ঢাকা, শুক্রবার 15 December 2017, ১ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ফুলেল ভালোবাসায়

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল বৃহস্পতিবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন -পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : বিনম্র শ্রদ্ধা আর ফুলেল ভালোবাসায় একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করেছে জাতি। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমি এলাকায় জনতার ঢল নামে। অসময়ে প্রাণ হারানো জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করতে আসা সর্বস্তরের মানুষ একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ফুল দিতে আসা অনেকে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। চলমান রাজনৈতিক সংকট দূর হওয়ার একমাত্র সমাধান সংলাপের মাধ্যমে জনআকাক্সক্ষা পূরণের জন্য সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের আয়োজন করা। কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বৈরাচারী মনোভাব দেশকে বিপন্ন করে তুলে।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে কালো পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করণ, শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন, শোক র‌্যালি, শ্রদ্ধা নিবেদন, চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রায়ের বাজারের বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধেও সকালে মানুষের ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনতার স্রোত। সব স্রোত যেন এক মোহনায় মিশে একাকার হয়ে যায়।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দু’দিন আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবে দেশের কৃতী সন্তানদের হত্যা করে। তারপর থেকে দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে কুয়াশাপচ্ছন্ন সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছিল। ভোরের সূর্য ওঠার আগেই হাজারো মানুষ ভিড় করেন মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের সামনে। সবার হাতে ছিল ফুলের তোড়া ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে লেখা কালো ব্যানার। রায়ের বাজারের বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধেও সকালে মানুষের ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনতার স্রোত। সব স্রোত যেন এক মোহনায় মিশে একাকার হয়ে যায়।
সকাল ৭ টা ৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। শহীদদের সম্মানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রেসিডেন্ট যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপুমণি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও একেএম এনামুল হক শামীম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আসীম কুমার উকিল, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই গণতন্ত্র আজ হারিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে বিএনপি লড়াই করে যাচ্ছে, এ লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই ইনশাল্লাহ।
এ সময় বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ডা. সিরাজুল ইসলাম, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সরাফত আলী সফু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়াল, সালাউদ্দিন ভুইয়া শিশির, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।
এছাড়াও একে একে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানায় কেন্দ্রীয় ১৪ দল, শহীদ পরিবারের সন্তান ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা, জাতীয় পার্টি, দলের সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, দলের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গণফোরামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতীলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে সকাল ৮ টা ৫০ মিনিটে ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বর ভবনের সামনে রক্ষিত স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ্য থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০ টায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ সাহানে কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ সময়ে মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদদের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ