ঢাকা, মঙ্গলবার 12 December 2017, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মওলানা ভাসানীর ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩৭তম জন্মবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। সা¤্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী মহান এই রাজনীতিক ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ঢাকা ও টাঙ্গাইলে ভাসানীর মাযারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, দোয়া মুনাজাত ও আলোচনা সভা সহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মওলানা ভাসানীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এদিকে, জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে গতকাল সোমবার জাতীয় নেতা মওলানা ভাসানীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ বাণী দিয়েছেন।
বাংলাদেশের কিংবন্তীর রাজনীতিবিদ মওলানা ভাসানী সারাটা জীবন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ব্যয় করেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের জীবনে কখনও কোথাও মাথা নত করেননি। আপোষহীন থেকেছেন নিজের আদর্শের প্রতি। জাতীয়তাবাদী চেতনাকে ধারণ করে মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে ছিলেন অবিচল। শুধু বৃটিশ নয়, পাকিস্তান স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তিনি জীবনপণ লড়াই চালিয়েছেন। এই সকল লড়াই-সংগ্রামের জন্য জেল, জুলুম, হুলিয়াসহ নানা নির্যাতনের শিকার হন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অবদান অবিস্মরণীয়।
মওলানা ভাসানী ছিলেন বৃটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নায়ক, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। তিনি রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময় মাওপন্থী কম্যুনিস্ট তথা বামধারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাকে ‘লাল মওলানা’ নামেও ডাকতেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা এবং পঞ্চাশের দশকেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের ‘ওয়ালাইকুমুসসালাম’ বলে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ইঙ্গিত দেন।
ভাসানীর বাবার নাম শরাফত আলী খান, মায়ের নাম কোন প্রামাণ্য গ্রন্থে নেই। তিনি ছিলেন পিতা-মাতার চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তার ডাক নাম ছিল চেগা মিয়া। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ভাসানী ১৮৯৭ সালে পীর সৈয়দ নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে আসাম যান। ১৯০৩ সালে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ইসালামিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭ সালে দেওবন্দ যান। দুই বছর সেখানে অধ্যয়ন করে আসামে ফিরে আসেন। ১৯১৭ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ময়মনসিংহ সফরে গেলে তার ভাষণ শুনে ভাসানী অনুপ্রাণিত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগদান করে খেলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেয়ায় ১০ মাস কারাভোগ করেন। ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন স্বরাজ্য পার্টি গঠন করলে ভাসানী সেই দল সংগঠিত করার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৬ সালে আসামে প্রথম কৃষক-প্রজা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান। ১৯২৯-এ আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর  ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন আয়োজন করেন। এখান থেকে তার নাম রাখা হয় ভাসানী মওলানা। এরপর থেকে তার নামের শেষে ‘ভাসানী’ শব্দ যুক্ত হয়।
১৯৪৯ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ যা আজকের আওয়ামী লীগ। মওলানা ভাসানী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৫৭ সালে স্বায়ত্ত শাসন প্রশ্নে মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ। ১৯৭৬ সালের ১৭ নবেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই দেশবরেণ্য নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তাকে টাঙ্গাইলের সন্তোষে দাফন করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ