ঢাকা, মঙ্গলবার 12 December 2017, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় টিসিবি’র নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র ছাড়া পণ্য  বিক্রি হচ্ছে না

খুলনা অফিস : খুলনা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খুলনা জেলায় টিসিবি’র কোন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র টিসিবি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিজস্ব বিপণন কেন্দ্রে এই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পণ্য বিক্রি জরুরি না হওয়ায় ট্রাক সেল নেই। এমনকি পণ্য বিক্রির জন্য ৭ জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করলেও তা খুলনার জন্য না বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, খুলনায় টিসিবি’র মজুদকৃত পণ্যের সাথে বিক্রির জন্য নতুনভাবে ৯৮ হাজার লিটার তেল বরাদ্দ হয়েছে। এই বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে টিসিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় গত ৩০ নবেম্বর থেকে টিসিবি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিজম্ব বিপণন কেন্দ্র ও ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এই পণ্য খুলনায় খোলাবাজারে ক্রেতাদের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে না। তবে এ বিক্রয় জরুরি না থাকায় খুলনায় কোন ট্রাক সেলও নেই। খুলনার ক্রেতাদের টিসিবি’র পণ্য কিনতে হলে বাধ্য হয়ে খুলনা শিববাড়ি মোড়স্থ টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয়ের নিজস্ব বিপণন কেন্দ্রে যেতে হবে।

এদিকে টিসিবি’র আওতাধীন ৪৮২ জন ডিলারের মধ্যে যে ৭ জন ডিলার পণ্য উত্তোলন করেছেন তারাও খুলনা জেলার বাইরে। তারা হলেন নড়াইল ও ঝিনাইদহের। এমনকি ডিলাররা বিক্রির ভয়ে তাদের জন্য বরাদ্দের পণ্য উত্তোলন করছেন না বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, টিসিবি’র বিক্রয়কৃত চিনি, তেল ও মসুরির ডালের মধ্যে ডালের দাম ১৫ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে চিনি ও তেল পূর্বের ন্যায় ৫৫ ও ৮৫ টাকা বিক্রি করা হলেও ডাল বিক্রি করা হচ্ছে ৫৫ টাকা। একজন ডিলারের জন্য বিক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সময়ের মধ্যে মাত্র একবার চিনি ও তেল ২০০-৪০০ কেজি এবং মসুরির ডাল ৪০০-২০০০ কেজি উত্তোলন করতে পারবেন। এদিকে টিসিবি’র নিজস্ব গুদামে ৪০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল, ৪ মেট্রিক টন চিনি ও ২০৫ মেট্রিক টন মসুরির ডাল মজুদ রয়েছে। এর সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৯৮ হাজার লিটার সয়াবিন তেল। একজন ভোক্তা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৩ কেজি মসুরির ডাল, ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন বলে জানা গেছে।

খুলনা ময়লাপোতা মোড়স্থ দিনমজুর মো. লালচাঁন হোসেন বলেন, কোথায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রি হচ্ছে। বিক্রি হলে তো মোড়ে দেখা যেত। তারা দিন আনে দিন খায় টিসিবি’র অফিসে যেয়ে কিনে আনার সময় নেই। আগেতো মোড়ে মোড়ে বিক্রি হতো এখন বিক্রি করতে কি সমস্যা বলে প্রশ্ন করেন তিনি।

নিরালা এলাকায় বসবাসকারী আয়েশা বেগম বলেন, টিসিবি’র পণ্য কোথায় পাবো। বিক্রি হচ্ছে কিনা তা এই এলাকার কেউই জানে না বলেও জানান তিনি।

খুলনা টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধান মো. রবিউল মোর্শেদ বলেন, টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করা শুরু হয়েছে। তবে খুলনার কোন ডিলার বিক্রির জন্য পণ্য উত্তোলন করেননি। যা উত্তোলন করেছে তা নড়াইল ও ঝিনাইদহের জন্য। আর এই পণ্য বিক্রি জরুরি না হওয়ায় ট্রাক সেলের প্রয়োজন নেই বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ