ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 December 2017, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইসরাইলের নয় জেরুসালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণার দাবি হেফাজতে ইসলামের

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে শান্তিনগর মোড়ে মিছিলটি বাধা দেয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: জেরুসালেমকে ইহুদিদের হাত থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতারা বলেছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। অবিলম্বে জেরুসালেমকে মুক্ত করে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করতে হবে।
গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেয়ার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচী পালন করা হয়।
হেফাজতে ইসলামের বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে জমায়েত হতে থাকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে বেলা ১২টায় দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে রওনা দেন তারা।
মিছিলসহ দলের নেতাকর্মীরা পল্টন মোড়, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর এলাকায় এলে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
এরপর পুলিশের সহায়তায় হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা নূর হোছাইন কাসেমীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য মার্কিন দূতাবাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আজীজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী।
এর আগে হেফাজতে ইসলাম বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয় ইসরাইলের হাত থেকে জেরুসালেম যতোদিন পর্যন্ত মুক্ত না হবে ততোদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সব সম্পর্ক ছিন্ন এবং ইসরাইলের সব পণ্য বর্জন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সবাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাতিল করে জেরুসালেমকে মুক্ত করতে বিশ্বমুসলিমকে এক হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন জেরুসালেম ইসরাইলের রাজধানী। আমরা তার এই সিদ্ধান্ত মানি না। ইসরাইলকে অবিলম্বে জেরুসালেম থেকে চলে যেতে হবে। জেরুসালেম ফিলিস্তিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই জেরুসালেমকে অবিলম্বে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করতে হবে।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর অন্যতম সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ট্রাম্প বিশ্ব মুসলিমের অন্তরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের এ ঘোষণা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন রাখতে হবে। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে আপনি কথা বলে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করার ব্যবস্থা করবেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মনজুরুল ইসলাম, হেফাজত নেতা মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, অধ্যাপক আব্দুল কবির, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা শফিক উদ্দিন, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, আয়াতুল্লাহ আমিনী, হেফাজত নেতা ও হাটহাজারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাসির উদ্দিন মনির প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ