ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 December 2017, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারের চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই নিত্য পণ্যের দাম বেড়েছে -আমীর খসরু

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ‘বিজয়ের ৪৬ বছর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের চরম সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শুধু গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে নয়, আজকে অর্থনৈতিকভাবেও বঞ্চিত হচ্ছে। মানুষ তাদের ক্রয় ক্ষমতা হারাচ্ছে পাশাপাশি বড় ঋণের বোঝা নিয়ে তাদের ছেলে মেয়েদের বাঁচতে হবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট বাংলাদেশের ৪৬ বছরের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক আলোচনার সভার আয়োজন করে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে বিদ্যুতের যে দাম ছিলো তা বর্তমানে ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ। আওয়ামী লীগের সমর্থিতদের রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল ব্যবসায়ীদের মুনাফা দিতেই বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে।
এই যে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে দুর্নীতি- এজন্য জনগণ উচ্চ মূল্য দিচ্ছে তাই শুধু নয়। বাংলাদেশে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ ক্রয়ে যে দুর্নীতি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে ৫ হাজার ৮৪১টি অডিট আপত্তি আছে এবং এই অডিট আপত্তি অর্থের হিসাবে হচ্ছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এ থেকে বুঝা যায় কীভাবে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি হচ্ছে। এসব দুর্নীতি অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব লুটপাটের টাকা চলে যাচ্ছে বিদেশে। এগুলো যাচ্ছে সুইস ব্যাংকে, পানামা পেপারর্সে নাম আসছে এদের। এগুলো চলে যাচ্ছে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায়, সেখানে উচ্চ মূল্যে তারা বাড়ি-ঘর কিনছে। এসব তথ্য জনসমক্ষে আছে। এসব তথ্য ঢাকা দিতে আড়াল করতে ক্ষমতাসীনরা এখন মিথ্যাচার করছে। আওয়ামী মিথ্যাচারের কারখানা করে তারা বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব কারখানা করেছে তাদের লুটপাট-দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্যে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেয়া বক্তব্যের জবাবে আমীর খসরু বলেন, বাকশালের মাধ্যমে উনারা (আওয়ামী লীগ) নিজেদের অস্তিত্বটাই নিজেরা বিলিন করে দিয়েছিলেন এবং সেই অস্তিত্ব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেব বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আর এখন উনারা যেই পথে চলছেন, আবারো কিন্তু আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। আমি অনুরোধ করব, নিজেদের কথা চিন্তা করুন।
প্রসঙ্গত, ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আগামী নির্বাচনে না আসলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ে আলোচনার দরকার আছে। দ্রব্যমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন যে পর্যায়ে চলে এসেছে সেটি অনেক বড় রাজনৈতিক বিষয়। তিনি বলেন, আজকে চালের দাম পেঁয়াজের দামসহ সবজি গোশতের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম মানুষের নাগালের বাহিরে চলে গেছে। এর প্রতিবাদ করার লোক নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা ও মিথ্যাচারের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আজ নাজুক। সকল কলকারখানা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সে সঙ্গে দেশের মানুষ বাক স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও গণতন্ত্রিক অধিকার ও সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হারিয়েছে।
আয়োজক সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী ও প্রধান সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা ও নির্বাহী কমিটির সদস্য বাবুল আহমেদ প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ