দিন, আব্দুল্লাহ, অমিত চৌধূরী, হোসেন আহমেদ, সাইফুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, নিকন দেব, আনোয়ার হোসেন, গোলাপ দাস ও শতদল বড়ুয়াসহ ৩০ জন আহত হয়। কুষ্টিয়ার মিরপুর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা ও কর্তব্যরতদের সাথে অশালীন আচরণ করার দায়ে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আলম বিশ্বাসকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০ দিনের কারাদন্ড দেয়। কিশোরগঞ্জে মিঠামইনে চারিগ্রাম বাজারের কাছে নোয়াহাটি হাওরের খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ঢাকি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি সোলায়মান ভূঁইয়া ও প্রতিপক্ষ পল্লব ভূঁইয়ার সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে উভয় পক্ষে মাসুম মিয়া, মাখন মিয়া, ফরদিস মিয়া, রাজিব ও মকবুল হোসেন নিহত হয় এবং অপর ২০ জন আহত হয়। সোলায়মান ভূঁইয়ার লোকজন হামলা করলে এই হত্যাকান্ড ঘটে এবং তার দায় সোলায়মান ভূঁইয়া এড়াতে পারেনা। উল্লেখ্য মাসুম, মাখন ও ফরদিন ৩ জন আপন ভাই। যশোরের শৈলকুপায় ছোট ধলহরা গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫ জন। মানিক গ্রুপ ও লিটন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক মন্ডল, মুক্তিযোদ্ধা তোবারক মন্ডল, নবোয়াত আলী, সাইফুল ইসলাম, তাজো মোল্লা, আলা মন্ডল, কালা মন্ডল ও আফছার উদ্দিনসহ আহত ১৫ জন।
১০ নবেম্বর নওগাঁর মহাদেবপুরের হর্ষি গ্রামে পুলিশের নিকট হামলা ও আসামী ছিনতাই করে আওয়ামী লীগ। তাদের হামলায় এএসআই শরিফুল ইসলাম, পুলিশ নীলামুনি ঘোষ ও গ্রাম পুলিশসহ ৪ জন আহত হয়। পুলিশ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ, ফারুক হোসেন, রেজাউল করীম বুলু ও ফারজানা জান্নাতসহ ৫ জনকে আটক করে। ১১ নবেম্বর নোয়াখালীর হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ওসি কামরুজ্জামান, এসআই স্বপন ও ৪ কনস্টেবলসহ আহত হয় ৫০ জন। আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক ওয়ালিউল্লাহ গ্রুপ ও মোহাম্মদ আলী গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় তারা বাড়ী-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর করে। বগুড়া পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল হোসেনসহ ৬-৭ জন পুলিশ সদর দপ্তরের কনষ্টেবল শিলু মিয়াকে মারধর করে। শিলু মিয়া এ বিষয় মামলা করলে পুলিশ বাঁধন, মোমিনুল ইসলাম বারী ও জনিকে আটক করে। ১২ নবেম্বর চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে রাজাপুর সীমান্তে কবির হোসেন নামে এক যুবক খুন হওয়ায় মানিকপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ঠান্ডু, তার সহযোগী জহুরুল ইসলাম, জিয়ারুল ইসলাম, শরীফ ও আবুল বাশারসহ ৭-৮ জনের নামে মামলা করে নিহতের ভাই ফারুক আহমেদ। ১৩ নবেম্বর ঢাকার আশুলিয়ায় আওয়ামী লীগের তান্ডবে শাহ আলমসহ আহত ৫ জন। শ্রমিক লীগ পাথলিয়া ইউনিয়ন সহ-সভাপতি বশির মিয়াকে আটক করলে আওয়ামী লীগ তাকে জোর করে পুলিশের নিকট থেকে ছাড়িয়ে নেয়।
১৬ নবেম্বর ঢাকার আজিমপুর কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ দু’গ্রুপে সংঘর্ষ ও গাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। মেয়র সাইদ খোকন গ্রুপ ও মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় ২০ মটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। নাটোরের বনপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে তুণমূলের মতামত উপেক্ষা। উপেক্ষিত বনপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও বড়াইগ্রাম তৃণমূল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার এবং বনপাড়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক সুর্জত আলী পাটোয়ারী সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। ১৮ নবেম্বর নওগাঁর আত্রাইয়ে বড়কালিকাপুর গ্রামে কালী প্রতিমাসহ সব প্রতিমা ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে রাণীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম প্রামানিক, স্বপন, রতন খন্দকার, পলাশ খান, রনি ইসলাম ও কামাল প্রামানিককে আটক করে পুলিশ। ১৯ নবেম্বর বরিশালের গৌরনদীতে আধুনা গ্রামে আওয়ামী লীগ সরিকল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড নেতা দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে অপর কর্মী আব্দুর রহীম। পরে আব্দুর রহীমকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়া হয়। ২১ নবেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এম. আজহারুল হক আরজু এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন গত ২৮ অক্টোবর খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীতে তার গাড়ীবহরে হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপি নিজাম হাজারীর লোকজন। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় চন্দনপুর হাই স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কেন্দ্রের সুপার তাহের মাহমুদকে লাঞ্ছিত করে চন্দনপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনিরুল ইসলাম। চেয়ারম্যানের মেয়ে সেখানে পরীক্ষা দিচ্ছিল এবং তিনি জোর পূর্বক হলে ঢুকলে হল সুপার  তাকে হলের মধ্যে মোবাইলে কথা বলতে নিষেধ করলে এই ঘটনা ঘটে।
২২ নবেম্বর মাগুরার মোহাম্মদপুরে ঘুল্লিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২০টি দোকান ভাংচুর, লুটপাট ও ৩ শতাধিক গাছ কর্তন। আওয়ামী লীগের পিকুল মোল্লা ও জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ৫ জনকে আটক করে। ২৩ নবেম্বর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার বোথলা মাধ্যামক বিদ্যালয়ে ইকড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করলে দলীয় কোন্দলে তা বাতিল হয়ে যায়। ২৪ নবেম্বর রাজশাহীর বরেন্দ্র এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের লোকজন গোপনে বাঘের মোড় থেকে মালার মোড় পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশ থেকে সরকারী বড় বড় মেহগিনি ও শিশু গাছ কেটে নিয়ে যায়। ২৫ নবেম্বর সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ আহত ৩০ জন। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপন ও সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে মোট ৩০ জন আহত হয়। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চাঁদত্রিশিরা গ্রামের ওমর বাহাদুরকে কুপিয়ে জখম করা মামলায় বাগধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মওলা ও তার জামাতা হারুণ খন্দকারকে আটক করে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ২১ নবেম্বর রাতে ওমরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ২৭ নবেম্বর কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা পরিষদ সড়কে আওয়ামী লীগে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত ২১ জন। আওয়ামী লীগ নেতা ও এমপি অধ্যাপক আলী আশরাফ এবং প্রফেসর ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষে দুলাল হোসেন, মনু মিয়া প্রধান, অমল, সোহেল, সামিরুল খন্দকার রবি, শরীফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, জামিল, আরমান হোসেন ও শ্যামলসহ ২১ জন আহত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ