ঢাকা, মঙ্গলবার 12 December 2017, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রংপুর সিটি নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে কমিশন

স্টাফ রিপোর্টার: রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুককে আহবায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কমিটি গঠনের কথা জানান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
কমিটির সদস্যরা হলেন, রংপুর বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম,ছাত্র দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল খালেক। এছাড়া রংপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহ অর্থাৎ রংপুর জেলা ও মহানগর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, গাইবান্দা, ঠাকুগাঁও, কুডিগ্রাম, সৈয়দপুর, নীলফামারী সভাপতিরা পদাধিকার বলে এই কমিটির সদস্য থাকবে।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশ নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের আচরণবিধি লঙ্ঘন হিড়িক চলছে। গতকাল আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে নামমাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করলেও ইসি তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ক্ষমতাসীন জোটের লোকের নির্বাচনী মাঠে সকল আচরণবিধি ও নিয়মকে পদদলিত করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেখানে এখনো আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। ইসি ভোটদের ভয়মুক্ত ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি।
মহাজোটের প্রার্থীর প্রতি ইংগিত করে তিনি বলেন, যে আচরণ বিধি লঙ্ঘন আমরা দেখছি ক্ষমতা দল ও ক্ষমতাসীন জোটের যে প্রার্থী তাদের দিক থেকে। কারণ ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থীও তো শক্তিশালী। একই আম পাতা কাঁঠাল পাতার এপিঠ-ওপিঠ, রঙের ক্ষীণ পার্থক্য থাকলেও একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এ অবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা ভোটারদের মধ্যে সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিএনপি আমলেও দেশে কোন বিদ্যুৎ ছিল না। সে সময় দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকত। তাদের রেখে যাওয়া ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ থেকে আমরা ১৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী যে ডাহা মিথ্যাচার করেন তা দেশবাসীর কাছে নতুন নয়। তিনি একগুঁয়ে ঝগড়াটে বালিকাস্বভাবসূলভ মারমুখী কথাবার্তা বলেন। মানুষ প্রকাশ্যে কিছু না বললেও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এ ধরনের আচরণে মনে মনে মানুষ ছি ছি করে। আওয়ামী লীগ ২০০১সালে রেখে গিয়েছিল ১৮০০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ, বিএনপির ৫ বছরে সেটা ৩২০০ মেগওয়াটে উন্নীত করা হয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই এত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেন সে বিদ্যুৎ গেল কোথাও। এ শীতের দিনেও শহরে দিনে তিন চার বার লোডশেডিং হয়। গ্রামেতো বিদ্যুৎ যায় না আসে। মফস্বল শহর এবং গ্রাম অন্ধকারে নিমজ্জিত। কুইক রেন্টালের নামে যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বলা হয় এটা সে কাজির গরুর মতো কেতাবে আছে গোয়ালে নেই। মুলত বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি। পকেট ভারী হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট আত্মীয়স্বজনদের।
রিজভী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সময় দুর্নীতি পাগলা ঘোড়ার মতো বেসামাল হয়ে পড়েছে। বিশ্ব মিডিয়ায় শিরোণাম হয়েছে। আর এটি হতে গিয়ে সরকারের অনেক উর্ধ্বতন ব্যক্তিকে নাকে খত দিতে হয়েছে । বিগত নয় বছরে রাজকোষসহ সরকারি ব্যাংক লুট হয়েছে, শেয়ারবাজার, বীমা ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ক্ষমতাসীনরা লুটে নেওয়ায় অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। লুটের কারণে আজকেও একটি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন দেখতে পেলাম। পদ্মা সেতুর কথা মানুষ ভুলে যায়নি।  কারণ সড়ক মহাসড়কের বেহাল বেহাল দশায় মানুষকে প্রতিদিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হচ্ছে। উন্নয়নের নামে দেশে যে হরিলুট চলছে তা মানুষ হিসেব রাখছে। এরপরেও নির্লজ্জের মতো কথা বলেন সরকার প্রধান থেকে সরকারের মন্ত্রীরা। নিজেদের কলঙ্ক তিলক ঢাকতে তারা জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অলীক কাব্য কথা রচনা করেন। হাজার মিথ্যা দিয়ে নিজেদের সত্য অপকর্ম ঢাকতে পারবেন না। রাষ্ট্রশক্তিকে নিজেদের সুবিধামত ব্যবহার করে সেটি প্রয়োগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। যা পরিকল্পিত ও নীলনকশারই অংশ। মিথ্যা অপপ্রচারের গোলকধাঁধা সৃষ্টি করে মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ