ঢাকা, শুক্রবার 15 December 2017, ১ পৌষ ১৪২৪, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিদ্যুতের রেট পরিবর্তনে নয়া ভোগান্তিতে  খুলনার প্রি-পেইড মিটারের গস্খাহকরা

 

খুলনা অফিস : বিদ্যুতের রেট পরিবর্তনের সাথে প্রি-পেইড মিটারের গ্রাহকরা নয়া ভোগান্তিতে পড়েছে। একে গ্রাহকদের ফ্রি-তে মিটার দেয়ার কথা বলে ভাড়া আদায় এবং সেই সাথে ভেন্ডিং স্টেশন স্বল্পতা। এখন আবার নতুন করে ২২০ ডিজিটের স্ক্যাচ কার্ড নিয়ে বিপাকে পড়েছে গ্রাহকরা। এ ডিজিটগুলো প্রেস করতে গিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা বলছে, রেট পরিবর্তনের কারণে মিটারগুলোতে নতুন করে ১০ থেকে ১১ লাইনে আবাসিক গ্রাহকদের এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৪ থেকে ৫ লাইনের রিচার্জ টোকেন দেয়া হচ্ছে, যার প্রতিটি লাইনে ২০টি করে ডিজিট রয়েছে। এ ডিজিটগুলো একবারই প্রবেশ করাতে হবে। পরবর্তী রিচার্জ টোকেনে পূর্বের ন্যায় ২০ ডিজিট দেয়া হবে। এতে গ্রাহকদের সাময়িকভাবে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও তারা জানিয়েছেন।  ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সূত্র জানায়, খুলনার প্রায় দেড় লাখ বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকদের প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। প্রথম ধাপে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৫ হাজার গ্রাহককে এ মিটার দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে ৩১ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার জন্য ফেজ (১) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর তৃতীয়ধাপে ৩২ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার জন্য ফেজ (২) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তিন ধাপে সর্বমোট ৬৮ হাজার প্রিপেইড মিটার বসানো হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। এখন চতুর্থ ধাপে খুলনাসহ ২১ জেলার ৫ লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিদ্যুৎ গ্রাহক সমিতির নেতা শাহ জিয়াউর রহমান স্বাধীন বলেন, প্রথম থেকেই গ্রাহক সমিতির ব্যানারে প্রি-পেইড মিটার নিয়ে আন্দোলন চলছে। মিটার স্থাপনের নামে এরা শুভঙ্করের ফাঁকি দেয়া শুরু করেছে। এখন নতুন করে ২২০ ডিজিটের স্ক্যাচ কার্ড দিচ্ছে। যা অনেকেই বুঝছে না। কোন প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই তারা এমনটা করছে। অনেকেই না বুঝে বিপাকে পড়েছে। আর অনেকেই অফিসে গিয়ে হৈ চৈ করছে। এমন অবস্থায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নগরীর খালিশপুর হাউজিং বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. নুরুল আমীন বলেন, গত ২৬ নবেম্বর ১ হাজার টাকার স্ক্যাচ কার্ড কিনে ২২০ ডিজিট মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। ১১ লাইনের এই নম্বারগুলোর তিনটি লাইনে সমস্যা দেয়। মিটারে আর টাকা প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি। ওই দিন বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসে জানাতে ২৬ নবেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে জানানো হলে তারা বাসায় গিয়ে ৩/৪ দিন আগে মিটারটি পরিবর্তন করে দেয়। এমন বিড়ম্বনায় আগে কখনও পড়তে হয়নি।

অপরএক গ্রাহক লাবনী ইসলাম বলেন, প্রি-পেইড মিটার নিয়ে এক যন্ত্রণায় রয়েছি। ফ্রি মিটারের কথা বলে ভাড়া কেটে নিচ্ছে। এক হাজার টাকা দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে ৮৩২ টাকার মতো। বাকী টাকা কেটে নিচ্ছে নানা অজুহাতে। তারপরে দীর্ঘ লাইন দিয়ে স্ট্যাচ কার্ড কিনতে হয়। এখন আবার বিদ্যুতের মূল্য বেড়েছে। তিনি বলেন, এ মাসে মিটারের স্ক্যাচ কার্ডে ১২০ ডিজিট দিয়েছে। যা প্রবেশ করাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয়েছে।

বঙ্গবাসী স্কুল এলাকার বাসিন্দা নূর হাসান জনি বলেন, এখান থেকে দৌলতপুর যেয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে হয়েছে। আর এবারতো ২২০ ডিজিট সম্বলিত একটি স্ক্যাচ কার্ড দিয়েছে। যারা বোঝে তারা এটি প্রবেশ করাতে পারছে।  প্রি-পেইড মিটারিং প্রজেক্ট ফর খুলনা সিটি ফেজ-(১) প্রকল্পের পরিচালক মো. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, নগরীর ১৫টি ফিডারে ৬৭ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। এখনও এক হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। যা চলমান রয়েছে। গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুতের রেট পরিবর্তন হওয়ার কারণে প্রি-পেইড মিটারের রিচার্জ টোকেনের ২০ ডিজিটের পরিবর্তে প্রথমবার ২শ’ ডিজিট দেয়া হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা কিছুটা ভোগান্তিতে পড়ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, রেট পরিবর্তনজনিত কারণে টেশনিক্যাল এ সমস্যা হচ্ছে। তবে ২২০ ডিজিট একবারই প্রবেশ করাতে হবে মিটারে। পরবর্তীতে পূর্বের ন্যায় ২০ ডিজিট দেয়া হবে। এ বিষয়ে জানাতে গ্রাহকদের মাঝে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি আকারে লিফলেট দেয়া হয়েছে। ডিজিটগুলো প্রবেশ করানোর বিস্তারিত নিয়মাবলী লেখা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ