ঢাকা, রোববার 10 December 2017, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্থল বন্দরের রাজস্ব বাড়াতে ঋণের অংকে বড় বিনিয়োগ

স্টাফ রিপোর্টার : স্থল বন্দরের আয় বা রাজস্ব বাড়াতে এবার ঋণ নিয়ে বড় অংকের বিনিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের সাথে ঋণ চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে। ইআরডি’র মাধ্যেেম ৩৮ বছর মেয়াদে ১২শ’ ১৫ কোটি টাকা বা ১৫ কোটি ডলারের ঋণ নিচ্ছে সরকার। বিশ্ব ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রজেক্ট-১’ এর আওতায় এ অর্থে ভোমরা, শেওলা, বেনাপোল ও খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হবে।
সূত্র জানায়, দেশের চারটি স্থলবন্দরের অবকাঠামো আধুনিকায়নে এক হাজার ২১৫ কোটি টাকা (১৫ কোটি ডলার) ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক। ছয় বছরের রেয়াতকালসহ ৩৮ বছরে দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সুদসহ এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
সম্প্রতি শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং বিশ্ব ব্যাংকের আবসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান স্বাক্ষর করেন।
ইআরডি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির তিনটি অংশ রয়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগ পৃথকভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পণ্য পরিবহন সময় কমে আসবে। ভোমরা স্থল বন্দরে ট্রাক ক্লিয়ারেন্স ৭২ ঘণ্টা থেকে ১২ ঘণ্টায় নেমে আসবে।
প্রকল্পটির মোট ব্যয়  ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে এক কোটি ৫২ লাখ ডলার। ২০২১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া প্রকল্পটির মাধ্যমে স্থলবন্দরগুলোর বাণিজ্যিক অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হবে। এর ফলে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য সুবিধা বাড়বে।
বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান প্রকল্পটি বিষয়ে জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তার অর্ধেক বাণিজ্যও ভারতের সাথে করতে পারছে না। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য তথা বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু আমাদের সম্ভাবনা তার চেয়ে বেশি। স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নত হলে ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে। পাশাপাশি নেপাল, ভুটানের সঙ্গেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ