ঢাকা, মঙ্গলবার 12 December 2017, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাসকে থানায় সোপর্দ করার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : প্রসূতির পেটে গজ রেখে অস্ত্রোপচার করা কথিত চিকিৎসক রাজন দাস ওরফে অর্জুন চক্রবর্তীকে বাউফল থানায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই ভুয়া ডাক্তার, পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল সোমবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, বাউফল থানায় এ বিষয়ে রাজন দাসের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানানো হলে হাইকোর্ট রাজন দাসকে বাউফল থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করতে বলেন। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও বাকিদের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৩ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আদালতে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামসুদ্দিন বাবুল। ভুল অস্ত্রোপাচারের শিকার বরিশালে মাকসুদা বেগমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিক। ক্লিনিকের পরিচালক ও নার্সের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম। চিকিৎসকের সহকারী তোফায়েল সিকদারের (মিশু সিকদার) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আইলাদ হোসেন। আর ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাসের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন নুরুল ইসলাম সুজন ও গোলাম নবী। সরকার পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার ও সহকারী এটর্নি জেনারেল জেসমিন সামসাদ।
গত ১৫ নবেম্বর প্রসূতির পেটে গজ রেখে অস্ত্রপাচার শেষ করা ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাসকে আটক করে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে আটক করতে প্রয়োজনে র‌্যাবের সহায়তা নিতে পটুয়াখালীর বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বলা হয়।
ওইদিন শুনানির শুরুতে বাউফল থানার ওসি মনিরুজ্জামান আদালতকে বলেন, ভুয়া ডাক্তার রাজন দাসকে আটক করতে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ সময় আদালত বলেন, আপনারা চাইলে তাকে ধরতে পারবেন। প্রয়োজনে র‌্যাবের সহযোগিতা নেন।
গত ৬ নবেম্বর প্রসূতির পেটে গজ রেখেই অপারেশন শেষ করায় চিকিৎসক রাজন দাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন হাইকোর্ট। তাকে ১৫ নবেম্বরের মধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করতে বলা হয়।
ওইদিন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় রাজন দাস ভুয়া সার্টিফিকেটধারী চিকিৎসক।
গত ২৩ জুলাই পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বরিশাল মেডিকেলের গাইনি বিভাগের প্রধানসহ তিনজনকে তলব করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া পটুয়াখালীর বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে হাজির হতে বলা হয়। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ কেন আনা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। সরকারের স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ৯ বিবাদীতে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
একটি জাতীয় দৈনিকে গত ২২ জুলাই ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হলো গজ!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লা তা আদালতের নজরে আনার পর হাইকোর্ট তলব আদেশ দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চে সন্তান প্রসবের জন্য মাকসুদা বেগমকে (২৫) বাউফলের নিরাময় ক্লিনিকে নেয়া হয়। অস্ত্রোপচার করে মাকসুদা বেগমের একটি মেয়ে হয়। কয়েক দিন ক্লিনিকে থাকার পর তারা বাড়ি ফেরেন। এক মাস পর মাকসুদা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করায় আবারও ওই ক্লিনিকে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। দুই মাস পর খিঁচুনি দিয়ে জ্বর ওঠে। তখন খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। গত জুনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখানো হয়। তখন আল্ট্রাসনোগ্রাফিতেও কিছু ধরা পড়েনি।
এরপর পটুয়াখালীর এক চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। গত ১২ জুলাই হাসপাতালে মাকসুদা বেগমের পেটে অস্ত্রোপচার হয় তখন তার পেটের ভেতর থেকে গজ বের করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ