ঢাকা, মঙ্গলবার 12 December 2017, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ট্রাম্পের স্বীকৃতি বাতিল না করলে মার্কিন পণ্য বর্জনের আহ্বান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি উপলক্ষে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক জেরুসালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতকাল সোমবার আমেরিকা দূতাবাস অভিমুখে বিশাল গণমিছিল কর্মসূচি পালন করেছে। গণমিছিলটি পল্টন থেকে শান্তিনগরে পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী ১৫ ডিসেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কমসূচি ঘোষণা করা হয়। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ট্রাম্পের ঘোষণা বিশ্বের মুসলমানরা মেনে নেয়নি এবং নিবেও না। ট্রাম্পকে তার স্বীকৃতি বাতিল করতে হবে অন্যথায় বিশ্বের মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে ইসরাঈল ও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গড়ে তুলবে। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে বিশ্বকে নতুন করে সংঘাত এবং অশান্ত করার  দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই স্বীকৃতি বিশ্বমুসলিমের বিরুদ্ধে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।  ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্ব আদালতে মামলা করতে হবে। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সকল কার্যক্রম ও পরিকল্পনা হচ্ছে ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংস করা। এর অংশ হিসেবেই ট্রাম্প মুসলমানদের প্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের শহর জেরুসালেমকে জারজ রাষ্ট্র ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেছে। তার এই ঘোষণা প্রত্যাহার না করলে বিশ্বমুসলিম আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। বিশ্বমুসলিমকে আমেরিকার কাছে তেল বিক্রি বন্ধসহ পর্যায়ক্রমে আমেরিকান সকল পণ্য বর্জন করতে হবে। তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি আমেরিকার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সারাবিশ্ব থেকে আমেরিকার দূতাবাস বন্ধ করতে হবে। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে আমেরিকান দূতাবাস অভিমুখে রওয়ানা দিয়ে পল্টন মোড়, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর পৌঁছলে পুলিশ গণমিছিলের গতিরোধ করতে পূর্ব থেকেই কাঁটাতারের বেরিগেট তৈরি করে মিছিলের গতিরোধ করে। এ সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পীর সাহেব চরমোনাই’র হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ঘেরাওয়ের পূর্ব কর্মসুচি অনুযায়ী গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আমেরিকান দূতাবাস অভিমুখে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, যুবনেতা কেএম আতিকুর রহমান, ছাত্রনেতা জিএম রুহুল আমীন, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, হাজী শাহাদাত হোসেন, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, মাওলানা আনোয়ার হোসেন জেহাদী, মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলাম, মাওলানা নাযীর আহমদ শিবলী ও মুফতি মাছউদুর রহমান। সমাবেশ পরিচালনা করেন সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন।
অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেন, ইসরাইল ও  ট্রাম্প বিশ্ব মুসলিমের শত্রু“। প্রয়োজনে অস্ত্র ধরতে হলেও  ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। আরব ভূখ- থেকে ইসরাইলকে উৎখাত করে জেরুসালেম ও প্রথম কেবলা দখলমুক্ত করা হবে।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশ এবং সারাবিশ্বে ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা প্রতিহত করা হবে।
মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, তাবৎ আল্লাহদ্রোহী শক্তিগুলো ইসলাম ও মুসলমানের নাম-নিশানা মুছে দিতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের সকল চক্রান্ত রুখে দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ