ঢাকা, মঙ্গলবার 12 December 2017, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাণিজ্য মেলায় অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের ৩টি সনদ দাখিলের নতুন আইন

শাহেদ মতিউর রহমান : দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার বাণিজ্য মেলায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু শর্ত দিচ্ছে। নতুন এই বিধান জারির ফলে আসন্ন বাণিজ্য মেলায় যে কেউ ইচ্ছে করলেই আর অংশ নিতে পারছে না। মেলায় অংশ নিতে হলে অন্যান্য শর্ত পূরণের পাশাপাশি ব্যবসা সংক্রান্ত তিনটি সনদও জমা দিতে হবে। নতুর এই বিধানের ফলে মেলায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
সূত্র জানায়, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনে আগামী বছর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে। ট্রেড সনদ, আয়কর ও ভ্যাট পরিশোধের সনদ দাখিলসহ দেশীয় পণ্য সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্য মেলা আয়োজন-সংক্রান্ত নতুন একটি বিধান জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর যথাযথ অনুসরণের মাধ্যমে বাণিজ্য মেলা আয়োজনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরো জানায়, দেশের অভ্যন্তরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০০৭ সালেই বাণিজ্য মেলা আয়োজন সম্পর্কিত বিধান জারি করে সরকার। এর সর্বশেষ সংস্করণটি জারি হয় চলতি বছরের ১৪ মার্চ। এরপর গত ১৯ নবেম্বর আগেরটি বাতিল করে বিধানাবলির নতুন সংস্করণের পরিপত্র জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর এ নতুন বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেলা আয়োজনে সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক নজরদারি আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গত ১৪ মার্চের সঙ্গে ১৯ নবেম্বর জারিকৃত পরিপত্রের বিধানাবলিতে বেশকিছু পার্থক্য দেখা গেছে। এতে নতুন বেশকিছু বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ট্রেড সনদ, আয়কর ও ভ্যাট পরিশোধের সনদ দাখিল করা। এছাড়া রয়েছে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির সনদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও দেশীয় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া নিশ্চিত করার মতো নতুন কিছু বিধান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মূলত মেলায় সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে আরো সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে নতুন বিধান জারি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিপত্রে উল্লিখিত নতুন বিধান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য আয়োজক প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে অফেরতযোগ্য ২০০ ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশী টাকা চালানের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড সনদ, আয়কর ও ভ্যাট পরিশোধের সনদ দাখিল করতে হবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কর্তৃক সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন প্রাপ্ত ব্যবসায়িক সংগঠন/ অ্যাসোসিয়েশনকে টিও লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশনের কপিসহ ন্যূনতম দুই মাস আগে লিখিত আবেদন করতে হবে। তবে দেশীয় পণ্য বা দেশীয় পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে-এমন মনে হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মেলার অনুমতি না দেয়ার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
স্থানীয় বাণিজ্য মেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চেম্বারের সুপারিশের ভিত্তিতে ও স্থানীয় পুলিশ বিভাগের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন অনধিক এক মাসের জন্য বাণিজ্য মেলা আয়োজনের অনুমতি প্রদান করতে পারবে। শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে স্থানীয় বাণিজ্য মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পরিবর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে মোট আটটি শর্ত পরিপালন করতে হয় আয়োজকদের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু শর্ত হলো আমদানি নিষিদ্ধ বা অবৈধ পণ্য মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রয় না করা, মেলায় প্রদর্শিত পণ্যসামগ্রী মেলা আয়োজনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া, অশালীন, অসামাজিক ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা না করা, জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো কার্যক্রম বা বাংলাদেশের ইতিহাস পরিপন্থী কোনো কিছু প্রদর্শন বা প্রচার না করা, মেলা আয়োজনের নিমিত্তে মাঠ বা স্থান ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পৃথকভাবে অনুমতি গ্রহণ ইত্যাদি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ