ঢাকা, মঙ্গলবার 12 December 2017, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মহানগরীসহ বৃহওর চট্টগ্রামে খুন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে গেছে

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম মহানগরীসহ বৃহওর চট্টগ্রামে খুন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে গেছে। এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও বেশ কিছু খুনের সাথে ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুন হচ্ছে বলে খোদ সরকারি দলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ তুলছে। তারা আরও দাবি করছে রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ কোন এ্যাকশনে যেতে পারছে না, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে বেগ পাচ্ছে। সরকারি দলের নেতাকর্মীরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
বিরোধী দলীয় নেতারা বলছেন, ক্ষমতাসীন দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোতে আধিপত্য বিস্তার ও আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে চট্টগ্রামে খুনের ঘটনা বাড়ছে। একের পর এক হত্যাকা- ঘটলেও সে সবের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছেন। এদিকে বিভিন্ন খুনের ঘটনায় মূল হোতারা ধরা না পড়ায় হতাশ হত্যাকা-ের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছে, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার হত্যার ঘটনার ছাড়াও চট্টগ্রামে পরকীয়া প্রেম, শত্রুতা, পারিবারিক কোন্দল নিয়ে খুনের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে ছেলের হাতে বাবা, স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী, বন্ধুর হাতে বন্ধু খুনের ঘটনাই বেশি। সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয়ের কারণে এসব সহিংস ঘটনা ঘটছে বলছে পুলিশ। এ সব খুনের ঘটনার সাথে জড়িতদের পুলিশ দ্রুত গ্রেফতার করতে পারছে ও খুনের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হচ্ছে। পরকীয়া প্রেমজনিত শত্রুতা, পারিবারিক কোন্দলজনিত খুন বাড়ার পিছনে আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব বলে অভিজ্ঞমহল বলছে। তারা বলছে, এসব অপরাধ পুলিশ নয় কারও পক্ষে রোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক অনুশাসন, ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতি, ফেসবুক সামাজিক কাঠামো, পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করে দিচ্ছে। বিশেষ করে পরিবারের বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের মাঝে হিংসা বিদ্বেষ, ক্লেশ ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করছে বলে দাবি অভিজ্ঞমহলের।
সম্প্রতি নাগরিক উদ্যোগ এর বিভিন্ন সমাবেশে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, একটার পর একটা হত্যাকা- করে হত্যাকারীরা নিরাপদ জীবন যাপন করায় নাগরিক সাধারণের মধ্যে গভীর উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। আমরা মৃত্যুর উপত্যকা নয় মানবিক বসবাসের নগরী চাই। হত্যাকারী, জুলুমকারীদের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তথা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
গত ১৩ আগস্ট নগরীর নন্দনকাননে ইমরানুল করিম ইমন নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে খুনের পর মরদেহ এসিডে গলানোর চেষ্টা করে তার বন্ধু যুবলীগ ক্যাডার অমিত মুহুরী। তবে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। অমিত মুহুরী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছে। ৩০ আগস্ট নগরের পাহাড়তলী পাওয়ার হাউস এলাকায় আরিফ হোসেন নামে এক যুবক ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন। ১৪ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী নদী থেকে এক পুরুষের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাটে একটি পরিত্যক্ত কারখানার ভেতর থেকে দুই যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মোহাম্মদ মোরশেদ (২৮) ও মো. খোকন (৩২) নামে ওই দুই চাচাতো ভাইয়ের মরদেহ সেখান থেকে পুলিশ উদ্ধার করলেও এখনো রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি।
৬ অক্টোবর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে খুন করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ৬ অক্টোবর নগরীর আকবর শাহ থানার কৈবল্যধাম এলাকায় ছুরিকাঘাতে জয় দাশ নামে এক যুবক খুন হন। পরদিন ৭ অক্টোবর ভোরে নগরের ডবলমুরিং থানার সুপারিপাড়া এলাকায় মোহাম্মদ ইমন নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। ২২ অক্টোবর নগরীর বাহির সিগন্যাল এলাকায় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয় যুবলীগ কর্মী কাকন মল্লিক। ৫ নবেম্বর নগরীর বৈলতলী এলাকা থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়। ২ ডিসেম্বর শনিবার রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে চাঁদাবাজীর টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে খুন হন যুবলীগ কর্মী দিদারুল আলম (৩০)। সর্বশেষ চলতি মাসের ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানার মাদারবাড়ি মরিচ্যাপাড়া এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যুবলীগ সন্ত্রাসীদের গুলীতে খুন হন থানা যুবদলের আহ্বায়ক ও পরিবহন ব্যবসায়ী মো. হারুণ (৪০)।
এ ছাড়া অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন এলাকায় উঠতি কিছু তরুণ, বখাটে যুবক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নেতার অনুসারী হিসাবে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করে বিভিন্ন গ্রুপ হয়ে চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তারা জায়গাজমি দখল, সন্ত্রাসী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। তারা এতো বেপোরোয়া যে একমাত্র পুলিশ ছাড়া কাউকে তারা সমীহ করে না। অভিযোগ রয়েছে মারামারি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম তাদের নিত্য নৈমত্তিক কর্মকাণ্ড।
চট্টগ্রামের চন্দনপুরা, চকবাজার, মোমিন রোড, জামালখান, গোলপাহাড়, জিইসি এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় উঠতি তরুণ যুবকরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। চকবাজার এলাকায় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার অনুসারী এক যুবলীগ ক্যাডারের গ্রুপ চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত রয়েছে। চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি মহসিন কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তারা প্রায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায়। এই দুই কলেজের ছাত্রছাত্রীরা থাকে আতঙ্কে। এ নিয়ে চকবাজারের কেউ মুখ খুলতে পারে না বলে অভিযোগ রয়েছে। গত কিছু দিন আগে চকবাজারের যুবলীগ সন্ত্রাসীর অনুসারীদের হামলায় জামালখান এলাকায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ২ জন সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়। গত ২০ নবেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরীর ও আর নিজাম রোড গোলপাহাড় এলাকায় ডাক্তারদের দ্বন্দ্বের জের ধরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানার ডকের পাড় এলাকার মো. মনির (৪০) নামে শ্রমিক লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে সন্ত্রাসীরা। আহত মনিরকে গুরুতর আহতবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ছে। মনির সদরঘাট থানা ঘাট, গুদাম শ্রমিক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। চাঁদা না দেয়ায় মনিরকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়েছে বলে জানায় তার পরিবার। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দশটার দিকে সদরঘাট থানাধীন ইদ্রিস আজিজ কলোনির সামনে এঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক হামিদ বলেন, মনিরের হাত, পিঠ ও মাজাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। মনিরের ছোট ভাই জাকির হোসাইন বলেন, আমার ভাই রাতে বাসার পার্শ্ববর্তী দোকানে গেলে সেখানে সিদ্দিক, শরফত, অপু ও সোহেলসহ আরো কয়েকজন লম্বা দা দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। তারা বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেয়ায় এ ঘটনা ঘটায় দাবি করে জাকির বলেন, মাস খানেক আগে তারা আরো একবার হামলা করেছিল। এ নিয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে পরকীয়া বেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবারের গৃহবধূরা এ পরকিয়ায় জড়াচ্ছে। এ ছাড়া সামাজিক, পারিবারিক অবক্ষয়ের কারণে পরিবারের মধ্যে ভাইয়ের হাতে ভাই, বন্ধুর হাতে বন্ধু খুনের ঘটনা বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে সমাজ ও পারিবারিক জীবনে চরম অবক্ষয় নেমে এসেছে বলছে সাধারণ মানুষ । গত ২ নবেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই মাহিন উদ্দিন খুন হয়। ৪ নবেম্বর নগরীর আকবর শাহ এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে খুন হয় রোকসানা আক্তার নামে এক গৃহবধূ। ১৪ নবেম্বর নগরীর কুঞ্জছায়া এলাকায় সোহানী নামে তিন বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এর একদিন পর ১৬ নবেম্বর নগরীর মোহরা এলাকা থেকে রোশনি আক্তার নামে এক মহিলার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ছাড়া গত ২৪ নবেম্বর রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা এলাকায় নারী সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২৫ বছর বয়সী হামিদ নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করে তারই সহপাঠীরা। এর পরদিন নগরীর বায়েজিদ থানা বার্মা কলোনি থেকে রোজিনা আক্তার নামে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৮ নবেম্বর বাকলিয়া থানার লতিফ কলোনিতে গ্যাসের চুলার বিরোধকে কেন্দ্র করে ছুরি মেরে হত্যা করা হয় জামাল উদ্দিনকে (৪০)। ২৫শে নবেম্বর শনিবার নগরীর চকবাজার এলাকায় পুরুষাঙ্গ কেটে নির্মমভাবে খুন করা হয় আইনজীবী ওমর ফারুক বাপ্পিকে। এ ঘটনায় জড়িত তার কথিত স্ত্রীসহ আরো ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৩০শে নবেম্বর বৃহস্পতিবার পটিয়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে চালক আবদুল হাকিমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।একই দিন একই উপজেলার পশ্চিম কচুয়া দুই নং ওয়ার্ডে পারিবারিক বিরোধে মোশাররফ হোসেন নামে ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করে তার ছেলে। এ ঘটনায় ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ২৯শে অক্টোবর ফটিকছড়ি উপজেলার লেলং এলাকায় দুর্বৃত্তরা ৩৪ বছর বয়সী যুবক তারেককে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। ২৫ অক্টোবর নগরীর বায়েজিদ থানার চৌধুরী নগর এলাকায় মো. আজিজ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। এর দুই দিন আগে ২৩ অক্টোবর একই থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকা থেকে সোনিয়া আক্তার নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২২শে অক্টোবর নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় জরিনা বেগম নামে এক নারীকে লাঠি দিয়ে আঘাতে হত্যা করে তার স্বামী। এর একদিন আগে ২১ অক্টোবর নগরীর হালিশহর এলাকায় রাসেল নামে এক যুবককে হত্যা করে তারই বন্ধুরা। ২০ অক্টোবর হাটহাজারী থানার চারিয়া এলাকা থেকে সাইমুন নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। একইদিন মিরসরাই ইপজেলায় ওমর ফারুক নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। ১৭ অক্টোবর নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে হৃদয় হোসেন নামে এক যুবককে হাত পা-বেঁধে হত্যা করা হয়। ১০ই অক্টোবর সাতকানিয়ার একটি মন্দির থেকে পুরোহিত ও তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৮ অক্টোবর হাটহাজারী থানার ফতেহপুর এলাকা থেকে রুমা আক্তার নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১ ডিসেম্বর শুক্রবার সকালে হাটহাজারী থানার সন্দ্বীপ পাড়ায় এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ