ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 December 2017, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আত্রাইয়ে পাখির হাত থেকে ফসল বাঁচাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নওগাঁর আত্রাইয়ে পাখির হাত থেকে সবজি ক্ষেত রক্ষায় এভাবেই ক্ষেতের ওপরে জালের আবরণ দিয়ে বেগুন চাষ করছে চাষিরা। ছবিটি উপজেলার মাগুড়াপাড়া ব্লক থেকে তোলা -ছবি : নাজমুল হক নাহিদ

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই, (নওগাঁ) থেকে : সবজি ক্ষেত রক্ষায় চারপাশে ঘিরে দেয়া হয়। নানাবিধ রোগ বালাই এবং কীটপতঙ্গ নিধনের জন্য বালাই নাশক ক্ষেতে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু পাখির হাত থেকে সবজি ক্ষেত রক্ষায় ক্ষেতের উপড়ে জালের আবরণ দেয়া হয় এটি একটি নিত্য নতুন। অনেকেই আবার মনে করছেন এটি আধুনিক প্রযুক্তির একটি মাইলফলক।
কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তায় বিষমুক্ত বেগুন চাষের জন্য নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কৃষকেরা ক্ষেতের উপরে জালের আবরণ দিয়ে আবাদ করছে এবং কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার, উপকারী পোকা-মাকড় সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ পদ্ধতিতে আবাদ করছেন তারা।
এদিকে বেগুনসহ বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে মাঠ দিবস ও বিভিন্ন প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি বিভাগ।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১নং শাহাগোলা ইউনিয়নের মাগুড়াপাড়া গ্রামের মো: জালাল উদ্দিনের বেগুন ক্ষেতের দৃশ্য তাক লাগিয়ে দিয়েছে সকলকে। হাতিয়াপাড়া উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উত্তর পার্শ্বে মাগুড়াপাড়া রাস্তা সংলগ্ন বেগুন ক্ষেত। সম্পর্ণ বেগুন ক্ষেতের উপরেই আবরণ দেয়া হয়েছে জাল দিয়ে।
বুলবুলি পাখি খেয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের বেগুন আর তাই বুলবুলি পাখির হাত থেকে বেগুনের ক্ষেত বাঁচাতে মশারির মতো করে ক্ষেতের উপরে ও চারপাশে টানানো হয়েছে জাল। ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো জমির ফসল।
এ ব্যাপারে ব্যতিক্রম উদ্যোক্তা মো: জালাল উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার বেগুন ক্ষেতের বেগুন গাছে ফল আসার সাথে সাথে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-ছোট পাখি ও কাঁঠ বিড়ালি দিন রাত বেগুন ক্ষেতে গিয়ে বেগুন নষ্ট করে। পাশাপাশি বেগুনের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। বালাই নাশক প্রয়োগ করে ওই সব পাখি নিধন করা যায় না। যার কারণে অনেক টাকা ব্যয় করে পাখির হাত থেকে বেগুনের ক্ষেত রক্ষার জন্য পাঁচ কাঠা মাটির বেগুন ক্ষেতর উপরে জালের আবরণ দেয়া হয়েছে। বুলবুলি পাখি ও কাঠবিড়ালের হাত থেকে ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে পর্যায়ক্রমে বাঁকি জমি গুলোতেও জালের আবরণ দিবো বলে ভাবছি এমনটি জানান তিনি।
নতুন এই উদ্যোগ সম্পর্কে মাগুড়াপাড়া গ্রামের কৃষক মো: নবাব আলী ও মো: মিঠুর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আজ থেকে ২০-৩০ বছর আগে আমরা যখন বিভিন্ন তরি-তরকারি ও বিভিন্ন শাক-সবজির আবাদ করতাম তখন বালাই নাশকের কোন ব্যবহার ছিলোনা।
কিন্তু এখন ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে বালাই নাশকের পাশাপাশি ক্ষেতে জালের আবরণসহ বিভিন্ন প্রকার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কে এম কাউছার হোসেন জানান, বালাই নাশক প্রয়োগ করে পাখি নিধন করা যায় না। বেগুন ক্ষেতে পোকামাকড়ের পাশাপাশি পাখিও বেশি ক্ষতি সাধন করে। এ কারণে কৃষকরা অনেক সময় সবজি জমিতে জালের আবরণ ব্যবহার করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ