ঢাকা, বৃহস্পতিবার 14 December 2017, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোলাহাটে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করে হাজার হাজার পোস্টারিং

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আ’লীগ থেকে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করে হাজার হাজার পোস্টারিং করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভোলাহাটের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ। সম্প্রতি ভোলাহাটের প্রত্যন্ত এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর মহন্ত এস্টেট এর মহন্ত মহারাজ ক্ষিতিশ চন্দ্র আচারী মহান বিজয় দিবসকে বিকৃতি করে “১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা দিবস” ‘মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী’ লিখে হাজার হাজার রঙ্গিন পোস্টার দেয়ালে দেয়ালে টাঙ্গিয়েছেন। তার এ সব পোস্টার দেখে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ক্ষোভ করে বলেন, ক্ষীতিশ চন্দ্র আচারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে পোস্টার তৈরির পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগের ব্যানারে তার মনোনয়ন আশা করা তো দূরের কথা এ অন্যায়ের জন্য তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের সদস্যগণ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির তীব্র সমালোচনা করে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান ও রাজাকার আলবদর বাহিনীর সাথে তার কোন যোগসূত্র আছে কিনা সরকারের কাছে ক্ষতিয়ে দেখার দাবি করেন। এদিকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভোলাহাট উপজেলার সভাপতি আলহাজ্ব প্রকৌশলী আমিনুল হক, বলেন, ক্ষীতিশ যে পোস্টার টাঙ্গিয়েছেন তা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। সিনিয়ার সহসভাপতি ইয়াশিন আলী শাহ ও একই কথা বলেন। সাধারণ সম্পাদক  বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আশরাফুল হক বলেন,  যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও মূল্যবোধ যারা হৃদয়ে ধারণ করে না তাদের দ্বারা এমন অসঙ্গতিপূর্ণ কর্মকান্ড করা স্বাভাবিক। অপরদিকে একই বিষয়ে ভোলাহাট মোহবুল্লাহ মহাবিদ্যালয়ের ভাইসপ্রিন্সিপাল ও ইতিহাসবিদ শফিকুল ইসলাম জানান, যে কোন ইতিহাস বিকৃতিই অপরাধ। তবে দেশের মাটিতে বাস করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি মেনে নেয়ায় যায় না। অক্ষর জ্ঞানহীন ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই যদি না জানে তবে তার আ’লীগ থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার কোন যোগ্যতাই নাই। তার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ফুঁশে উঠেছে ভোলাহাটের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের ব্যক্তিরা।  এ ব্যাপারে ক্ষীতিশ চন্ত্র আচারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আবারও ১৬ ডিসেম্বরকে স্বাধীনতা দিবস বলে ছাপাখানার উপর দোষ চাপিয়ে আসল ঘটনাটি এড়িয়ে যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ