ঢাকা, মঙ্গলবার 12 December 2017, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় খাদ্য বিভাগের পুনঃদরপত্রেও সিন্ডিকেট

খুলনা অফিস : খুলনায় খাদ্য বিভাগের শ্রমিক হ্যান্ডলিং কাজের পুনঃদরপত্রেও আওয়ামী লীগের ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রের প্রথম দফায় বিক্রিত সিডিউলের দশ ভাগের এক ভাগ সিডিউলও বিক্রি হয়নি দ্বিতীয় দফায়। ক্ষমতাসীন দলের ও ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির শীর্ষ নেতারা সিডিউল কিনতে এবং জমা দিতে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুু’টি কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম, উপজেলা পর্যায়ের আটটি ছোট খাদ্য গুদাম এবং নগরীর ৪ ও ৭নং ঘাট খাদ্য গুদামের শ্রমিক হ্যান্ডলিংয়ের কাজের দরপত্র জমা দান এবং দরপত্র উন্মুক্তের নির্ধারিত দিন ছিল রোববার। এ কাজের বিপরীতে দরপত্র ক্রয় এবং জমা দিতে পারেননি সাধারণ ঠিকাদাররা। দ্বিতীয় দফায় সিডিউল বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৪৯টি। গত ৬ নবেম্বর প্রথম দফায় এ কাজে দরপত্র বিক্রয় হয়েছিল এক হাজার ৩৭৮টি। ওই সময়ে সিডিউল জমা পড়েছিল মাত্র ১৫টি। ওই সময়ে ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির শীর্ষ নেতা এবং জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। সাধারণ ঠিকাদারদের দরপত্র জমাদানে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় দফায়ও সিডিউল জমাদানে বাধা দেবার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সিডিউল জমা পড়েছে মাত্র ৪০টি। সিডিউল বিক্রিতে বাধার কারণে সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা আয় করে খাদ্য বিভাগ শুধুমাত্র সিডিউল বিক্রি করে। তবে এবার এক লাখ টাকাও আয় করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।
এদিকে সাধারণ ঠিকাদাররা সিডিউল ক্রয় এবং জমা দিতে বাধার অভিযোগ দিলেও বিভাগীয় চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক (খাদ্য) অতিরিক্ত দায়িত্বের খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন তা অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মহেশ্বরপাশা ও খুলনা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম, উপজেলা পর্যায়ের আটটি খাদ্য গুদাম এবং ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটে শ্রমিক হ্যান্ডলিংয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি খাদ্য শস্য ও অন্যান্য দ্রব্যাদির শ্রম ও হস্তার্পণের জন্য ‘শ্রম ও হস্তার্পণ’ ঠিকাদার নিয়োগে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ কাজে সিডিউল জমায় কেউ বাধা দিয়েছে এবার এমন কোন অভিযোগ কেউ করেননি। সুতরাং শান্তিপূর্ণভাবেই সিডিউল বিক্রি এবং জমা দিয়েছেন সাধারণ ঠিকাদাররা।’
এ ব্যাপারে খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল খোকন বলেন, সিডিউল ক্রয়ে এবং জমাদানে কোন বাধার ঘটনা ঘটেনি। সকলেই সিডিউল কিনেছে এবং জমাও দিয়েছে। আগের বার যাদের অভিজ্ঞতা নেই তারাও সিডিউল কিনেছিলেন। এবার তা হয়নি। সে কারণে কম বিক্রি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ