ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 December 2017, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে শিশু হত্যা ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি

এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধান : [দুই]
বর্ণনাটি থেকে নিশ্চিত হওয়া যে, আল্লাহ বাচ্চাটির মুখে ভাষা খুলে দেবেন। সে আল্লাহ তায়ালাকে বলবে হে আল্লাহ আপনি আমাকে দুনিয়ার বুকে পাঠিয়েছিলেন, আর এই লোকগুলো আমাকে পৃথিবীর আলো বাতাস গ্রহণ করতে দেয়নি। মায়ের দুধ খেয়ে বড় হতে দেয় নি বা কিছুদিন বাচতে দিলেও আমাকে বড় হতে দেয় নি। তুমি এই খুনিদের উপযুক্ত বিচার কর। বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ সুনানে দায়েমীর ভূমিকায় ২ নং হাদীসে এ ধরনের একটি মর্ম স্পর্শী ঘটনা উদ্ধৃত হয়েছে। ওদাইন (রা:) থেকে বর্ণিত একদিন এক ব্যক্তি (সম্ভবতঃ ইসলাম গ্রহণের জন্য) রসুল্লাহর (সা:) এর নিকট আগমন করে। ঐ ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (দ:) এর নিকট বর্ণনা করলেন যে, ইয়া রাসলুুল্লাহ আমরা জাহেলিয়তের  যুগে কু প্রথার অনুসারী ছিলাম। আমরা মুর্তি পুজা করতাম  এবং নিজেদের সন্তানদের হত্যা করতাম। আমার নিজের একটি কন্যা শিশু সন্তান ছিল। আমি তাকে ডাক দিলে সে খুব খুশি হত। একদিন আমি বাচ্চাটিকে ডাক দিলাম এবং চলতে থাকলাম। বাচ্চাটি আমার ডাক শুনে আমার পিছনে পিছনে আসতে থাকলো। আমি বাচ্চাটি সহ আমাদের বস্তির অদুরে একটি কুয়ার নিকট পৌছলাম। আমি বাচ্চাটির দুহাত ধরে ঐ কুয়ায় ফেলে দিলাম। বাচ্চাটির শেষ কথা ছিল আব্বা আব্বা। ঘটনাটি শুনে রাসলুুল্লাহ (দ:) এর দুচোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। ঐ সময় রসুলুুল্লাহ (দ:) সামনে বসে থাকা এক ব্যক্তি লোকটিকে তিরস্কার করে বললো তুমি রসুলুল্লাহকে (দ:) মনোকষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছ। রসুলুল্লাহ (দ:) তিরস্কারকারী ব্যক্তিকে থামিয়ে দিয়ে পুনরায় লোকটিকে তার সন্তান হত্যার ঘটনাটি শুনতে চাইলেন। লোকটি দ্বিতীয়বার ঘটনাটি বললে রসুলুল্লাহ (দ:) এমনভাবে ব্যথাতুর হলেন যে, তার চোখের পানিতে দাড়ি পর্যন্ত ভিজে গেল। এক পর্যায়ে লোকটিকে রসুল্লাহ (দ:) বললেন যে, ইসলাম গ্রহণ একজন মানুষের অতীতের সমস্ত অপরাধ  এর ক্ষমার  কারণ হয়। এই ঘটনাটি আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময়কালে কন্যা শিশু হত্যার অনেক ঘটনার মধ্যে একটি উদাহরণ মাত্র। জাহেলিয়াত এর যুগের সম্ভ্রান্ত আরব সমাজের একটি প্রচলিত নিয়ম ছিল জন্মের সাথে সাথে ছেলে শিশুদের মাতৃকোলে পালিত হতে না দিয়ে কোন ধাত্রী মাতার দুধ খাইয়ে তাকে পালন করা। নবী মুহাম্মদ (দ:) এর জন্মের ৫/৬ দিনের মাথায় তাকে মক্কা থেকে ১৫০ মাইল দুরত্বের তায়েফ এলাকার বনুসাদ গোত্র থেকে আগত ধাত্রি মাতা হালিমা সাদিয়া (রা:) র কাছে তার দুধ খাওয়ায়ে পালিত হবার জন্য অর্পণ করা হয়েছিল।
ইতিহাস থেকে জানা যায় হযরত হামযা (রা:), হযরত আব্বাস (রা:) ধাত্রী দুধ খেয়ে বড় হয়েছেন। আরব জাহানে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (দ:) সর্বশেষ প্রেরিত নবী ও রাসুল হিসাবে আল্লাহর নিকট থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। আর আল্লাহ পবিত্র কালাম পাকে শিশুদের মাতৃদুগ্ধে পালিত হবার বিধান নাযিল করেন। আল্লাহ সুরা আহকাফ এর ৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন “একজন মা গর্ভধারন ও দুগ্ধ পান করানোর দায়িত্ব ত্রিশ মাস ব্যাপি পালন করবে”। মা এই দায়িত্ব দুই বৎসর পর্যন্ত তার বুকে দুধ থাকা অবধি পালন করতে বাধ্য। সন্তান গর্ভধারন বা দুধপান করানো অবস্থায় কোন মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদ হলে বা বিবাহ অটুট থাকাবস্থায় মা  একজন সন্তানের পিতার নিকট দুধ খাওয়ানোর বাবদে খরচ পাওয়ার অধিকারী। একমাত্র মায়ের বুকে দুধ না থাকলে ধাত্রী মাতা নিয়োগ করা যায়। সন্তান কন্যা হোক বা পুত্র হোক স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহনের অভ্যাস না হওয়া পর্যন্ত মা এই দায়িত্ব পালন করবে। এটাই আল্লাহর বিধান। প্রাচীনকালে উত্তর ইরাকের উর নগরীতে হযরত ইব্রাহিম (আ:) জন্ম গ্রহন করেন। সে সময়ের জোতিষীরা ভবিষ্যত বাণী করেছিল যে, ঐ সময় নমরুদের দেশে এমন একটি ছেলে শিশুর জন্ম হতে যাচ্ছে যার হাতে শাসক নমরুদের পতন হবে। ঐ সময় নমরুদের রাষ্ট্র শক্তির পক্ষ থেকে নবজাতক পুত্র সন্তান হত্যার মহা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য হযরত ইব্রাহিম (আ:) অলৌকিকভাবে রক্ষা পান এবং নমরুদের শাসন, জুলুম অবসানের কারণ হয়ে যান। একই ভাবে মিশরে মুসা (আ:) জন্মকালে জ্যোতিষীরা ফেরাউন কে বনি ইসরাইলের জন্ম গ্রহন করবে এমন একটি শিশুর ভবিষ্যত বাণী করে, যার মাধ্যমে ফেরআউনের  শাসন ব্যবস্থার পতন হবে। ঐ ভবিষ্যত বাণীর কারণে ফেরআউন বনি ইসরাইল বংশে জন্ম নেয়া সকল পুত্র সন্তানকে হত্যার হুকুম দেয়। মুসা (আ:) জন্ম হলে তার মা আল্লাহর হুকুমে মুসা (আ:) কে একটি পাত্রে রেখে নীল নদে ভাসায়ে দেন। মুসা (আ:) আল্লাহর ইচ্ছায় ফিরাউন কর্তৃক পালিত পুত্রের মর্যাদা পান এবং ফিরআউনের স্ত্রী তাকে লালন পালন করেন। মুসা (আ:) এর মা অলৌকিক ভাবে তার ধাত্রী মাতা নিযুক্ত হন। এভাবে মুসা (আ:) বড় হন। মুসা (আ:) ফেরআউন ও তার সেনাবাহিনী এবং রাজত্বের পতনের কারন হন। প্রাচীন ভারতে নানা অজুহাতে নিষ্ঠুরভাবে শিশু হত্যার প্রচলন ছিল। অনেক পিতা মাতা তাদের মনষ্কামনা পূরনের জন্য তাদের আগত কন্যা সন্তানকে দেবতাদের জন্য মানত বা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিত। এসব কন্যা শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করার পর সামান্য বেড়ে উঠা মাত্র দেবতার মন্দিরের পুজারী বা পুরোহিতদের হাতে সমর্পণ করা হতো। এ সমস্ত কন্যা শিশুরা ভক্তদের দেবতার উদ্দেশ্যে দেয়া ভোগ ভাগার ও দেবতাদের নামে ভক্তদের প্রদত্ত সম্পত্তির আয় থেকে প্রতিপালিত হত। এসব কন্যা সন্তান যৌবন প্র্প্তা হয়ে দেবদাসী নামে পরিচিত হত। মন্দিরের পুজারী পুরোহিতরা এদের জৈবিক চাহিদা পূরণ করতো। নতুবা সমস্ত যৌবনকালে এদের ভাগ্যে স্বাভাবিক যৌন চাহিদা মেটানোর সুযোগ থেকে  বঞ্চিত করা হতো। এছাড়াও প্রাচীন যুগে মা গংগা দেবীর অর্থাৎ গঙ্গা নদীর কাছে বিভিন্ন ধরনের মনষ্কামনা পূরণের জন্য মানুষ গংগা নদীতে সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তান নিক্ষেপ বা বিসর্জন দেয়ার  মানত করতো। মানতকৃত সন্তানটি ভুমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে  গংগা পাড়ে সন্তানটিকে নিয়ে গিয়ে জীবন্ত অবস্থায় সন্তানের মা বাবা গংগা জলে ছুঁড়ে দিয়ে মা গংগাকে প্রণাম জানিয়ে বাড়ী ফিরতো। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রকৃতি পুজারীদের মধ্যে এ ধরনের সন্তান হত্যার প্রচলন ছিল।
আধুনিককালে শিশু নির্যাতন ও হত্যা : আধুনিক সভ্যতার এই ভড়া যৌবনকালে বিশ্বজুড়ে নারী পুরুষের অবাধ মেলা মেশার একটি ছয়লাব বয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বের নারীরা সন্তান জন্মদানের দায় দায়িত্ব থেকে অনেকেই অবসর গ্রহন করেছে। বর্তমান সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় বিরাট সংখ্যক যুবক যুবতীর বিবাহ ছাড়াই এক সঙ্গে বসবাসের ধুম পড়ে গেছে। এধরনের যৌনাচারের নাম দেয়া হয়েছে লিভ টুগেদার। এ ধরনের মেলামেশায় খুব কম শিশুই পৃথিবীর আলো দেখতে পায়। কোন ক্রমে কোন শিশু এ ধরনের মেলা মেশায় মাতৃগর্ভে ঠাই নিতে পারলেও তাদের পৃথিবীতে আগমনের বিষয়টি অবাধ যৌনাচারী মা বাবার ইচ্ছার কাছে জিম্মি। বর্তমান সময়কালে এই আধুনিকতার স্রোতে সাতার কাটতে থাকা মাতা পিতারা তাদের অবৈধ সন্তানের ভ্রুন হত্যা করে চলেছেন। বাংলাদেশসহ আধুনিক বিশ্বে সকল সরকারী বেসরকারী হাসপাতালে সন্তানের ভ্রুন হত্যার জন্য একটি বিশেষ বিভাগ খোলা হয়েছে। অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানী মাতৃগর্ভে বেড়ে উঠা শিশুকে হত্যা করার জন্য উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বা কার্য্যকর ওষুধ আবিষ্কারের পর শিশু হত্যাকারী ডাক্তারদের হাতে তুলে দিয়ে ধন্য হয়েছেন। আধুনিককালে মাতৃগর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার প্রযুক্তি প্রসারের ফলে আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময় কালের মত শিশুকে একটি মাতৃগর্ভেই হত্যার মহা উৎসব পালিত হচ্ছে। পার্শবর্তী দেশ ভারতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মাতৃগর্ভের সন্তানকে হত্যা করা হয় বলে একটি আন্তর্জাতিক জরিপ রিপোর্ট থেকে জানা গেছে। ফ্রিমিক্সিং বা আধুনিক যুবক যুবতিদের মধ্যে অবাধ মেলামেশার যে আধুনিক অপসংস্কৃতি এক সময়ে যা পাশ্চাত্যে ছিল তার জোয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান অঞ্চলে আছড়ে পড়েছে। এসব দেশেও অনেক যুবক যুবতী বিবাহ ছাড়াই লিভ টুগেদার করেন। তারা শিক্ষাঙ্গন, কর্মস্থলে অবাধে মেলা মেশা করেন। জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সহজ লভ্যতার কারণে হয়ত এসব মেয়েদের গর্ভে সন্তান জন্ম  নেয়ার সুযোগ থাকে না। কিন্তু অনেক সময় অসাবধানতা বশতঃ অনেক মেয়ের গর্ভে বিবাহ বহির্ভুত দৈহিক  সম্পর্কের কারণে অনেক মেয়ে গর্ভবতী হয়। এ ধরনের মেলামেশায় গর্ভে আসা সন্তানদের ভাগ্য হলো আধুনিক হাসপাতালে গিয়ে গর্ভপাত করে সন্তানটিকে মেরে ফেলা হয় বা সন্তানটি জন্ম হওয়া মাত্র ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয় বা গোপনে জীবন্ত  কবর দেওয়া হয়। এই তো কিছু দিন পূর্বে ঢাকা হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে এক চরিত্রহীনা নিষ্ঠুর মা তার সদ্য ভূমিষ্ঠ একটি কন্যা সন্তানকে বাথরুমে জন্ম দিয়ে ফেলে রেখে যায়। বিমান বন্দরের কর্মীরা বাচ্চাটির কান্না শুনে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলে। পরে এক নিঃসন্তান দম্পতি বাচ্চাটিকে দত্তক হিসাবে নেয়। একটি নিষ্পাপ মানব সন্তানের প্রতি যাদের এত মমতা বোধ আছে তাদেরকে আল্লাহ উত্তম বিনিময় দান করুন। আমার কাছে তথ্য আছে যে, বাংলাদেশের একজন  স্বনামধন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এধরনের একটি শিশুকে পিতৃ স্নেহে লালন পালন করেছেন। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থায়  ১৯৮৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে মারাত্মক ছাত্র সংঘর্ষ হয়। ঐ সময় আমার আবাসিক হল সুর্যসেন হল ছেড়ে কয়েকদিন বাইরে থাকতে হয়েছিল।
আমি যে এলাকায় ছিলাম সেটা হাতিরপুল ভুতের গলি এলাকা। ঐ এলাকার একটি গলিতে ডাস্টবিনে একটি সদ্য ভূমিষ্ঠ জীবন্ত বাচ্চাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভোর বেলা মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরতে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পায়। বাচ্চাটিকে কয়েকটি কুকুর ঘেউ ঘেউ শব্দ করে পাহারা দিয়ে যাচ্ছিল। কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনে মসজিদ ফেরত লোকজন বাচ্চাটিকে দেখতে পায়। তারা  বাচ্চাটির বিষয়ে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে বাচ্চাটিকে নিয়ে যায়। পরের খবর জানি না। ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় থাকাবস্থায় এ ধরনের অনেক সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের ডাস্টবিনে ফেলে যাওয়ার অসংখ্য ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি। বর্তমানে এধরনের শিশু হত্যার ঘটনা অনেক বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।
আপন মা-বাবা কর্তৃক অমানুষিকভাবে শিশু নির্যাতন মুহাম্মদ (দ:) বলে গেছেন “যারা বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করে না আর ছোটদের অর্থাৎ শিশুদেরকে স্নেহ করে না সে আমাদের কেউ না।”  উদ্ধৃত হাদিসটি ব্যাখ্যা করলে শিশুদের বেলায় যা বুঝা যায়, তাহল শিশুদের প্রতি দয়ার্দ বা স্নেহশীল নন, এমন মানুষরা মুহাম্মদ (দ:) এর উম্মত হবার যোগ্য নন। বর্তমান বিশ্বে বা বাংলাদেশে নিজের বাবা মায়ের দ্বারা অনেক শিশু অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বা এখনো হচ্ছে। বাবা মায়েদের নির্যাতনের ধরন বিচিত্র রকমের। আমি এ বিষয়ে একটি অনুসন্ধান চালিয়েছি। তাদেরকে আমি দেখতে পেয়েছি যে, এদেশের বিরাট সংখ্যক বাবা মা এ ধারনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী যে, তারা তাদের ছেলেমেয়েদের যেভাবে ইচ্ছা শাসন করবেন। অনেক সময় এসব শাসনের মাত্রা নিষ্ঠুর খুনিদেরও হার মানায়। সামান্য ছোটখাটো দুষ্টুমির জন্য, পড়া শুনায় অমনযোগী হওয়ার জন্য শিশুদেরকে আদর সোহাগ দিয়ে তাদেরকে সংশোধনের পথ ছেড়ে অনেক পিতা মাতা নেশাগ্রস্ত মানুষের মতো শিশু সন্তানদের মারপিট করে থাকেন। এ দৃশ্য গ্রামগঞ্জে অহরহ দেখা যায়। এমনভাবে নির্যাতিত হওয়া শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে। আমার জানা মতে এধরনের শাসন করতে গিয়ে বাংলাদেশে অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এমন অনেক নিহত বা নির্যাতিত শিশুর মা বাবা হাজতের ঘানি টানছেন। অনেক সময় অনেক দুশ্চরিত্রা মা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরকীয়া মিলনের সময় কোন কোন শিশু ঘটনা দেখে ফেললে অনেক সময়ই আপন মা প্রেমিকের সঙ্গে মিলে বাচ্চাটিকে মেরে ফেলে। এধরনের ঘটনা বাংলাদেশের পত্র পত্রিকায় একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।
আবার কিছু কিছু মা-বাবা হঠাৎ করেই ধার্মিক হয়ে উঠেন। তারা তাদের ৬/৭ বৎসরের ছেলে ও মেয়ে সন্তানকে তাদের স্নেহ বঞ্চিত করে হাফেজিয়া মাদ্রাসা বা কোন কওমী মাদ্রাসা বা কোন আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করায়ে দেন। ছোট বাচ্চাটির যখন খেলার বয়স, সেই বয়সের ইতি ঘটায়ে বাচ্চাটি মা বাবা ভাই  এর সাহচর্য্য থেকে বঞ্চিত হয়ে মনমরা অবস্থায়  ঐ ধরনের  মাদ্রাসায় পড়া শুরু করে। আপন মা বাবার পক্ষ থেকে এটি একটি মারাত্মক মানসিক নির্যাতন। ঐ ধরনের  মাদ্রাসার ছাত্রাবাস বা এতিমখানার ছাত্রাবাসে কিছু শিক্ষক সারা বছরই অবস্থান করেন। এ সময় শিক্ষকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছোট ছোট বাচ্চাদের কাছে গা টিপে নেন। কাপড় ধুয়ে নেন। বিভিন্ন হাটে বাজারে সাথে নিয়ে যান। ছাত্রাবাসের চাল, ডাল কেনার জন্য অনেক সময় এই সমস্ত শিশু বাচ্চাদের পাড়ায় পাড়ায় বা মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে দান গ্রহণের কাজে লাগানো হয়। মনের একান্ত অনিচ্ছা স্বত্বেও  পিতা মাতা তথা শিক্ষকদের মারাত্মক ধরনের শাসনের ভয়ে এধরনের কাজের হুকুম শিশুরা মানতে বাধ্য হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআন শরীফের সুরা বনি ইসরাইলের একটি আয়াতে এই দুআটি শিক্ষা দিয়েছেন। (“তোমরা এভাবে দোয়া কর যে) “হে আমার রব (পালনকর্তা) তুমি আমার মা বাবাকে দয়া কর আমার মা বাবা আমার শিশুকালে যে ধরনের দরদি হয়ে  আমাকে লালন পালন করেছেন সেভাবে”)।  উল্লেখিত আয়াতে আমরা দেখতে পাই একজন শিশুকে তার পিতা মাতা পরম স্নেহ দয়া ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে লালন পালন করবে। সেক্ষেত্রে বাবা মা দায়িত্ব জ্ঞানহীন হলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট তাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে উল্লেখিতরূপ দোয়া পাওয়ার আকাংখা কিভাবে করতে পারে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ